Dhaka 12:16 am, Sunday, 12 July 2026

৩০ বছরেরও বেশি সময় পুরুষ পরিচয়ে জীবন, সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য এক মায়ের অবিশ্বাস্য আত্মত্যাগ

  • Reporter Name
  • Update Time : 01:51:50 pm, Saturday, 11 July 2026
  • 5 Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মাতৃত্বের শক্তি যে সব বাধা অতিক্রম করতে পারে, তার এক অসাধারণ উদাহরণ ভারতের তামিলনাড়ুর এস. পেচিয়াম্মাল। স্বামীকে হারানোর পর অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় পার করতে গিয়ে তিনি এমন এক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, যা আজও বিশ্বজুড়ে বিস্ময় ও অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে আছে।

১৯৮০-এর দশকের শুরুতে বিয়ের মাত্র কয়েক দিনের মাথায় স্বামী মারা যান পেচিয়াম্মালের। তখন তিনি অন্তঃসত্ত্বা। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হারিয়ে অনাগত সন্তানকে নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়ে যান তিনি। সে সময় নারীদের জন্য নিরাপদ কর্মসংস্থান এবং সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা ছিল অত্যন্ত সীমিত।

এই কঠিন বাস্তবতায় টিকে থাকার জন্য তিনি নিজের পরিচয়ই বদলে ফেলেন। চুল ছোট করে পুরুষের মতো পোশাক পরা শুরু করেন এবং নিজের নাম পরিবর্তন করে রাখেন ‘মুথু’। এরপর টানা তিন দশকেরও বেশি সময় পুরুষ পরিচয়ে জীবনযাপন করেন।

এই পরিচয়ের সুবাদে তিনি নির্মাণশ্রমিক, চায়ের দোকানের কর্মী এবং বিভিন্ন হোটেলে কাজ করেন। বিশেষ করে পরোটা তৈরির দক্ষতার কারণে এলাকায় তিনি ‘মুথু মাস্টার’ নামে পরিচিতি লাভ করেন। কঠোর পরিশ্রম, সততা ও নিষ্ঠার জন্য মানুষের শ্রদ্ধা অর্জন করলেও, খুব কম মানুষই জানতেন তার প্রকৃত পরিচয়।

পেচিয়াম্মালের জীবনের প্রতিটি সংগ্রামের পেছনে ছিল একটাই লক্ষ্য—সন্তানের নিরাপদ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা। নিজের স্বপ্ন, পরিচয় ও ব্যক্তিগত জীবন বিসর্জন দিয়ে তিনি সন্তানের জন্য গড়ে তুলেছেন সংগ্রাম, সাহস ও আত্মত্যাগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

আজ এস. পেচিয়াম্মালের গল্প শুধু একজন নারীর সংগ্রামের ইতিহাস নয়; এটি মাতৃত্ব, আত্মত্যাগ, অধ্যবসায় এবং মানবিক দৃঢ়তার এক অনন্য দলিল। তার জীবন আমাদের শেখায়—সন্তানের কল্যাণে একজন মা প্রয়োজনে নিজের পরিচয় পর্যন্ত বদলে ফেলতে পারেন।

ছবি: এস. পেচিয়াম্মাল (মুথু মাস্টার)।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

খুলনায় কিশোরী নির্জনা হত্যা: মায়ের স্বীকারোক্তি, বস্তাবন্দী লাশ ফেলে দেন বাবা-মা; পিতা পলাতক

৩০ বছরেরও বেশি সময় পুরুষ পরিচয়ে জীবন, সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য এক মায়ের অবিশ্বাস্য আত্মত্যাগ

Update Time : 01:51:50 pm, Saturday, 11 July 2026

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মাতৃত্বের শক্তি যে সব বাধা অতিক্রম করতে পারে, তার এক অসাধারণ উদাহরণ ভারতের তামিলনাড়ুর এস. পেচিয়াম্মাল। স্বামীকে হারানোর পর অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় পার করতে গিয়ে তিনি এমন এক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, যা আজও বিশ্বজুড়ে বিস্ময় ও অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে আছে।

১৯৮০-এর দশকের শুরুতে বিয়ের মাত্র কয়েক দিনের মাথায় স্বামী মারা যান পেচিয়াম্মালের। তখন তিনি অন্তঃসত্ত্বা। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হারিয়ে অনাগত সন্তানকে নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়ে যান তিনি। সে সময় নারীদের জন্য নিরাপদ কর্মসংস্থান এবং সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা ছিল অত্যন্ত সীমিত।

এই কঠিন বাস্তবতায় টিকে থাকার জন্য তিনি নিজের পরিচয়ই বদলে ফেলেন। চুল ছোট করে পুরুষের মতো পোশাক পরা শুরু করেন এবং নিজের নাম পরিবর্তন করে রাখেন ‘মুথু’। এরপর টানা তিন দশকেরও বেশি সময় পুরুষ পরিচয়ে জীবনযাপন করেন।

এই পরিচয়ের সুবাদে তিনি নির্মাণশ্রমিক, চায়ের দোকানের কর্মী এবং বিভিন্ন হোটেলে কাজ করেন। বিশেষ করে পরোটা তৈরির দক্ষতার কারণে এলাকায় তিনি ‘মুথু মাস্টার’ নামে পরিচিতি লাভ করেন। কঠোর পরিশ্রম, সততা ও নিষ্ঠার জন্য মানুষের শ্রদ্ধা অর্জন করলেও, খুব কম মানুষই জানতেন তার প্রকৃত পরিচয়।

পেচিয়াম্মালের জীবনের প্রতিটি সংগ্রামের পেছনে ছিল একটাই লক্ষ্য—সন্তানের নিরাপদ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা। নিজের স্বপ্ন, পরিচয় ও ব্যক্তিগত জীবন বিসর্জন দিয়ে তিনি সন্তানের জন্য গড়ে তুলেছেন সংগ্রাম, সাহস ও আত্মত্যাগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

আজ এস. পেচিয়াম্মালের গল্প শুধু একজন নারীর সংগ্রামের ইতিহাস নয়; এটি মাতৃত্ব, আত্মত্যাগ, অধ্যবসায় এবং মানবিক দৃঢ়তার এক অনন্য দলিল। তার জীবন আমাদের শেখায়—সন্তানের কল্যাণে একজন মা প্রয়োজনে নিজের পরিচয় পর্যন্ত বদলে ফেলতে পারেন।

ছবি: এস. পেচিয়াম্মাল (মুথু মাস্টার)।