Dhaka 4:13 pm, Tuesday, 16 June 2026

নরসিংদীতে চালক সারোয়ার হত্যা:২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রহস্য উদঘাটন,গ্রেফতার ২

নরসিংদী প্রতিনিধি আবু নাঈম রিপন

নরসিংদীতে বিভাটেক (মিশুক) চালক সারোয়ার হোসেনকে গলা কেটে হত্যা করে গাড়ি ছিনতাইয়ের চাঞ্চল্যকর ও ক্লু-লেস মামলার রহস্য মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ছিনতাই হওয়া বিভাটেক গাড়িসহ চারটি ব্যাটারি উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন— কিশোরগঞ্জ জেলার হারুয়া গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে মো. আনোয়ার হোসেন (২৭), বর্তমানে নরসিংদীর টাওয়াদী এলাকায় বসবাসকারী এবং নরসিংদীর বুদিয়ামারা এলাকার কবির হোসেনের ছেলে আশিক (২১)।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত আনোয়ার হোসেন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেছেন। এছাড়া তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লুণ্ঠিত বিভাটেক গাড়ি ও চারটি ব্যাটারি উদ্ধার করা হয়।

নিখোঁজের দুই দিন পর মিলল মরদেহ

নিহত সারোয়ার হোসেন (২২) নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার চন্দগাতী গ্রামের হাজি রহমানের ছেলে। জীবিকার তাগিদে তিনি নরসিংদীর টাওয়াদী এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে বিভাটেক চালাতেন।

গত ১৩ জুন দুপুরে তিনি গ্যারেজ থেকে গাড়ি নিয়ে বের হন। এরপর থেকে পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কিন্তু কোথাও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।

পরবর্তীতে ১৫ জুন রাত আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে নরসিংদী মডেল থানার নজরপুর ইউনিয়নের চম্পকনগর এলাকায় মেঘনা নদীর শাখা নদীর বেড়িবাঁধ সংলগ্ন ঝোপের ভেতর থেকে সারোয়ারের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের পিতা বাদী হয়ে নরসিংদী মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় অভিযান

মামলা দায়েরের পরপরই নরসিংদী জেলার পুলিশ সুপার মো. আবদুল্লাহ্-আল-ফারুক এর নির্দেশনায় নরসিংদী মডেল থানার একটি বিশেষ তদন্ত দল মাঠে নামে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে পুলিশ দ্রুত হত্যাকাণ্ডের সূত্র খুঁজে বের করে এবং নরসিংদীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার স্বীকারোক্তি

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা সারোয়ার হোসেনকে গলা কেটে হত্যা করে তার বিভাটেক গাড়ি ছিনতাইয়ের কথা স্বীকার করেছে বলে জানা গেছে। হত্যাকাণ্ডের পর তারা গাড়িটি আত্মসাতের চেষ্টা করে এবং গাড়ির ব্যাটারিগুলোও খুলে নেয়।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত অন্য কেউ থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। গ্রেফতারকৃত দুই আসামিকে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

নরসিংদীতে সংঘটিত এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের দ্রুত রহস্য উদঘাটন এবং আসামিদের গ্রেফতারে জেলা পুলিশের ভূমিকা স্থানীয় জনমনে স্বস্তি ফিরিয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

শ্রীবরদীতে পুলিশের অভিযানে মাদকসহ গ্রেপ্তার ১

নরসিংদীতে চালক সারোয়ার হত্যা:২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রহস্য উদঘাটন,গ্রেফতার ২

Update Time : 02:46:33 pm, Tuesday, 16 June 2026

নরসিংদী প্রতিনিধি আবু নাঈম রিপন

নরসিংদীতে বিভাটেক (মিশুক) চালক সারোয়ার হোসেনকে গলা কেটে হত্যা করে গাড়ি ছিনতাইয়ের চাঞ্চল্যকর ও ক্লু-লেস মামলার রহস্য মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ছিনতাই হওয়া বিভাটেক গাড়িসহ চারটি ব্যাটারি উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন— কিশোরগঞ্জ জেলার হারুয়া গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে মো. আনোয়ার হোসেন (২৭), বর্তমানে নরসিংদীর টাওয়াদী এলাকায় বসবাসকারী এবং নরসিংদীর বুদিয়ামারা এলাকার কবির হোসেনের ছেলে আশিক (২১)।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত আনোয়ার হোসেন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেছেন। এছাড়া তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লুণ্ঠিত বিভাটেক গাড়ি ও চারটি ব্যাটারি উদ্ধার করা হয়।

নিখোঁজের দুই দিন পর মিলল মরদেহ

নিহত সারোয়ার হোসেন (২২) নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার চন্দগাতী গ্রামের হাজি রহমানের ছেলে। জীবিকার তাগিদে তিনি নরসিংদীর টাওয়াদী এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে বিভাটেক চালাতেন।

গত ১৩ জুন দুপুরে তিনি গ্যারেজ থেকে গাড়ি নিয়ে বের হন। এরপর থেকে পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কিন্তু কোথাও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।

পরবর্তীতে ১৫ জুন রাত আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে নরসিংদী মডেল থানার নজরপুর ইউনিয়নের চম্পকনগর এলাকায় মেঘনা নদীর শাখা নদীর বেড়িবাঁধ সংলগ্ন ঝোপের ভেতর থেকে সারোয়ারের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের পিতা বাদী হয়ে নরসিংদী মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় অভিযান

মামলা দায়েরের পরপরই নরসিংদী জেলার পুলিশ সুপার মো. আবদুল্লাহ্-আল-ফারুক এর নির্দেশনায় নরসিংদী মডেল থানার একটি বিশেষ তদন্ত দল মাঠে নামে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে পুলিশ দ্রুত হত্যাকাণ্ডের সূত্র খুঁজে বের করে এবং নরসিংদীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার স্বীকারোক্তি

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা সারোয়ার হোসেনকে গলা কেটে হত্যা করে তার বিভাটেক গাড়ি ছিনতাইয়ের কথা স্বীকার করেছে বলে জানা গেছে। হত্যাকাণ্ডের পর তারা গাড়িটি আত্মসাতের চেষ্টা করে এবং গাড়ির ব্যাটারিগুলোও খুলে নেয়।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত অন্য কেউ থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। গ্রেফতারকৃত দুই আসামিকে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

নরসিংদীতে সংঘটিত এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের দ্রুত রহস্য উদঘাটন এবং আসামিদের গ্রেফতারে জেলা পুলিশের ভূমিকা স্থানীয় জনমনে স্বস্তি ফিরিয়েছে।