Dhaka 6:12 pm, Thursday, 25 June 2026

ফরিদপুরে সালথায় বিএনপি কর্মীর হাত-পা কাটা মরদেহ উদ্ধার

ওবায়দুর রহমান ফরিদপুর প্রতিনিধি দৈনিক চেতনায় মুক্তিযোদ্ধা

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় পান্নু ফকির ওরফে জামু ফকির (৪০) নামে এক বিএনপি কর্মীর হাত-পা কাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের কুমারকান্দা হাফেজিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন সড়কের পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

নিহত জামু ফকির উপজেলার কুমারকান্দা গ্রামের মৃত রহমান ফকিরের ছেলে। তিনি চার সন্তানের জনক। তার মৃত্যুর খবরে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে জগন্নাথদী-কুমারকান্দা সড়কের পাশে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশ ও নিহতের পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি জামু ফকিরের বলে শনাক্ত করেন। খবর পেয়ে সালথা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

 

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাকে হত্যা করেছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

 

নিহতের স্ত্রী রুপা বেগম অভিযোগ করে বলেন, “গত কোরবানির ঈদের সময় থেকে প্রতিবেশীদের সঙ্গে জমি-সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। তারা বিভিন্ন সময় আমার স্বামীকে হুমকি দিত। সম্প্রতি একটি গাছ কাটা নিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও প্রতিবেশীরা বাধা দেয়। পরে পুলিশ এসে কাগজপত্র দেখে সন্ধ্যায় থানায় যেতে বলে। থানায় যাওয়ার পর বাড়ি ফেরার পথে আমার স্বামীকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমার দুই দিনের একটি সন্তান রয়েছে। আমি এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

 

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে নগরকান্দা-সালথা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল ফাহাদ বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, তাকে পাটক্ষেতে হত্যা করে পরে মরদেহ সড়কের ওপর ফেলে রাখা হয়েছে। মরদেহে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে হত্যার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করা হবে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।”

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ঘনঘন লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে মৌচাকে বিক্ষোভ পল্লী বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও ও স্মারকলিপি প্রদান

ফরিদপুরে সালথায় বিএনপি কর্মীর হাত-পা কাটা মরদেহ উদ্ধার

Update Time : 04:43:42 pm, Thursday, 25 June 2026

ওবায়দুর রহমান ফরিদপুর প্রতিনিধি দৈনিক চেতনায় মুক্তিযোদ্ধা

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় পান্নু ফকির ওরফে জামু ফকির (৪০) নামে এক বিএনপি কর্মীর হাত-পা কাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের কুমারকান্দা হাফেজিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন সড়কের পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

নিহত জামু ফকির উপজেলার কুমারকান্দা গ্রামের মৃত রহমান ফকিরের ছেলে। তিনি চার সন্তানের জনক। তার মৃত্যুর খবরে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে জগন্নাথদী-কুমারকান্দা সড়কের পাশে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশ ও নিহতের পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি জামু ফকিরের বলে শনাক্ত করেন। খবর পেয়ে সালথা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

 

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাকে হত্যা করেছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

 

নিহতের স্ত্রী রুপা বেগম অভিযোগ করে বলেন, “গত কোরবানির ঈদের সময় থেকে প্রতিবেশীদের সঙ্গে জমি-সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। তারা বিভিন্ন সময় আমার স্বামীকে হুমকি দিত। সম্প্রতি একটি গাছ কাটা নিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও প্রতিবেশীরা বাধা দেয়। পরে পুলিশ এসে কাগজপত্র দেখে সন্ধ্যায় থানায় যেতে বলে। থানায় যাওয়ার পর বাড়ি ফেরার পথে আমার স্বামীকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমার দুই দিনের একটি সন্তান রয়েছে। আমি এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

 

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে নগরকান্দা-সালথা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল ফাহাদ বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, তাকে পাটক্ষেতে হত্যা করে পরে মরদেহ সড়কের ওপর ফেলে রাখা হয়েছে। মরদেহে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে হত্যার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করা হবে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।”

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।