Dhaka 1:59 pm, Sunday, 26 April 2026

মৌচাকে ভুয়া দন্ত চিকিৎসকের জালিয়াতি: মেম্বারশিপ কার্ডে ‘ডেন্টিস্ট’ সেজে প্রতারণা করছেন ফয়সাল

গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি:

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক এলাকায় চিকিৎসার নামে এক ভয়াবহ প্রতারণার ফাঁদ পেতে বসেছেন ফয়সাল ইকবাল নামের এক ব্যক্তি। কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিডিএস (BDS) ডিগ্রি বা বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল (BMDC) এর কোনো নিবন্ধন না থাকলেও তিনি দাপটের সাথে চালিয়ে যাচ্ছেন জটিল দন্ত চিকিৎসা।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, ফয়সাল ইকবাল ‘বাংলাদেশ ডেন্টাল হেলথ সোসাইটি’ (BDHS) নামক একটি বেসরকারি সংগঠনের একটি মেম্বারশিপ সার্টিফিকেটকে লাইসেন্স হিসেবে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন। ছবি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এটি কোনো চিকিৎসা দেওয়ার লাইসেন্স নয়, বরং একটি সংগঠনের সদস্য হওয়ার সনদ মাত্র। অথচ এই কাগজটিকেই পূজি করে তিনি রোগীদের কাছে ‘ডাক্তারি সার্টিফিকেট’ হিসেবে জাহির করে নামের আগে ‘ডেন্টিস্ট’ পদবি ব্যবহার করছেন।

বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন-২০১০ এর ২৮ ও ২৯ ধারা অনুযায়ী, নূন্যতম বিডিএস ডিগ্রি ও বিএমডিসি নিবন্ধন ছাড়া কেউ নিজেকে ‘ডেন্টিস্ট’ বা ‘ডেন্টাল সার্জন’ পরিচয় দিতে পারবেন না। এটি ৩ বছরের জেল ও ১ লক্ষ টাকা জরিমানার যোগ্য অপরাধ। অথচ ফয়সাল ইকবাল তার চেম্বারে বড় ডিজিটাল ব্যানারে নিজেকে ‘ডেন্টিস্ট’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে দাঁত তোলা, রুট ক্যানেল, স্কেলিং, ফিলিং এবং ক্যাপ ব্রিজের মতো সংবেদনশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচার করে যাচ্ছেন। আরও ভয়াবহ তথ্য হলো, আইনি ধরাছোঁয়া থেকে বাঁচতে তিনি রোগীদের কোনো লিখিত প্রেসক্রিপশন প্রদান করেন না।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, একজন অদক্ষ ব্যক্তির হাতে দাঁত তোলা বা সার্জারি করালে হেপাটাইটিস-বি, সি এবং এমনকি মুখের ক্যানসারের মতো প্রাণঘাতী ঝুঁকি থাকে। মূলত সাধারণ মানুষের অজ্ঞতাকে পুঁজি করেই তিনি মৌচাক এলাকায় এই মরণফাঁদ পেতেছেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন অবৈধ কারবার চললেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। তারা দ্রুত এই ভুয়া চিকিৎসকের চেম্বার সিলগালা করার এবং প্রতারক ফয়সালকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন। জনস্বার্থ রক্ষায় গাজীপুরের সিভিল সার্জন ও কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (UNO) দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয় সচেতন সমাজ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

তীব্র গরমে এসএসসি পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পাশে সিটিজেনস্ ফোরাম চট্টগ্রাম

মৌচাকে ভুয়া দন্ত চিকিৎসকের জালিয়াতি: মেম্বারশিপ কার্ডে ‘ডেন্টিস্ট’ সেজে প্রতারণা করছেন ফয়সাল

Update Time : 12:15:23 pm, Sunday, 26 April 2026

গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি:

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক এলাকায় চিকিৎসার নামে এক ভয়াবহ প্রতারণার ফাঁদ পেতে বসেছেন ফয়সাল ইকবাল নামের এক ব্যক্তি। কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিডিএস (BDS) ডিগ্রি বা বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল (BMDC) এর কোনো নিবন্ধন না থাকলেও তিনি দাপটের সাথে চালিয়ে যাচ্ছেন জটিল দন্ত চিকিৎসা।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, ফয়সাল ইকবাল ‘বাংলাদেশ ডেন্টাল হেলথ সোসাইটি’ (BDHS) নামক একটি বেসরকারি সংগঠনের একটি মেম্বারশিপ সার্টিফিকেটকে লাইসেন্স হিসেবে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন। ছবি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এটি কোনো চিকিৎসা দেওয়ার লাইসেন্স নয়, বরং একটি সংগঠনের সদস্য হওয়ার সনদ মাত্র। অথচ এই কাগজটিকেই পূজি করে তিনি রোগীদের কাছে ‘ডাক্তারি সার্টিফিকেট’ হিসেবে জাহির করে নামের আগে ‘ডেন্টিস্ট’ পদবি ব্যবহার করছেন।

বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন-২০১০ এর ২৮ ও ২৯ ধারা অনুযায়ী, নূন্যতম বিডিএস ডিগ্রি ও বিএমডিসি নিবন্ধন ছাড়া কেউ নিজেকে ‘ডেন্টিস্ট’ বা ‘ডেন্টাল সার্জন’ পরিচয় দিতে পারবেন না। এটি ৩ বছরের জেল ও ১ লক্ষ টাকা জরিমানার যোগ্য অপরাধ। অথচ ফয়সাল ইকবাল তার চেম্বারে বড় ডিজিটাল ব্যানারে নিজেকে ‘ডেন্টিস্ট’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে দাঁত তোলা, রুট ক্যানেল, স্কেলিং, ফিলিং এবং ক্যাপ ব্রিজের মতো সংবেদনশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচার করে যাচ্ছেন। আরও ভয়াবহ তথ্য হলো, আইনি ধরাছোঁয়া থেকে বাঁচতে তিনি রোগীদের কোনো লিখিত প্রেসক্রিপশন প্রদান করেন না।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, একজন অদক্ষ ব্যক্তির হাতে দাঁত তোলা বা সার্জারি করালে হেপাটাইটিস-বি, সি এবং এমনকি মুখের ক্যানসারের মতো প্রাণঘাতী ঝুঁকি থাকে। মূলত সাধারণ মানুষের অজ্ঞতাকে পুঁজি করেই তিনি মৌচাক এলাকায় এই মরণফাঁদ পেতেছেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন অবৈধ কারবার চললেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। তারা দ্রুত এই ভুয়া চিকিৎসকের চেম্বার সিলগালা করার এবং প্রতারক ফয়সালকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন। জনস্বার্থ রক্ষায় গাজীপুরের সিভিল সার্জন ও কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (UNO) দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয় সচেতন সমাজ।