Dhaka 3:42 pm, Tuesday, 16 June 2026

নবীগঞ্জে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীকে দপ্তরির নির্মম মারধরের অভিযোগ,সাংবাদিকের সঙ্গেও অসদাচরণ

নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি: মোঃ বুলবুল আহম্মেদ

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার কারখানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি কাম প্রহরী সুয়েব মিয়ার বিরুদ্ধে এক চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীকে নির্মমভাবে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত শিক্ষার্থীর পিতা নূর মিয়া নবীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনাটি এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ জুন বিদ্যালয়ের বারান্দায় এক চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীকে গাছের ডাল দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন দপ্তরি সুয়েব মিয়া। এতে শিশুটির পিঠ, হাত, পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে। আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। বর্তমানে শিশুটি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

ঘটনার পর তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে অভিযুক্ত দপ্তরি সুয়েব মিয়া সাংবাদিকদের সঙ্গেও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক মহলেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ সুয়েব মিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নয়। তিনি প্রায়ই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও শারীরিক শাস্তিমূলক আচরণ করে থাকেন। তাকে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছে, কিন্তু তিনি নির্দেশনা মানছেন না।”

তিনি আরও বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। তথ্য সংগ্রহে আসা সাংবাদিকদের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত ও লজ্জিত।”

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রভাবশালী একটি মহল অভিযুক্ত দপ্তরিকে আড়াল থেকে প্রশ্রয় দিয়ে আসছে। ফলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থীর অভিভাবক জানান, দীর্ঘদিন ধরেই অভিযুক্ত দপ্তরি শিক্ষার্থীদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছেন। সামান্য বিষয়েও শিশুদের মারধর করা তার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। তারা দ্রুত তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

অভিযোগকারী নূর মিয়া বলেন, “আমি দিনমজুর মানুষ। কষ্ট করে সন্তানদের পড়ালেখা করাচ্ছি। আমার ছেলেকে কেন বিদ্যালয়ের কাজ করাতে হবে? সে কাজ করতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছে। আমরা সন্তানদের নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশের জন্য বিদ্যালয়ে পাঠাই। কিন্তু সেখানে যদি এমন নির্যাতনের শিকার হতে হয়, তাহলে অভিভাবকরা কোথায় যাবেন? আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

এদিকে এলাকাবাসী ও সচেতন নাগরিকরা দাবি করেছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সকল বিদ্যালয়ের দপ্তরি, শিক্ষক ও কর্মচারীদের জন্য নিয়মিত আচরণবিধি ও শিশু সুরক্ষা বিষয়ক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা জরুরি।

স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসীর একটাই দাবি—শিশু নির্যাতনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক।

প্রতিবেদন: বুলবুল আহমেদ
নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
তারিখ: ১৫ জুন, ২০২৬

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ঠাকুরগাঁওয়ে অবৈধ বালু উত্তোলন: বালু ব্যবসায়ীকে ৯০ হাজার টাকা জরিমানা

নবীগঞ্জে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীকে দপ্তরির নির্মম মারধরের অভিযোগ,সাংবাদিকের সঙ্গেও অসদাচরণ

Update Time : 10:30:52 pm, Monday, 15 June 2026

নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি: মোঃ বুলবুল আহম্মেদ

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার কারখানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি কাম প্রহরী সুয়েব মিয়ার বিরুদ্ধে এক চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীকে নির্মমভাবে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত শিক্ষার্থীর পিতা নূর মিয়া নবীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনাটি এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ জুন বিদ্যালয়ের বারান্দায় এক চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীকে গাছের ডাল দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন দপ্তরি সুয়েব মিয়া। এতে শিশুটির পিঠ, হাত, পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে। আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। বর্তমানে শিশুটি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

ঘটনার পর তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে অভিযুক্ত দপ্তরি সুয়েব মিয়া সাংবাদিকদের সঙ্গেও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক মহলেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ সুয়েব মিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নয়। তিনি প্রায়ই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও শারীরিক শাস্তিমূলক আচরণ করে থাকেন। তাকে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছে, কিন্তু তিনি নির্দেশনা মানছেন না।”

তিনি আরও বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। তথ্য সংগ্রহে আসা সাংবাদিকদের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত ও লজ্জিত।”

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রভাবশালী একটি মহল অভিযুক্ত দপ্তরিকে আড়াল থেকে প্রশ্রয় দিয়ে আসছে। ফলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থীর অভিভাবক জানান, দীর্ঘদিন ধরেই অভিযুক্ত দপ্তরি শিক্ষার্থীদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছেন। সামান্য বিষয়েও শিশুদের মারধর করা তার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। তারা দ্রুত তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

অভিযোগকারী নূর মিয়া বলেন, “আমি দিনমজুর মানুষ। কষ্ট করে সন্তানদের পড়ালেখা করাচ্ছি। আমার ছেলেকে কেন বিদ্যালয়ের কাজ করাতে হবে? সে কাজ করতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছে। আমরা সন্তানদের নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশের জন্য বিদ্যালয়ে পাঠাই। কিন্তু সেখানে যদি এমন নির্যাতনের শিকার হতে হয়, তাহলে অভিভাবকরা কোথায় যাবেন? আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

এদিকে এলাকাবাসী ও সচেতন নাগরিকরা দাবি করেছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সকল বিদ্যালয়ের দপ্তরি, শিক্ষক ও কর্মচারীদের জন্য নিয়মিত আচরণবিধি ও শিশু সুরক্ষা বিষয়ক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা জরুরি।

স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসীর একটাই দাবি—শিশু নির্যাতনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক।

প্রতিবেদন: বুলবুল আহমেদ
নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
তারিখ: ১৫ জুন, ২০২৬