Dhaka 10:18 pm, Monday, 20 April 2026

দলের দুঃসময়ের ত্যাগী যোদ্ধা ডা.লুসি খান,সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ-বাবলু বড়ুয়া:-চট্টগ্রাম:দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম,ত্যাগ ও নেতৃত্বের ধারাবাহিকতায় এবার জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-সম্পাদক ডা. লুসি খান। দলীয় দুর্দিনে রাজপথে সক্রিয় থাকা এই নেত্রীর মনোনয়ন প্রত্যাশা ঘিরে স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে ডা. লুসি খান নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন একজন আপোষহীন ও লড়াকু সংগঠক হিসেবে। দলীয় সূত্রে জানা যায়, স্বৈরশাসনামলে তিনি একাধিকবার হামলা ও মামলার শিকার হন। ঝুঁকি উপেক্ষা করে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং নেতৃত্ব প্রদান করেন তিনি।

শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচিই নয়,মানবিক উদ্যোগেও ছিল তার দৃশ্যমান উপস্থিতি। বিভিন্ন সময়ে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিয়েছেন তিনি। এসব কার্যক্রম বিএনপির জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তৎকালীন সময়ে তার বাসভবনে একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান পরিচালনার ঘটনাও স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচিত। দলীয় পরিচয়ের কারণে তাকে নানা চাপের মুখে পড়তে হলেও তিনি সংগঠন ছেড়ে যাননি—এমন দাবি তৃণমূল নেতাকর্মীদের।

মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের খবর চট্টগ্রামজুড়ে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মাঝে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী শিক্ষিকা বলেন,“যোগ্যতা, শিক্ষাগত পটভূমি এবং মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় ডা. লুসি খান একজন শক্তিশালী প্রার্থী হতে পারেন। সংসদে শিক্ষিত ও দক্ষ নারীর অংশগ্রহণ দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে।”

প্রবীণ সাংবাদিকদের ভাষ্যেও উঠে এসেছে তার সংগ্রামী ভূমিকা। তারা জানান, রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া এবং মাঠে সক্রিয় থাকা তাকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।

ডা. লুসি খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, দল তাকে মনোনয়ন দিলে নারী শিক্ষা বিস্তার, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, সামাজিক উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করতে চান। পাশাপাশি তিনি একটি মানবিক, শিক্ষিত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন প্রশ্ন—দলের কঠিন সময়ে যারা সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাদের মূল্যায়নে কতটা গুরুত্ব দেবে দল? সেই উত্তরই এখন অপেক্ষার বিষয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

দুর্গাপুরে অবৈধ পেট্রোল মজুদে মোবাইল কোর্টের অভিযান, ৪০০ লিটার জব্দ ও ১ লক্ষ টাকা জরিমানা

দলের দুঃসময়ের ত্যাগী যোদ্ধা ডা.লুসি খান,সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ

Update Time : 10:42:47 am, Saturday, 11 April 2026

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ-বাবলু বড়ুয়া:-চট্টগ্রাম:দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম,ত্যাগ ও নেতৃত্বের ধারাবাহিকতায় এবার জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-সম্পাদক ডা. লুসি খান। দলীয় দুর্দিনে রাজপথে সক্রিয় থাকা এই নেত্রীর মনোনয়ন প্রত্যাশা ঘিরে স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে ডা. লুসি খান নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন একজন আপোষহীন ও লড়াকু সংগঠক হিসেবে। দলীয় সূত্রে জানা যায়, স্বৈরশাসনামলে তিনি একাধিকবার হামলা ও মামলার শিকার হন। ঝুঁকি উপেক্ষা করে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং নেতৃত্ব প্রদান করেন তিনি।

শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচিই নয়,মানবিক উদ্যোগেও ছিল তার দৃশ্যমান উপস্থিতি। বিভিন্ন সময়ে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিয়েছেন তিনি। এসব কার্যক্রম বিএনপির জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তৎকালীন সময়ে তার বাসভবনে একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান পরিচালনার ঘটনাও স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচিত। দলীয় পরিচয়ের কারণে তাকে নানা চাপের মুখে পড়তে হলেও তিনি সংগঠন ছেড়ে যাননি—এমন দাবি তৃণমূল নেতাকর্মীদের।

মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের খবর চট্টগ্রামজুড়ে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মাঝে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী শিক্ষিকা বলেন,“যোগ্যতা, শিক্ষাগত পটভূমি এবং মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় ডা. লুসি খান একজন শক্তিশালী প্রার্থী হতে পারেন। সংসদে শিক্ষিত ও দক্ষ নারীর অংশগ্রহণ দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে।”

প্রবীণ সাংবাদিকদের ভাষ্যেও উঠে এসেছে তার সংগ্রামী ভূমিকা। তারা জানান, রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া এবং মাঠে সক্রিয় থাকা তাকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।

ডা. লুসি খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, দল তাকে মনোনয়ন দিলে নারী শিক্ষা বিস্তার, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, সামাজিক উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করতে চান। পাশাপাশি তিনি একটি মানবিক, শিক্ষিত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন প্রশ্ন—দলের কঠিন সময়ে যারা সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাদের মূল্যায়নে কতটা গুরুত্ব দেবে দল? সেই উত্তরই এখন অপেক্ষার বিষয়।