Dhaka 9:43 pm, Saturday, 13 June 2026

আলোচিত নারী ময়নার পরকীয়া প্রেম:৪২ দিনে তিন বিয়ে,দুই তালাক;প্রশ্ন তুলছে সুশীল সমাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক, আমিনুল ইসলাম

টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলায় এক নারীকে কেন্দ্র করে মাত্র ৪২ দিনের ব্যবধানে তিনটি বিয়ে ও দুই তালাকের ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘ ২৩ বছরের দাম্পত্য জীবন, কথিত পরকীয়া সম্পর্ক, দ্রুত বিয়ে ও বিচ্ছেদের ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোপালপুর উপজেলার চর শিমলা গ্রামের ময়না বেগম (৪০) প্রায় ২৩ বছর আগে একই এলাকার মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের সংসারে সন্তান-সন্ততিসহ একটি পরিবার গড়ে ওঠে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রায় সাত বছর আগে ময়না বেগমের সঙ্গে পাবনা জেলার বাসিন্দা মো. আতিক মিয়ার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দীর্ঘদিন ওই সম্পর্ক চলার পর চলতি বছরের মে মাসের শুরুতে তিনি তার প্রথম স্বামী জাহাঙ্গীর হোসেনকে তালাক দেন। এরপর ২ মে মো. আতিক মিয়ার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

তবে বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ ও মতবিরোধ দেখা দেয় বলে জানা গেছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিয়ের মাত্র ৯ দিনের মাথায় আতিক মিয়া ময়না বেগমকে তালাক দেন।

ঘটনায় নতুন মোড় আসে প্রায় ২৫ দিন পর। আতিক মিয়ার দাবি, ব্যক্তিগত কাজে গোপালপুরের চর শিমলা এলাকায় গেলে তাকে জোরপূর্বক একটি বাড়িতে নিয়ে আটকে রাখা হয় এবং তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে পুনরায় বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়। তিনি অভিযোগ করেন, আদালতের হলফনামার মাধ্যমে ৫ লাখ ৫ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করে পুনরায় তাদের কাবিন সম্পন্ন করা হয়।

অন্যদিকে স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, এ ঘটনায় উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা সম্পর্কে প্রশাসনিক তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।

আইন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, ঘটনাটির সঙ্গে মুসলিম পারিবারিক আইন, তালাকের বিধান, ইদ্দতকাল পালন এবং বিয়ে নিবন্ধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জড়িত। বিশেষ করে প্রথম তালাকের পর নির্ধারিত ইদ্দতকাল যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না এবং পরবর্তী বিয়ের ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া মানা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে, ঘটনাটির বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও বক্তব্য নিতে গেলে এক সাংবাদিককে ফোনে হুমকি দেওয়া হয় এবং সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত নারী ময়না বেগমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটি নিয়ে চর শিমলা এলাকায় ব্যাপক আলোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগে কোনো পক্ষের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন নয় বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গণরায় বাস্তবায়ন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে চট্টগ্রামে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশ

আলোচিত নারী ময়নার পরকীয়া প্রেম:৪২ দিনে তিন বিয়ে,দুই তালাক;প্রশ্ন তুলছে সুশীল সমাজ

Update Time : 11:40:54 pm, Wednesday, 10 June 2026

নিজস্ব প্রতিবেদক, আমিনুল ইসলাম

টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলায় এক নারীকে কেন্দ্র করে মাত্র ৪২ দিনের ব্যবধানে তিনটি বিয়ে ও দুই তালাকের ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘ ২৩ বছরের দাম্পত্য জীবন, কথিত পরকীয়া সম্পর্ক, দ্রুত বিয়ে ও বিচ্ছেদের ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোপালপুর উপজেলার চর শিমলা গ্রামের ময়না বেগম (৪০) প্রায় ২৩ বছর আগে একই এলাকার মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের সংসারে সন্তান-সন্ততিসহ একটি পরিবার গড়ে ওঠে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রায় সাত বছর আগে ময়না বেগমের সঙ্গে পাবনা জেলার বাসিন্দা মো. আতিক মিয়ার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দীর্ঘদিন ওই সম্পর্ক চলার পর চলতি বছরের মে মাসের শুরুতে তিনি তার প্রথম স্বামী জাহাঙ্গীর হোসেনকে তালাক দেন। এরপর ২ মে মো. আতিক মিয়ার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

তবে বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ ও মতবিরোধ দেখা দেয় বলে জানা গেছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিয়ের মাত্র ৯ দিনের মাথায় আতিক মিয়া ময়না বেগমকে তালাক দেন।

ঘটনায় নতুন মোড় আসে প্রায় ২৫ দিন পর। আতিক মিয়ার দাবি, ব্যক্তিগত কাজে গোপালপুরের চর শিমলা এলাকায় গেলে তাকে জোরপূর্বক একটি বাড়িতে নিয়ে আটকে রাখা হয় এবং তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে পুনরায় বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়। তিনি অভিযোগ করেন, আদালতের হলফনামার মাধ্যমে ৫ লাখ ৫ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করে পুনরায় তাদের কাবিন সম্পন্ন করা হয়।

অন্যদিকে স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, এ ঘটনায় উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা সম্পর্কে প্রশাসনিক তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।

আইন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, ঘটনাটির সঙ্গে মুসলিম পারিবারিক আইন, তালাকের বিধান, ইদ্দতকাল পালন এবং বিয়ে নিবন্ধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জড়িত। বিশেষ করে প্রথম তালাকের পর নির্ধারিত ইদ্দতকাল যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না এবং পরবর্তী বিয়ের ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া মানা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে, ঘটনাটির বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও বক্তব্য নিতে গেলে এক সাংবাদিককে ফোনে হুমকি দেওয়া হয় এবং সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত নারী ময়না বেগমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটি নিয়ে চর শিমলা এলাকায় ব্যাপক আলোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগে কোনো পক্ষের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন নয় বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।