Dhaka 5:05 am, Tuesday, 21 April 2026

শ্রীপুরে মাদ্রাসার ছাত্রীকে অপহরণে জড়িত ০৭ গ্রেপ্তার ৪দিনে ভিকটিম উদ্ধার

মোঃসুলতান মাহমুদ,গাজীপুরে বিশেষ প্রতিনিধি
গাজীপুরের শ্রীপুরে সালিস বৈঠকে ফয়সালা না হওয়ায় মাদ্রাসার ছাত্রী ফারিহাকে (১৬) অপহরণের ঘটনায় সাতজনকে গ্রেফতার ও ভিকটিম ছাত্রীকে চারদিন পর উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (অপারেশন) সঞ্জয় সাহা বিষিয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে বুধবার (১৫ এপ্রিল) ভিকটিমের বাবা হাদিউল ইসলাম ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৩০ জনকে আসামী করে শ্রীপুর থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করে। আসামীরা হলো শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া পশ্চিম খন্ড এলাকার সুরুজ মিয়ার ছেলে আবিদ (২১), সবদের আলীর ছেলে সুরুজ মিয়া (৫০), বাচ্চু মিয়া (৫৫), সুরুজ মিয়ার স্ত্রী আবেদা (৪৫), উজ্জল (৩০), সৌমিত (২৩), সাইফুল (৩৫), আবুল হাশেম (৩৭), খলিলের স্ত্রী আবিদা (৩৫) এবং মৃত আশ্রব আলীর ছেলে খলিল (৫০)। পরে পুলিশ ৭ জন আসামীকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।
গ্রেফতার আসামীরা হলেন, সবদের আলীর ছেলে সজল আহমেদ (২৬), সুরুজ মিয়ার স্ত্রী আবেদা (৪৫), সবদের আলীর মেয়ে রাজিয়া (৪৫), আশ্রব আলীর ছেলে খলিল (৫০), বরমীর কায়েতপাড়া গ্রামের জাফর আলীর ছেলে মফিজুর রহমান (৫৩), মফিজুর রহমানের স্ত্রী মনোয়ারা, লা শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া এলাকার শামীম (৩৫)।
ভিকটিম ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার বীর খারুয়া গ্রামের হাদিউল ইসলামের মেয়ে। সে তার বাবা-মা’র সাথে শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া পশ্চিম খন্ড (প্রশিকা মোড়) এলাকার মমিন মোল্লাহ বাড়ীতে ভাড়া থেকে মাওনা তাহফিজুল কোরআন মহিলা মাদ্রাসার ৯ম শ্রেণীতে লেখাপড়া করে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৮টার দিকে ফারিহা মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে মাওনা ফায়ার সার্ভিসের সামনে থেকে আসামীরা তাকে জোর পূর্বক অপহরণ করে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ফারিহাকে মাওনা ফায়ার সার্ভিসের সামনে থেকে আসামী আবিদ তার কয়েকজন সহেযাগীর সহায়তায় অপহরণ করে। তার অভিভাবককে চাপ দিলে বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে আবিদ ভিকটিম ফারিহাকে তার বাবার বাড়িতে নিয়ে আসে।
স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে ভিকটিমের বাসায় উভয়পক্ষ সালিসে বসে। পরে বিষয়টি ফয়সালা না হওয়ায় এদিন বেলা ১১ টার দিকে ভিকটিমের আত্মীয়-স্বজনকে মারপিট করে বসতঘর থেকে তাকে পুনরায় জোরপূর্বক নিয়ে যায় আসামী আবিদ। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের নয়নপুর (এমসি বাজার) এলাকা হতে অপহৃত ভিকটিম ফারিহাকে উদ্ধার করে। এ সময় প্রধান আসামী আবিদসহ অণ্যান্য আসামীরা পালিয়ে যায়। ভিকটিমের মেডিকেল পরীক্ষা, বয়স নির্ধারণ এবং নারী-শিশু আইনের ২২ ধারা মোতাবেক জবানবন্দী গ্রহণের জন্য বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। আসামীদের গ্রেফতারের পুলিশ অভিযান অব্যাহত আছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ফাউন্ডেশন রাঙ্গামাটি জেলার আয়োজনে শাহাদাত বার্ষিকী আলোচনা মিলাদ অনুষ্ঠিত হয়েছে

শ্রীপুরে মাদ্রাসার ছাত্রীকে অপহরণে জড়িত ০৭ গ্রেপ্তার ৪দিনে ভিকটিম উদ্ধার

Update Time : 12:40:13 pm, Sunday, 19 April 2026

মোঃসুলতান মাহমুদ,গাজীপুরে বিশেষ প্রতিনিধি
গাজীপুরের শ্রীপুরে সালিস বৈঠকে ফয়সালা না হওয়ায় মাদ্রাসার ছাত্রী ফারিহাকে (১৬) অপহরণের ঘটনায় সাতজনকে গ্রেফতার ও ভিকটিম ছাত্রীকে চারদিন পর উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (অপারেশন) সঞ্জয় সাহা বিষিয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে বুধবার (১৫ এপ্রিল) ভিকটিমের বাবা হাদিউল ইসলাম ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৩০ জনকে আসামী করে শ্রীপুর থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করে। আসামীরা হলো শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া পশ্চিম খন্ড এলাকার সুরুজ মিয়ার ছেলে আবিদ (২১), সবদের আলীর ছেলে সুরুজ মিয়া (৫০), বাচ্চু মিয়া (৫৫), সুরুজ মিয়ার স্ত্রী আবেদা (৪৫), উজ্জল (৩০), সৌমিত (২৩), সাইফুল (৩৫), আবুল হাশেম (৩৭), খলিলের স্ত্রী আবিদা (৩৫) এবং মৃত আশ্রব আলীর ছেলে খলিল (৫০)। পরে পুলিশ ৭ জন আসামীকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।
গ্রেফতার আসামীরা হলেন, সবদের আলীর ছেলে সজল আহমেদ (২৬), সুরুজ মিয়ার স্ত্রী আবেদা (৪৫), সবদের আলীর মেয়ে রাজিয়া (৪৫), আশ্রব আলীর ছেলে খলিল (৫০), বরমীর কায়েতপাড়া গ্রামের জাফর আলীর ছেলে মফিজুর রহমান (৫৩), মফিজুর রহমানের স্ত্রী মনোয়ারা, লা শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া এলাকার শামীম (৩৫)।
ভিকটিম ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার বীর খারুয়া গ্রামের হাদিউল ইসলামের মেয়ে। সে তার বাবা-মা’র সাথে শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া পশ্চিম খন্ড (প্রশিকা মোড়) এলাকার মমিন মোল্লাহ বাড়ীতে ভাড়া থেকে মাওনা তাহফিজুল কোরআন মহিলা মাদ্রাসার ৯ম শ্রেণীতে লেখাপড়া করে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৮টার দিকে ফারিহা মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে মাওনা ফায়ার সার্ভিসের সামনে থেকে আসামীরা তাকে জোর পূর্বক অপহরণ করে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ফারিহাকে মাওনা ফায়ার সার্ভিসের সামনে থেকে আসামী আবিদ তার কয়েকজন সহেযাগীর সহায়তায় অপহরণ করে। তার অভিভাবককে চাপ দিলে বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে আবিদ ভিকটিম ফারিহাকে তার বাবার বাড়িতে নিয়ে আসে।
স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে ভিকটিমের বাসায় উভয়পক্ষ সালিসে বসে। পরে বিষয়টি ফয়সালা না হওয়ায় এদিন বেলা ১১ টার দিকে ভিকটিমের আত্মীয়-স্বজনকে মারপিট করে বসতঘর থেকে তাকে পুনরায় জোরপূর্বক নিয়ে যায় আসামী আবিদ। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের নয়নপুর (এমসি বাজার) এলাকা হতে অপহৃত ভিকটিম ফারিহাকে উদ্ধার করে। এ সময় প্রধান আসামী আবিদসহ অণ্যান্য আসামীরা পালিয়ে যায়। ভিকটিমের মেডিকেল পরীক্ষা, বয়স নির্ধারণ এবং নারী-শিশু আইনের ২২ ধারা মোতাবেক জবানবন্দী গ্রহণের জন্য বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। আসামীদের গ্রেফতারের পুলিশ অভিযান অব্যাহত আছে।