
মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক সিরাজুল আলম খান ‘দাদাভাই’-এর ৩য় মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি
নিজস্ব প্রতিবেদক জীবন দেওয়ান উজ্জ্বল
মহান স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, প্রখ্যাত রাজনৈতিক চিন্তাবিদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল আলম খান (দাদাভাই)-এর তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করেছেন তাঁর অনুসারী, রাজনৈতিক সহযোদ্ধা এবং বিভিন্ন সামাজিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীতে আয়োজিত এক শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের জাতীয় শ্রমিক জোটের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদের হাওলাদারের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা প্রয়াত এই জাতীয় নেতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় বাংলাদেশ জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মোকসেদুর রহমান লবু, বাংলাদেশের জাতীয় যুব শ্রমিক জোটের সভাপতি আউয়াল আহমেদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সিরাজুল আলম খান ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের নেপথ্যের অন্যতম কুশীলব এবং জাতীয় মুক্তি সংগ্রামের একজন দূরদর্শী সংগঠক। স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং শোষণ-বৈষম্যমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে তিনি আজীবন নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন।
বক্তারা আরও বলেন, স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রস্তুতি, রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে তোলা এবং জাতীয়তাবাদী চেতনা বিকাশে সিরাজুল আলম খানের অবদান ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তাঁর রাজনৈতিক দর্শন, চিন্তা ও আদর্শ আজও দেশের প্রগতিশীল রাজনৈতিক কর্মীদের পথ দেখায় এবং নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে।
আলোচনা সভায় নেতৃবৃন্দ তরুণ প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস ও সিরাজুল আলম খানের অবদান তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁরা বলেন, জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণে তাঁর আদর্শ ও কর্মদর্শন চর্চার কোনো বিকল্প নেই।
অনুষ্ঠানের শেষে প্রয়াত এই বীর মুক্তিযোদ্ধার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে তাঁর আদর্শ বাস্তবায়ন এবং দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন উপস্থিত নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য, সিরাজুল আলম খান ছিলেন প্রচারবিমুখ, সাদাসিধে ও অনাড়ম্বর জীবনযাপনের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। জনসম্মুখে উপস্থিতি কিংবা ব্যক্তিগত প্রচারণায় তিনি কখনোই আগ্রহী ছিলেন না। জীবনের শেষ সময়ে শ্বাসকষ্ট ও বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগে ২০২৩ সালের ৯ জুন, ৮২ বছর বয়সে ঢাকার একটি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
মৃত্যুর পরও তাঁর আদর্শ, চিন্তা ও সংগ্রামী জীবন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে রয়েছে। জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে মুক্তিযুদ্ধের এই অন্যতম সংগঠককে।
নিউজ প্রতিবেদক ইসলামী স্কলার মাওঃ জীবন দেওয়ান উজ্জ্বল, সম্পাদক ও প্রকাশক দৈনিক চেতনায় মুক্তিযোদ্ধা পত্রিকা। প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান চেতনায় মাল্টিমিডিয়া লিঃ।
জীবন দেওয়ান উজ্জ্বল 




















