Dhaka 3:10 am, Wednesday, 5 August 2026

রোগীর সেবায় নিরলস নীরব সৈনিক মানবতার ফেরী ওয়ালা শ্রী লিটন পাল

আশরাফুদ্দীন আল আজাদ বিশেষ প্রতিনিধিঃ

রংপুর বিভাগীয় জেলায় চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত আছেন মানবতার উজ্জ্বল নক্ষত্র-বর্তমান সমাজে যখন অনেকেই নিজের দায়িত্বটুকু পালন করতেই ক্লান্ত হয়ে পড়েন,ঠিক তখনই কিছু মানুষ নীরবে মানবতার আলো ছড়িয়ে যান নিজের কর্ম আর ভালোবাসা দিয়ে। তেমনি একজন মানবিক মানুষ হলেন শ্রী লিটন পাল। তিনি একজন দায়িত্বশীল ডাক্তার সহকারী হিসেবে কর্মরত আছেন শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ রক্তরোগ ও ব্লাড ক্যান্সার বিভাগে। তার পিতা শ্রী গোবিন্দ চন্দ্র পাল। গ্রামের বাড়ি গাবতলী উপজেলার মহিষাবান পালপাড়া গ্রামে।
রোগীর সেবাকেই তিনি নিজের জীবনের অন্যতম দায়িত্ব হিসেবে নিয়েছেন। দিনের অধিকাংশ সময় কাটে হাসপাতালের রোগীদের পাশে। ক্লান্তিহীন এই মানুষটি সবসময় হাসিমুখে রোগীদের সেবা করে চলেন। রোগীর অভিযোগ, কষ্ট কিংবা উদ্বেগ—সবকিছুই ধৈর্য ও আন্তরিকতার সাথে গ্রহণ করেন তিনি। তার ব্যবহারে নেই কোনো বিরক্তি কিংবা অহংকার; বরং প্রতিটি রোগীর প্রতি থাকে সমান সহমর্মিতা ও মানবিকতা।
হাসপাতালের কয়েকজন সিনিয়র চিকিৎসকের সাথেও তিনি নিবিড়ভাবে কাজ করেন। রোগীর কখন কী প্রয়োজন, কোন ওষুধ লাগবে, কোন পরীক্ষা করাতে হবে কিংবা কার কী সমস্যা—এসব বিষয়ে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখেন তিনি। শুধু দায়িত্ব পালন করাই নয়, রোগীদের মানসিক সাহস জোগাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন লিটন পাল।
অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, ডিউটি শেষ হলেও যেন শেষ হয় না তার মানবসেবা। বাসায় ফিরে গিয়েও ফোনে রোগীদের খোঁজখবর নেন নিয়মিত। এমনকি কোনো রোগী হাসপাতাল থেকে ছুটি নিয়ে বাড়ি ফিরে গেলেও প্রয়োজনের মুহূর্তে ফোন দিলে সাড়া দেন তিনি। রোগীর প্রয়োজনে সবসময় পাশে থাকার এই মানসিকতাই তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।
তার এই আন্তরিকতা ও মানবিক আচরণের কারণে হাসপাতালের চিকিৎসকরাও তাকে অত্যন্ত স্নেহ ও ভালোবাসেন। সহকর্মীদের কাছেও তিনি একজন দায়িত্ববান, পরিশ্রমী এবং বিশ্বস্ত মানুষ হিসেবে পরিচিত। অনেক রোগী ও স্বজনের কাছেও তিনি হয়ে উঠেছেন ভরসার আরেক নাম।
শ্রী লিটন পাল বলেন,
“মানুষের সেবা করাটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব ও মানবতা। একজন রোগী যখন কষ্টে থাকে, তখন শুধু চিকিৎসা নয়, তার পাশে দাঁড়িয়ে সাহস দেওয়াটাও খুব প্রয়োজন। আমি সবসময় চেষ্টা করি রোগীদের আপনজনের মতো পাশে থাকতে। মানুষের দোয়া আর ভালোবাসাই আমার কাজের সবচেয়ে বড় প্রেরণা।”
মানবতার এই সময়ে শ্রী লিটন পালের মতো মানুষরা সমাজের জন্য সত্যিই অনুকরণীয়। নিঃস্বার্থ সেবা, দায়িত্ববোধ আর মানুষের প্রতি ভালোবাসা দিয়ে তিনি প্রমাণ করে চলেছেন—মানুষের পাশে দাঁড়ানোই সবচেয়ে বড় মানবতা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

রাজশাহীতে সাংবাদিকদের মানববন্ধন: হামলাকারীদের গ্রেফতারে ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম

রোগীর সেবায় নিরলস নীরব সৈনিক মানবতার ফেরী ওয়ালা শ্রী লিটন পাল

Update Time : 11:18:24 pm, Thursday, 21 May 2026

আশরাফুদ্দীন আল আজাদ বিশেষ প্রতিনিধিঃ

রংপুর বিভাগীয় জেলায় চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত আছেন মানবতার উজ্জ্বল নক্ষত্র-বর্তমান সমাজে যখন অনেকেই নিজের দায়িত্বটুকু পালন করতেই ক্লান্ত হয়ে পড়েন,ঠিক তখনই কিছু মানুষ নীরবে মানবতার আলো ছড়িয়ে যান নিজের কর্ম আর ভালোবাসা দিয়ে। তেমনি একজন মানবিক মানুষ হলেন শ্রী লিটন পাল। তিনি একজন দায়িত্বশীল ডাক্তার সহকারী হিসেবে কর্মরত আছেন শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ রক্তরোগ ও ব্লাড ক্যান্সার বিভাগে। তার পিতা শ্রী গোবিন্দ চন্দ্র পাল। গ্রামের বাড়ি গাবতলী উপজেলার মহিষাবান পালপাড়া গ্রামে।
রোগীর সেবাকেই তিনি নিজের জীবনের অন্যতম দায়িত্ব হিসেবে নিয়েছেন। দিনের অধিকাংশ সময় কাটে হাসপাতালের রোগীদের পাশে। ক্লান্তিহীন এই মানুষটি সবসময় হাসিমুখে রোগীদের সেবা করে চলেন। রোগীর অভিযোগ, কষ্ট কিংবা উদ্বেগ—সবকিছুই ধৈর্য ও আন্তরিকতার সাথে গ্রহণ করেন তিনি। তার ব্যবহারে নেই কোনো বিরক্তি কিংবা অহংকার; বরং প্রতিটি রোগীর প্রতি থাকে সমান সহমর্মিতা ও মানবিকতা।
হাসপাতালের কয়েকজন সিনিয়র চিকিৎসকের সাথেও তিনি নিবিড়ভাবে কাজ করেন। রোগীর কখন কী প্রয়োজন, কোন ওষুধ লাগবে, কোন পরীক্ষা করাতে হবে কিংবা কার কী সমস্যা—এসব বিষয়ে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখেন তিনি। শুধু দায়িত্ব পালন করাই নয়, রোগীদের মানসিক সাহস জোগাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন লিটন পাল।
অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, ডিউটি শেষ হলেও যেন শেষ হয় না তার মানবসেবা। বাসায় ফিরে গিয়েও ফোনে রোগীদের খোঁজখবর নেন নিয়মিত। এমনকি কোনো রোগী হাসপাতাল থেকে ছুটি নিয়ে বাড়ি ফিরে গেলেও প্রয়োজনের মুহূর্তে ফোন দিলে সাড়া দেন তিনি। রোগীর প্রয়োজনে সবসময় পাশে থাকার এই মানসিকতাই তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।
তার এই আন্তরিকতা ও মানবিক আচরণের কারণে হাসপাতালের চিকিৎসকরাও তাকে অত্যন্ত স্নেহ ও ভালোবাসেন। সহকর্মীদের কাছেও তিনি একজন দায়িত্ববান, পরিশ্রমী এবং বিশ্বস্ত মানুষ হিসেবে পরিচিত। অনেক রোগী ও স্বজনের কাছেও তিনি হয়ে উঠেছেন ভরসার আরেক নাম।
শ্রী লিটন পাল বলেন,
“মানুষের সেবা করাটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব ও মানবতা। একজন রোগী যখন কষ্টে থাকে, তখন শুধু চিকিৎসা নয়, তার পাশে দাঁড়িয়ে সাহস দেওয়াটাও খুব প্রয়োজন। আমি সবসময় চেষ্টা করি রোগীদের আপনজনের মতো পাশে থাকতে। মানুষের দোয়া আর ভালোবাসাই আমার কাজের সবচেয়ে বড় প্রেরণা।”
মানবতার এই সময়ে শ্রী লিটন পালের মতো মানুষরা সমাজের জন্য সত্যিই অনুকরণীয়। নিঃস্বার্থ সেবা, দায়িত্ববোধ আর মানুষের প্রতি ভালোবাসা দিয়ে তিনি প্রমাণ করে চলেছেন—মানুষের পাশে দাঁড়ানোই সবচেয়ে বড় মানবতা।