Dhaka 4:30 pm, Monday, 15 June 2026

রোগী অপেক্ষায়,ডাক্তার ব্যস্ত মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের সঙ্গে:কোনাবাড়ি হাসপাতালে ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক:-

গাজীপুরের কোনাবাড়ি এলাকার একটি বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান পপুলার হাসপাতালে রোগীদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করিয়ে চিকিৎসকের ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের (মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ) সঙ্গে সাক্ষাৎকে ঘিরে ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসকের চেম্বারের বাইরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করলেও সময়মতো চিকিৎসাসেবা পাওয়া যাচ্ছে না, অথচ ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, সম্প্রতি হাসপাতালটির এক চিকিৎসক রোগী দেখা স্থগিত রেখে প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় চেম্বারের বাইরে অসুস্থ রোগী, বয়স্ক ব্যক্তি, নারী ও শিশুদের নিয়ে স্বজনরা অপেক্ষা করলেও তাদের চিকিৎসাসেবা পেতে বিলম্ব হয়।

এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজন ক্ষুব্ধ ব্যক্তি লিখেছেন, “ডাক্তার সাহেব রোগী দেখা বাদ দিয়ে আগে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের ভিজিটিং নিচ্ছেন। রোগী বাঁচলো না মরলো, তাতে যেন কোনো গুরুত্ব নেই। আগে প্রয়োজন কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও বিভিন্ন উপহার গ্রহণ।” তার এই মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

স্বাস্থ্যসেবা বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকিৎসকদের সঙ্গে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের পেশাগত যোগাযোগ থাকলেও তা কখনোই রোগীসেবার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করতে পারে না। রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করিয়ে অন্য কার্যক্রমে ব্যস্ত থাকা চিকিৎসা নৈতিকতার পরিপন্থী এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু চিকিৎসক নন, অনেক হাসপাতাল ও ক্লিনিকের ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতার কারণেও রোগীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হন। পর্যাপ্ত তদারকি, সময় ব্যবস্থাপনা এবং রোগীবান্ধব পরিবেশের অভাবে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হয়।

এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সচেতন মহল মনে করছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। একই সঙ্গে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে রোগীদের সেবা প্রাপ্তিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি হাসপাতালের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত রোগীর জীবন ও সুস্থতা নিশ্চিত করা। ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, দায়িত্বহীনতা কিংবা অগ্রাধিকারের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে যদি রোগীরা সময়মতো চিকিৎসাসেবা না পান, তবে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

বাগমারার গোয়ালকান্দিতে মাদকের বিস্তার: প্রশাসনের নজরদারি দুর্বলতার অভিযোগ

রোগী অপেক্ষায়,ডাক্তার ব্যস্ত মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের সঙ্গে:কোনাবাড়ি হাসপাতালে ক্ষোভ

Update Time : 09:44:15 pm, Sunday, 14 June 2026

নিজস্ব প্রতিবেদক:-

গাজীপুরের কোনাবাড়ি এলাকার একটি বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান পপুলার হাসপাতালে রোগীদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করিয়ে চিকিৎসকের ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের (মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ) সঙ্গে সাক্ষাৎকে ঘিরে ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসকের চেম্বারের বাইরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করলেও সময়মতো চিকিৎসাসেবা পাওয়া যাচ্ছে না, অথচ ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, সম্প্রতি হাসপাতালটির এক চিকিৎসক রোগী দেখা স্থগিত রেখে প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় চেম্বারের বাইরে অসুস্থ রোগী, বয়স্ক ব্যক্তি, নারী ও শিশুদের নিয়ে স্বজনরা অপেক্ষা করলেও তাদের চিকিৎসাসেবা পেতে বিলম্ব হয়।

এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজন ক্ষুব্ধ ব্যক্তি লিখেছেন, “ডাক্তার সাহেব রোগী দেখা বাদ দিয়ে আগে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের ভিজিটিং নিচ্ছেন। রোগী বাঁচলো না মরলো, তাতে যেন কোনো গুরুত্ব নেই। আগে প্রয়োজন কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও বিভিন্ন উপহার গ্রহণ।” তার এই মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

স্বাস্থ্যসেবা বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকিৎসকদের সঙ্গে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের পেশাগত যোগাযোগ থাকলেও তা কখনোই রোগীসেবার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করতে পারে না। রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করিয়ে অন্য কার্যক্রমে ব্যস্ত থাকা চিকিৎসা নৈতিকতার পরিপন্থী এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু চিকিৎসক নন, অনেক হাসপাতাল ও ক্লিনিকের ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতার কারণেও রোগীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হন। পর্যাপ্ত তদারকি, সময় ব্যবস্থাপনা এবং রোগীবান্ধব পরিবেশের অভাবে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হয়।

এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সচেতন মহল মনে করছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। একই সঙ্গে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে রোগীদের সেবা প্রাপ্তিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি হাসপাতালের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত রোগীর জীবন ও সুস্থতা নিশ্চিত করা। ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, দায়িত্বহীনতা কিংবা অগ্রাধিকারের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে যদি রোগীরা সময়মতো চিকিৎসাসেবা না পান, তবে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।