Dhaka 7:15 pm, Saturday, 13 June 2026

নওগাঁর নিয়ামতপুরে ক্রয়কৃত সম্পত্তি জবরদখল করে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ

মোঃ সোহেল রানা, রাজশাহী বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান

নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় ক্রয়কৃত জমি জবরদখল করে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের দাবি, আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় তাদের জমি দখল করে সেখানে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছে অভিযুক্ত পক্ষ।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নিয়ামতপুর উপজেলার তরফদার ফিলিং স্টেশনের সামনে অবস্থিত ২৩ শতক জমি ২০২০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ডিমা গ্রামের বাসিন্দা শরিফ ওরফে শিষ মোহাম্মদের কাছ থেকে ক্রয় করেন মোছাঃ সালমা খাতুন (৩২) ও মোছাঃ আফরোজা খাতুন (২৭)। জমি ক্রয়ের পর থেকে তারা দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে ছিলেন বলে দাবি করেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সম্প্রতি একই এলাকার মিজানুর রহমান, পিতা নূর নবী, কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে ওই জমি দখলের চেষ্টা করেন। বিষয়টি জানতে পেরে সালমা ও আফরোজা তাদের জমিতে বাড়ি নির্মাণের উদ্যোগ নেন। তারা জমির চারপাশে তারকাঁটার বেড়া ও সিমেন্টের খুঁটি স্থাপন করে সীমানা নির্ধারণের পর নির্মাণকাজ শুরু করেন।

তাদের দাবি, এ সময় মিজানুর রহমান ও তার সহযোগীরা সেখানে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন এবং জমির দখল নিয়ে নেন। বিষয়টি নিয়ে নিয়ামতপুর থানা ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা একাধিকবার সমঝোতার উদ্যোগ নিলেও তা সফল হয়নি।

পরে সালমা খাতুন ও আফরোজা খাতুন আদালতের শরণাপন্ন হয়ে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে সিভিল মামলা নং-৫৩/২০২৬ দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, আদালত বন্ধ থাকার সুযোগে গত ২৪ মে ২০২৬ তারিখে অভিযুক্তরা তাদের নির্মিত তারকাঁটার বেড়া, সাইনবোর্ড ও নির্মাণসামগ্রী ভাঙচুর ও লুটপাট করে। পরবর্তীতে ৫ জুন ২০২৬ থেকে তারা নিজেদের উদ্যোগে ওই জমিতে বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করে, যা এখনও চলমান রয়েছে।

সালমা খাতুন ও আফরোজা খাতুন অভিযোগ করেন, জমি দখলের পাশাপাশি অভিযুক্তরা তাদের প্রাণনাশের হুমকিও দিচ্ছেন। তাদের ভাষ্য, জমির মালিকানা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলে তাদের ওপর হামলা চালানো হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে।

এ অবস্থায় ভুক্তভোগীরা নিজেদের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাদের ক্রয়কৃত সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান।

তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত মিজানুর রহমানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।

উল্লেখ্য, অভিযোগের বিষয়গুলো ভুক্তভোগীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও বিচার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এখতিয়ারভুক্ত।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

বালিয়াকান্দিতে যুদবল সদস্য সচিবকে জড়িয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

নওগাঁর নিয়ামতপুরে ক্রয়কৃত সম্পত্তি জবরদখল করে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ

Update Time : 10:38:12 pm, Thursday, 11 June 2026

মোঃ সোহেল রানা, রাজশাহী বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান

নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় ক্রয়কৃত জমি জবরদখল করে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের দাবি, আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় তাদের জমি দখল করে সেখানে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছে অভিযুক্ত পক্ষ।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নিয়ামতপুর উপজেলার তরফদার ফিলিং স্টেশনের সামনে অবস্থিত ২৩ শতক জমি ২০২০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ডিমা গ্রামের বাসিন্দা শরিফ ওরফে শিষ মোহাম্মদের কাছ থেকে ক্রয় করেন মোছাঃ সালমা খাতুন (৩২) ও মোছাঃ আফরোজা খাতুন (২৭)। জমি ক্রয়ের পর থেকে তারা দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে ছিলেন বলে দাবি করেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সম্প্রতি একই এলাকার মিজানুর রহমান, পিতা নূর নবী, কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে ওই জমি দখলের চেষ্টা করেন। বিষয়টি জানতে পেরে সালমা ও আফরোজা তাদের জমিতে বাড়ি নির্মাণের উদ্যোগ নেন। তারা জমির চারপাশে তারকাঁটার বেড়া ও সিমেন্টের খুঁটি স্থাপন করে সীমানা নির্ধারণের পর নির্মাণকাজ শুরু করেন।

তাদের দাবি, এ সময় মিজানুর রহমান ও তার সহযোগীরা সেখানে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন এবং জমির দখল নিয়ে নেন। বিষয়টি নিয়ে নিয়ামতপুর থানা ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা একাধিকবার সমঝোতার উদ্যোগ নিলেও তা সফল হয়নি।

পরে সালমা খাতুন ও আফরোজা খাতুন আদালতের শরণাপন্ন হয়ে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে সিভিল মামলা নং-৫৩/২০২৬ দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, আদালত বন্ধ থাকার সুযোগে গত ২৪ মে ২০২৬ তারিখে অভিযুক্তরা তাদের নির্মিত তারকাঁটার বেড়া, সাইনবোর্ড ও নির্মাণসামগ্রী ভাঙচুর ও লুটপাট করে। পরবর্তীতে ৫ জুন ২০২৬ থেকে তারা নিজেদের উদ্যোগে ওই জমিতে বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করে, যা এখনও চলমান রয়েছে।

সালমা খাতুন ও আফরোজা খাতুন অভিযোগ করেন, জমি দখলের পাশাপাশি অভিযুক্তরা তাদের প্রাণনাশের হুমকিও দিচ্ছেন। তাদের ভাষ্য, জমির মালিকানা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলে তাদের ওপর হামলা চালানো হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে।

এ অবস্থায় ভুক্তভোগীরা নিজেদের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাদের ক্রয়কৃত সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান।

তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত মিজানুর রহমানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।

উল্লেখ্য, অভিযোগের বিষয়গুলো ভুক্তভোগীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও বিচার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এখতিয়ারভুক্ত।