Dhaka 5:50 pm, Monday, 15 June 2026

সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত রোগী, গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে সক্রিয় দালাল সিন্ডিকেট

নিজস্ব প্রতিবেদক: মিসেস চামেলী আক্তার

গাইবান্ধা সদর জেনারেল হাসপাতালে দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের বিভিন্নভাবে ভুল তথ্য দিয়ে, ভয়ভীতি দেখিয়ে এবং প্রলোভন দেখিয়ে পাশের বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এতে একদিকে সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ রোগীরা, অন্যদিকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

সদর উপজেলার বাদিয়াখালী এলাকার এক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগীর স্বজন অভিযোগ করেন, আহত ব্যক্তিকে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর হাসপাতালের গেটে অবস্থানরত এক ব্যক্তি তাদের জানান যে হাসপাতালের এক্স-রে মেশিন নষ্ট। পরে ওই ব্যক্তির পরামর্শে হাসপাতালের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে এক্স-রে ও পায়ে প্লাস্টার করাতে তাদের কাছ থেকে ৭ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হয়। পরবর্তীতে তারা জানতে পারেন, সদর হাসপাতালে একই ধরনের সেবা মাত্র ১৫০ টাকায় পাওয়া যায় এবং হাসপাতালের এক্স-রে মেশিনও সচল ছিল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক নারী কর্মচারী জানান, দালাল চক্রের সঙ্গে হাসপাতালের কিছু ওয়ার্ডবয়, আয়া ও আনসার সদস্যের যোগসাজশ রয়েছে। তাদের মাধ্যমে রোগীদের তথ্য দালালদের কাছে পৌঁছে যায়। এমনকি ভর্তি রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অপারেশনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলে কৌশলে বেসরকারি ক্লিনিকে পাঠানো হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে গাইবান্ধার সিভিল সার্জন বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। দালালদের একটি তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। খুব শিগগিরই মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

ভুক্তভোগীদের দাবি, সরকার গরিব মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে হাসপাতালে আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ করেছে। কিন্তু দালাল চক্রের কারণে সাধারণ মানুষ সেই সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তারা দালালদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং হাসপাতাল চত্বরে তাদের স্থায়ীভাবে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, হাসপাতালকে দালালমুক্ত করতে স্বাস্থ্য বিভাগ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। অন্যথায় সরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রতি মানুষের আস্থা আরও কমে যেতে পারে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

বাগমারার গোয়ালকান্দিতে মাদকের বিস্তার: প্রশাসনের নজরদারি দুর্বলতার অভিযোগ

সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত রোগী, গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে সক্রিয় দালাল সিন্ডিকেট

Update Time : 12:16:05 pm, Monday, 15 June 2026

নিজস্ব প্রতিবেদক: মিসেস চামেলী আক্তার

গাইবান্ধা সদর জেনারেল হাসপাতালে দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের বিভিন্নভাবে ভুল তথ্য দিয়ে, ভয়ভীতি দেখিয়ে এবং প্রলোভন দেখিয়ে পাশের বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এতে একদিকে সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ রোগীরা, অন্যদিকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

সদর উপজেলার বাদিয়াখালী এলাকার এক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগীর স্বজন অভিযোগ করেন, আহত ব্যক্তিকে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর হাসপাতালের গেটে অবস্থানরত এক ব্যক্তি তাদের জানান যে হাসপাতালের এক্স-রে মেশিন নষ্ট। পরে ওই ব্যক্তির পরামর্শে হাসপাতালের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে এক্স-রে ও পায়ে প্লাস্টার করাতে তাদের কাছ থেকে ৭ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হয়। পরবর্তীতে তারা জানতে পারেন, সদর হাসপাতালে একই ধরনের সেবা মাত্র ১৫০ টাকায় পাওয়া যায় এবং হাসপাতালের এক্স-রে মেশিনও সচল ছিল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক নারী কর্মচারী জানান, দালাল চক্রের সঙ্গে হাসপাতালের কিছু ওয়ার্ডবয়, আয়া ও আনসার সদস্যের যোগসাজশ রয়েছে। তাদের মাধ্যমে রোগীদের তথ্য দালালদের কাছে পৌঁছে যায়। এমনকি ভর্তি রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অপারেশনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলে কৌশলে বেসরকারি ক্লিনিকে পাঠানো হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে গাইবান্ধার সিভিল সার্জন বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। দালালদের একটি তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। খুব শিগগিরই মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

ভুক্তভোগীদের দাবি, সরকার গরিব মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে হাসপাতালে আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ করেছে। কিন্তু দালাল চক্রের কারণে সাধারণ মানুষ সেই সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তারা দালালদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং হাসপাতাল চত্বরে তাদের স্থায়ীভাবে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, হাসপাতালকে দালালমুক্ত করতে স্বাস্থ্য বিভাগ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। অন্যথায় সরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রতি মানুষের আস্থা আরও কমে যেতে পারে।