Dhaka 5:32 pm, Monday, 15 June 2026

অটোচালকের ২৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ:প্রতারণা মামলার অভিযুক্ত ভূয়া সাংবাদিক মিমুল গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক,মোঃ সুহেল রানা

রাজশাহী মহানগরীতে সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে এক অটোচালকের কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের হওয়া প্রতারণা মামলার আসামি পাভেল ইসলাম মিমুল (৩০) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দীর্ঘ অনুসন্ধান ও গোয়েন্দা তৎপরতার পর বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত ৯টার দিকে নগরীর মতিহার থানার কাজলা মোড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত পাভেল ইসলাম মিমুল রাজশাহী নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার তালাইমারী বাবর আলী সড়ক এলাকার বাসিন্দা এবং টুলুর ছেলে। তার বিরুদ্ধে সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে মতিহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মাদ গোলাম কবির জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জাকারিয়া সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানের একপর্যায়ে কাজলা মোড় এলাকা থেকে মামলার আসামি মিমুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী অটোচালক মঞ্জুরের দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলাটি মতিহার থানার মামলা নং-১৮ হিসেবে রুজু করা হয়েছে। মামলায় বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৪২০ (প্রতারণা), ৪০৬ (অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ) এবং ৫০৬(২) (ভয়ভীতি প্রদর্শন) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। শুক্রবার সকালে তাকে আদালতে সোপর্দ করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

যেভাবে প্রতারণার শিকার হন অটোচালক

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, অটোচালক মঞ্জুর ব্যক্তিগত প্রয়োজনে কাটাখালী থানা এলাকার একটি গ্যারেজে তার মহাজনের ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বন্ধক রেখে ২৫ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। পরে অটোরিকশাটি পুনরায় ছাড়িয়ে আনার জন্য তিনি বিভিন্নভাবে চেষ্টা করছিলেন।

গত ২১ মে রাত সাড়ে ১০টার দিকে অটোরিকশাটি ছাড়িয়ে আনার উদ্দেশ্যে তিনি তার বন্ধু মিলনের সহযোগিতা চান। এ সময় মিলনের মাধ্যমে পরিচিত হওয়া পাভেল ইসলাম মিমুল নিজেকে একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সাংবাদিক এবং জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার বিভাগীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দেন।

মঞ্জুরের অভিযোগ, সাংবাদিক পরিচয়ের সুযোগ নিয়ে মিমুল তার আস্থা অর্জন করেন এবং অটোরিকশাটি দ্রুত ছাড়িয়ে এনে দেওয়ার আশ্বাস দেন। তার কথায় বিশ্বাস করে মঞ্জুর নগদ ২৫ হাজার টাকা মিমুলের হাতে তুলে দেন। কিন্তু টাকা নেওয়ার পর তিনি অটোরিকশা নিয়ে ফিরে আসেননি। গভীর রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করেও তার কোনো খোঁজ না পেয়ে মঞ্জুর উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।

পরবর্তীতে মিমুলের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। এতে প্রতারণার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।

টাকা ফেরত চাইলে হুমকির অভিযোগ

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, পরদিন ২২ মে রাত সাড়ে ৮টার দিকে কোনোভাবে মিমুলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান। শুধু তাই নয়, ভুক্তভোগীকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকিও দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ঘটনার পর নিরুপায় হয়ে অটোচালক মঞ্জুর মতিহার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে।

দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর গ্রেপ্তার

মামলা দায়েরের পর থেকেই অভিযুক্ত মিমুল আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এরপর বৃহস্পতিবার রাতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় মতিহার থানা পুলিশ।

পুলিশের দাবি, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ভুক্তভোগী পরিবারের স্বস্তি

অভিযুক্তের গ্রেপ্তারের খবরে ভুক্তভোগী অটোচালক মঞ্জুর ও তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের কষ্টার্জিত অর্থ ফেরত পাওয়ার পাশাপাশি প্রতারণার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত হবে।

স্থানীয় সচেতন মহলও এ ধরনের প্রতারণার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সাধারণ মানুষকে অপরিচিত ব্যক্তির পরিচয় ও দাবি যাচাই-বাছাই করে আর্থিক লেনদেন করার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সাংবাদিকতার মতো সম্মানজনক পেশার পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

বাগমারার গোয়ালকান্দিতে মাদকের বিস্তার: প্রশাসনের নজরদারি দুর্বলতার অভিযোগ

অটোচালকের ২৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ:প্রতারণা মামলার অভিযুক্ত ভূয়া সাংবাদিক মিমুল গ্রেপ্তার

Update Time : 10:34:09 pm, Thursday, 11 June 2026

নিজস্ব প্রতিবেদক,মোঃ সুহেল রানা

রাজশাহী মহানগরীতে সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে এক অটোচালকের কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের হওয়া প্রতারণা মামলার আসামি পাভেল ইসলাম মিমুল (৩০) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দীর্ঘ অনুসন্ধান ও গোয়েন্দা তৎপরতার পর বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত ৯টার দিকে নগরীর মতিহার থানার কাজলা মোড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত পাভেল ইসলাম মিমুল রাজশাহী নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার তালাইমারী বাবর আলী সড়ক এলাকার বাসিন্দা এবং টুলুর ছেলে। তার বিরুদ্ধে সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে মতিহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মাদ গোলাম কবির জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জাকারিয়া সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানের একপর্যায়ে কাজলা মোড় এলাকা থেকে মামলার আসামি মিমুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী অটোচালক মঞ্জুরের দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলাটি মতিহার থানার মামলা নং-১৮ হিসেবে রুজু করা হয়েছে। মামলায় বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৪২০ (প্রতারণা), ৪০৬ (অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ) এবং ৫০৬(২) (ভয়ভীতি প্রদর্শন) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। শুক্রবার সকালে তাকে আদালতে সোপর্দ করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

যেভাবে প্রতারণার শিকার হন অটোচালক

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, অটোচালক মঞ্জুর ব্যক্তিগত প্রয়োজনে কাটাখালী থানা এলাকার একটি গ্যারেজে তার মহাজনের ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বন্ধক রেখে ২৫ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। পরে অটোরিকশাটি পুনরায় ছাড়িয়ে আনার জন্য তিনি বিভিন্নভাবে চেষ্টা করছিলেন।

গত ২১ মে রাত সাড়ে ১০টার দিকে অটোরিকশাটি ছাড়িয়ে আনার উদ্দেশ্যে তিনি তার বন্ধু মিলনের সহযোগিতা চান। এ সময় মিলনের মাধ্যমে পরিচিত হওয়া পাভেল ইসলাম মিমুল নিজেকে একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সাংবাদিক এবং জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার বিভাগীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দেন।

মঞ্জুরের অভিযোগ, সাংবাদিক পরিচয়ের সুযোগ নিয়ে মিমুল তার আস্থা অর্জন করেন এবং অটোরিকশাটি দ্রুত ছাড়িয়ে এনে দেওয়ার আশ্বাস দেন। তার কথায় বিশ্বাস করে মঞ্জুর নগদ ২৫ হাজার টাকা মিমুলের হাতে তুলে দেন। কিন্তু টাকা নেওয়ার পর তিনি অটোরিকশা নিয়ে ফিরে আসেননি। গভীর রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করেও তার কোনো খোঁজ না পেয়ে মঞ্জুর উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।

পরবর্তীতে মিমুলের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। এতে প্রতারণার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।

টাকা ফেরত চাইলে হুমকির অভিযোগ

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, পরদিন ২২ মে রাত সাড়ে ৮টার দিকে কোনোভাবে মিমুলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান। শুধু তাই নয়, ভুক্তভোগীকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকিও দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ঘটনার পর নিরুপায় হয়ে অটোচালক মঞ্জুর মতিহার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে।

দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর গ্রেপ্তার

মামলা দায়েরের পর থেকেই অভিযুক্ত মিমুল আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এরপর বৃহস্পতিবার রাতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় মতিহার থানা পুলিশ।

পুলিশের দাবি, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ভুক্তভোগী পরিবারের স্বস্তি

অভিযুক্তের গ্রেপ্তারের খবরে ভুক্তভোগী অটোচালক মঞ্জুর ও তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের কষ্টার্জিত অর্থ ফেরত পাওয়ার পাশাপাশি প্রতারণার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত হবে।

স্থানীয় সচেতন মহলও এ ধরনের প্রতারণার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সাধারণ মানুষকে অপরিচিত ব্যক্তির পরিচয় ও দাবি যাচাই-বাছাই করে আর্থিক লেনদেন করার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সাংবাদিকতার মতো সম্মানজনক পেশার পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।