Dhaka 8:30 am, Tuesday, 14 July 2026

নির্জনা হত্যার বিচারে. শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর বিক্ষোভ, সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি.

  • Reporter Name
  • Update Time : 12:17:56 pm, Monday, 13 July 2026
  • 6 Time View

মোল্লা জাহাঙ্গীর আলম :
বাবা-মায়ের হাতে খুন হওয়া খুলনা সরকারি ইকবালনগর বালিকা বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী আরফানা হোসেন নির্জনার হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে খুলনার রাজপথে নেমেছে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী। ৮ জুলাই রাতের নির্মম ঘটনার পর ১০-১ জুলাই টানা বিক্ষোভ, মানবন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ চলছে।

ইকবালনগর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বলেন, নির্জনাকে খুন করেছে তার মাদকাসক্ত বাবা-মা। আমরা এই হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। মৃত মেয়ের নামে প্রেমের মিথ্যা গল্প বানিয়ে চরিত্রহীন করার চেষ্টা বন্ধ করুন। তাদের দাবি, পারিবারিক নির্যাতন আর মাদকের কারণেই নির্জনাকে প্রাণ দিতে হয়েছে। শিক্ষার্থীরা কঠোর হুঁশিয়ারি দেয়—দোষীদের আড়াল করতে বা বিচার বিলম্বিত করতে চাইলে আন্দোলন আরও তীব্র হবে।

এর পাশাপাশি রোববার নগরীর ২৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়ের সামনে “বসুপাড়া বাঁশতলা মোড় এলাকার সর্বস্তরের জনগণ”-এর ব্যানারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে এলাকাবাসী। নারী, পুরুষ, শিশুসহ অসংখ্য মানুষ অংশ নেন। মানবন্ধনে বক্তারা বলেন, নিহত স্কুল ছাত্রী নির্জনার ঘাতক পিতা-মাতা মাদকাসক্ত ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে তারা একাধিকবার আটক হয়েছে। এ মাদকাসক্ত দম্পতি তাদের একমাত্র কন্যাকে পৈশাচিকভাবে হত্যা করেছে।

বক্তারা অভিযুক্ত বাবা মো. আলিম হোসেন আকাশকে অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানান। তারা আরও বলেন, হত্যাকারী দম্পতি নিজেদের অপরাধ আড়াল করতে মেয়ের নামে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়েছে যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। “নিজের সন্তানকে নির্মমভাবে হত্যাকারী পিতা-মাতা সমাজে নিকৃষ্ট ও ধিকৃত”—এই মন্তব্য করেন বক্তারা। তারা হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তির জন্য প্রশাসনের প্রতি আবেদন জানান।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের হাতে “নীরবতা নয়, প্রতিবাদ! আমার বোন কবরে, খুনি কেন বাইরে? প্রশাসন জবাব চাই” লেখা প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য শেখ জামাল উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ২৬ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মাহমুদ আলম বাবু মোড়ল, সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম বিপ্লব, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. শাহীন আহসান।

এছাড়া এজে কুদ্দুস, ইয়াছির, ডা. হালিম মোড়ল, শুভ, শহিদ, সাগর, হাফেজ সোলায়মান, নাজমুল, ইমরান, মামুন, গোলাম রসুল, জুবায়ের প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

পুলিশ সূত্র জানায়, ৮ জুলাই রাতে সোনাডাঙ্গার বসুপাড়া বাসায় জামাই মো. রনির সাথে থাকা নিয়ে বাবা-মায়ের সাথে নির্জনার বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে বাবার আঘাতে নির্জনা মারা যান। পরে স্বামী-স্ত্রী মিলে লাশ বস্তাবন্দি করে প্রান্তিকায় ফেলে আসেন। লাশ বহনের মোটরসাইকেল ১১ জুলাই পর্যন্ত উদ্ধার করা হয়েছে।

১১ জুলাই খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান জানান, ৩ দিনে রহস্য উদঘাটন হয়েছে। ১০ জুলাই মা আরিফা ইয়াসমিন সীমা গ্রেফতার হয়ে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। বাবা মো. আলিম হোসেন আকাশ পলাতক। তাকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

প্যারিসের উপকণ্ঠে ভয়াবহ দাবানল

নির্জনা হত্যার বিচারে. শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর বিক্ষোভ, সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি.

Update Time : 12:17:56 pm, Monday, 13 July 2026

মোল্লা জাহাঙ্গীর আলম :
বাবা-মায়ের হাতে খুন হওয়া খুলনা সরকারি ইকবালনগর বালিকা বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী আরফানা হোসেন নির্জনার হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে খুলনার রাজপথে নেমেছে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী। ৮ জুলাই রাতের নির্মম ঘটনার পর ১০-১ জুলাই টানা বিক্ষোভ, মানবন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ চলছে।

ইকবালনগর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বলেন, নির্জনাকে খুন করেছে তার মাদকাসক্ত বাবা-মা। আমরা এই হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। মৃত মেয়ের নামে প্রেমের মিথ্যা গল্প বানিয়ে চরিত্রহীন করার চেষ্টা বন্ধ করুন। তাদের দাবি, পারিবারিক নির্যাতন আর মাদকের কারণেই নির্জনাকে প্রাণ দিতে হয়েছে। শিক্ষার্থীরা কঠোর হুঁশিয়ারি দেয়—দোষীদের আড়াল করতে বা বিচার বিলম্বিত করতে চাইলে আন্দোলন আরও তীব্র হবে।

এর পাশাপাশি রোববার নগরীর ২৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়ের সামনে “বসুপাড়া বাঁশতলা মোড় এলাকার সর্বস্তরের জনগণ”-এর ব্যানারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে এলাকাবাসী। নারী, পুরুষ, শিশুসহ অসংখ্য মানুষ অংশ নেন। মানবন্ধনে বক্তারা বলেন, নিহত স্কুল ছাত্রী নির্জনার ঘাতক পিতা-মাতা মাদকাসক্ত ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে তারা একাধিকবার আটক হয়েছে। এ মাদকাসক্ত দম্পতি তাদের একমাত্র কন্যাকে পৈশাচিকভাবে হত্যা করেছে।

বক্তারা অভিযুক্ত বাবা মো. আলিম হোসেন আকাশকে অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানান। তারা আরও বলেন, হত্যাকারী দম্পতি নিজেদের অপরাধ আড়াল করতে মেয়ের নামে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়েছে যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। “নিজের সন্তানকে নির্মমভাবে হত্যাকারী পিতা-মাতা সমাজে নিকৃষ্ট ও ধিকৃত”—এই মন্তব্য করেন বক্তারা। তারা হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তির জন্য প্রশাসনের প্রতি আবেদন জানান।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের হাতে “নীরবতা নয়, প্রতিবাদ! আমার বোন কবরে, খুনি কেন বাইরে? প্রশাসন জবাব চাই” লেখা প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য শেখ জামাল উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ২৬ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মাহমুদ আলম বাবু মোড়ল, সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম বিপ্লব, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. শাহীন আহসান।

এছাড়া এজে কুদ্দুস, ইয়াছির, ডা. হালিম মোড়ল, শুভ, শহিদ, সাগর, হাফেজ সোলায়মান, নাজমুল, ইমরান, মামুন, গোলাম রসুল, জুবায়ের প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

পুলিশ সূত্র জানায়, ৮ জুলাই রাতে সোনাডাঙ্গার বসুপাড়া বাসায় জামাই মো. রনির সাথে থাকা নিয়ে বাবা-মায়ের সাথে নির্জনার বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে বাবার আঘাতে নির্জনা মারা যান। পরে স্বামী-স্ত্রী মিলে লাশ বস্তাবন্দি করে প্রান্তিকায় ফেলে আসেন। লাশ বহনের মোটরসাইকেল ১১ জুলাই পর্যন্ত উদ্ধার করা হয়েছে।

১১ জুলাই খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান জানান, ৩ দিনে রহস্য উদঘাটন হয়েছে। ১০ জুলাই মা আরিফা ইয়াসমিন সীমা গ্রেফতার হয়ে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। বাবা মো. আলিম হোসেন আকাশ পলাতক। তাকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।