Dhaka 6:40 pm, Friday, 17 July 2026

হরমুজ প্রণালিতে নতুন উত্তাপ: মার্কিন সামরিক চাপ ও ইরানের পাল্টা হুমকি

  • Reporter Name
  • Update Time : 10:44:22 am, Thursday, 16 July 2026
  • 5 Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১৬ জুলাই ২০২৬
​মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে ফের নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। পারস্য উপসাগরের কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন সামরিক বাহিনী ও ইরানের মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী। গত মাসে যে সমঝোতার মাধ্যমে মাসব্যাপী যুদ্ধের অবসান হওয়ার আশা তৈরি হয়েছিল, তা এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে।
​সামরিক তৎপরতা ও সেন্টকমের বিবৃতি
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যায় তারা হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সামরিক সক্ষমতা কমানোর লক্ষ্যে টানা ৯০ মিনিট অভিযান চালিয়েছে। অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল গ্রেটার টুনব দ্বীপে অবস্থিত ইরানের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র মজুত ও উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলো। মার্কিন বাহিনীর দাবি, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তারা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে।
​অন্যদিকে, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নতুন করে অবরোধ আরোপের পর মার্কিন নৌবাহিনী ওই অঞ্চলে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ ঘুরিয়ে দিয়েছে বলে জানা গেছে।
​অবরোধ ও ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি
গত মাসে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারকের আওতায় ইরানের ওপর থেকে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়েছিল। তবে সেই সমঝোতা স্থায়ী না হওয়ায় পরিস্থিতি ফের জটিল রূপ নিয়েছে। নতুন করে অবরোধ আরোপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেছে, ইরানও পাল্টা ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত। তারা হুমকি দিয়েছে যে, এর প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের তেল ও গ্যাস রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলো বন্ধ হয়ে যেতে পারে। যদিও ইরান নির্দিষ্ট কোনো রুটের কথা উল্লেখ করেনি।
​বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি সংকট
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস পরিবহনের পথ। এখানে কোনো ধরনের সংঘর্ষ বা অবরোধের ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ চেইন বাধাগ্রস্ত হয়। যুদ্ধের পদধ্বনি ও রুট বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় ইতোমধ্যেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যাপক হারে বেড়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
​প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সতর্কবার্তা
চলমান এই উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে ‘ভদ্র আচরণ’ করার কড়া বার্তা দিয়েছেন। যদিও কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা (ডেডলাইন) উল্লেখ করেননি, তবে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসতে হবে, অন্যথায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
​বিশ্লেষকদের মতামত
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই রেষারেষি এখন কেবল দুই দেশের বিষয় নয়, বরং এটি পুরো বিশ্বের জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো এর আগেও বেসামরিক অবকাঠামোয় যেকোনো ধরনের হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছিল, কারণ তা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধের শামিল হতে পারে।
​এই সংঘাত কতদূর গড়াবে এবং মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তপ্ত অঞ্চল পুনরায় স্বাভাবিক হবে কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
​(তথ্যসূত্র: আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা)

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

আগামীর বাংলাদেশ: বিশ্বমঞ্চে স্বনির্ভরতার নতুন ইশতেহার ও উত্তরণের অভীষ্ট লক্ষ্য

হরমুজ প্রণালিতে নতুন উত্তাপ: মার্কিন সামরিক চাপ ও ইরানের পাল্টা হুমকি

Update Time : 10:44:22 am, Thursday, 16 July 2026

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১৬ জুলাই ২০২৬
​মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে ফের নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। পারস্য উপসাগরের কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন সামরিক বাহিনী ও ইরানের মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী। গত মাসে যে সমঝোতার মাধ্যমে মাসব্যাপী যুদ্ধের অবসান হওয়ার আশা তৈরি হয়েছিল, তা এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে।
​সামরিক তৎপরতা ও সেন্টকমের বিবৃতি
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যায় তারা হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সামরিক সক্ষমতা কমানোর লক্ষ্যে টানা ৯০ মিনিট অভিযান চালিয়েছে। অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল গ্রেটার টুনব দ্বীপে অবস্থিত ইরানের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র মজুত ও উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলো। মার্কিন বাহিনীর দাবি, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তারা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে।
​অন্যদিকে, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নতুন করে অবরোধ আরোপের পর মার্কিন নৌবাহিনী ওই অঞ্চলে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ ঘুরিয়ে দিয়েছে বলে জানা গেছে।
​অবরোধ ও ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি
গত মাসে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারকের আওতায় ইরানের ওপর থেকে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়েছিল। তবে সেই সমঝোতা স্থায়ী না হওয়ায় পরিস্থিতি ফের জটিল রূপ নিয়েছে। নতুন করে অবরোধ আরোপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেছে, ইরানও পাল্টা ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত। তারা হুমকি দিয়েছে যে, এর প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের তেল ও গ্যাস রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলো বন্ধ হয়ে যেতে পারে। যদিও ইরান নির্দিষ্ট কোনো রুটের কথা উল্লেখ করেনি।
​বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি সংকট
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস পরিবহনের পথ। এখানে কোনো ধরনের সংঘর্ষ বা অবরোধের ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ চেইন বাধাগ্রস্ত হয়। যুদ্ধের পদধ্বনি ও রুট বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় ইতোমধ্যেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যাপক হারে বেড়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
​প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সতর্কবার্তা
চলমান এই উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে ‘ভদ্র আচরণ’ করার কড়া বার্তা দিয়েছেন। যদিও কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা (ডেডলাইন) উল্লেখ করেননি, তবে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসতে হবে, অন্যথায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
​বিশ্লেষকদের মতামত
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই রেষারেষি এখন কেবল দুই দেশের বিষয় নয়, বরং এটি পুরো বিশ্বের জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো এর আগেও বেসামরিক অবকাঠামোয় যেকোনো ধরনের হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছিল, কারণ তা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধের শামিল হতে পারে।
​এই সংঘাত কতদূর গড়াবে এবং মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তপ্ত অঞ্চল পুনরায় স্বাভাবিক হবে কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
​(তথ্যসূত্র: আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা)