Dhaka 7:17 pm, Monday, 27 April 2026

ময়মনসিংহে মাদ্রাসার জমি দখল১৭বছরের দুর্নীতির অভিযোগ:উত্তপ্ত ছাতিয়ানতলা

মোঃ হুমায়ুন কবির স্টাফ রিপোর্টার ময়মনসিংহ

​ময়মনসিংহ বিভাগীয় জেলার ঐতিহ্যবাহী জামিয়া ইমদাদিয়া ঢাকিরকান্দা ছাতিয়ানতলা মাদ্রাসার কমিটি নিয়ে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এবার প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। গত ১৭ বছর ধরে জোরপূর্বক পদ আঁকড়ে থাকা সভাপতি ও সেক্রেটারির বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি,জমি দখল ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে তাদের দ্রুত অপসারণ ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

​জোরপূর্বক দখল ও ক্ষমতার দাপট স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও মাদ্রাসার শীর্ষ দুই নেতার দাপট কমেনি। আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ শাসনামল থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত তারা একক আধিপত্য বজায় রেখেছেন। এলাকাবাসীর দাবি, এই দীর্ঘ সময়ে তারা মাদ্রাসার স্বার্থ দেখার চেয়ে নিজেদের আখের গোছাতে বেশি ব্যস্ত ছিলেন। এমনকি মাদ্রাসার প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি দখলেরও অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে।

​নিঃস্ব ভূমিহীন কৃষক ভুক্তভোগীদের মধ্যে অন্যতম ওই এলাকার এক অসহায় কৃষক। তিনি অশ্রুভেজা চোখে জানান, তার শেষ সম্বল মাত্র চার কাঠা জমি মাদ্রাসার সভাপতি ও সেক্রেটারি মিলে জোরপূর্বক মাদ্রাসার সীমানায় অন্তর্ভুক্ত করে নিয়েছেন। বৈধ কাগজপত্র থাকার পরও কোনো প্রতিকার পাননি তিনি। ওই কৃষক বলেন, “আমাদের থাকার ঘরবাড়ি নেই, যতটুকু জমি ছিল তাও কেড়ে নেওয়া হয়েছে। আমরা এখন অনেক কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি।

​হিসাবহীন অর্থ ও সম্পত্তি বিক্রি মাদ্রাসার অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ বছরে মাদ্রাসার বেশ কিছু মূল্যবান সম্পত্তি বিক্রি করা হয়েছে। তবে বিক্রিত অর্থের কোনো সুনির্দিষ্ট হিসাব সাধারণ কমিটি বা এলাকাবাসীকে দেওয়া হয়নি। মাদ্রাসার তহবিলের বড় একটি অংশ লোপাট হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় সাধারণ জনগণ।

​এলাকাবাসীর দাবি ও ক্ষোভ গতকাল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে জড়ো হওয়া স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলেন, “যেখানে মানুষ আল্লাহর পথে চলার শিক্ষা নিতে আসে, সেখানে যদি এমন দুর্নীতি চলে তবে শিশুরা কী শিখবে? তারা বড় হয়ে তো এসব দেখে দুর্নীতিবাজ হওয়ার অনুপ্রেরণা পাবে।”
​বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর দাবিগুলো হলো:
১. বর্তমান সভাপতি ও সেক্রেটারিকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে।

২.গত ১৭ বছরের আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব জনসম্মুখে পেশ করতে হবে।
৩.জোরপূর্বক দখল করা জমি প্রকৃত মালিকদের ফিরিয়ে দিতে হবে।

৪. দুর্নীতির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনের আওতায় আনতে হবে।

​এ বিষয়ে অভিযুক্ত সভাপতি ও সেক্রেটারির সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। বর্তমান উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া নাহলে তারা আরও কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার কথা ব্যাক্ত্য করেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

বুড়িচংয়ে বিল নার্সারিতে বিভিন্ন প্রজাতির রেনু পোনা অবমুক্ত

ময়মনসিংহে মাদ্রাসার জমি দখল১৭বছরের দুর্নীতির অভিযোগ:উত্তপ্ত ছাতিয়ানতলা

Update Time : 11:56:36 pm, Sunday, 26 April 2026

মোঃ হুমায়ুন কবির স্টাফ রিপোর্টার ময়মনসিংহ

​ময়মনসিংহ বিভাগীয় জেলার ঐতিহ্যবাহী জামিয়া ইমদাদিয়া ঢাকিরকান্দা ছাতিয়ানতলা মাদ্রাসার কমিটি নিয়ে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এবার প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। গত ১৭ বছর ধরে জোরপূর্বক পদ আঁকড়ে থাকা সভাপতি ও সেক্রেটারির বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি,জমি দখল ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে তাদের দ্রুত অপসারণ ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

​জোরপূর্বক দখল ও ক্ষমতার দাপট স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও মাদ্রাসার শীর্ষ দুই নেতার দাপট কমেনি। আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ শাসনামল থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত তারা একক আধিপত্য বজায় রেখেছেন। এলাকাবাসীর দাবি, এই দীর্ঘ সময়ে তারা মাদ্রাসার স্বার্থ দেখার চেয়ে নিজেদের আখের গোছাতে বেশি ব্যস্ত ছিলেন। এমনকি মাদ্রাসার প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি দখলেরও অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে।

​নিঃস্ব ভূমিহীন কৃষক ভুক্তভোগীদের মধ্যে অন্যতম ওই এলাকার এক অসহায় কৃষক। তিনি অশ্রুভেজা চোখে জানান, তার শেষ সম্বল মাত্র চার কাঠা জমি মাদ্রাসার সভাপতি ও সেক্রেটারি মিলে জোরপূর্বক মাদ্রাসার সীমানায় অন্তর্ভুক্ত করে নিয়েছেন। বৈধ কাগজপত্র থাকার পরও কোনো প্রতিকার পাননি তিনি। ওই কৃষক বলেন, “আমাদের থাকার ঘরবাড়ি নেই, যতটুকু জমি ছিল তাও কেড়ে নেওয়া হয়েছে। আমরা এখন অনেক কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি।

​হিসাবহীন অর্থ ও সম্পত্তি বিক্রি মাদ্রাসার অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ বছরে মাদ্রাসার বেশ কিছু মূল্যবান সম্পত্তি বিক্রি করা হয়েছে। তবে বিক্রিত অর্থের কোনো সুনির্দিষ্ট হিসাব সাধারণ কমিটি বা এলাকাবাসীকে দেওয়া হয়নি। মাদ্রাসার তহবিলের বড় একটি অংশ লোপাট হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় সাধারণ জনগণ।

​এলাকাবাসীর দাবি ও ক্ষোভ গতকাল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে জড়ো হওয়া স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলেন, “যেখানে মানুষ আল্লাহর পথে চলার শিক্ষা নিতে আসে, সেখানে যদি এমন দুর্নীতি চলে তবে শিশুরা কী শিখবে? তারা বড় হয়ে তো এসব দেখে দুর্নীতিবাজ হওয়ার অনুপ্রেরণা পাবে।”
​বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর দাবিগুলো হলো:
১. বর্তমান সভাপতি ও সেক্রেটারিকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে।

২.গত ১৭ বছরের আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব জনসম্মুখে পেশ করতে হবে।
৩.জোরপূর্বক দখল করা জমি প্রকৃত মালিকদের ফিরিয়ে দিতে হবে।

৪. দুর্নীতির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনের আওতায় আনতে হবে।

​এ বিষয়ে অভিযুক্ত সভাপতি ও সেক্রেটারির সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। বর্তমান উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া নাহলে তারা আরও কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার কথা ব্যাক্ত্য করেন।