Dhaka 7:03 pm, Thursday, 25 June 2026

তাজিয়া ইসলামের মূল শিক্ষার পরিপন্থী — আল্লামা ইমাম হায়াত

চট্টগ্রাম বিশেষ প্রতিনিধি: আহমদ রেজা

ইসলামের মূলধারা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আদর্শের পুনর্জাগরণকারী, বিশ্ব সুন্নী আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা এবং বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আল্লামা ইমাম হায়াত তাজিয়া মিছিলের কঠোর বিরোধিতা করে বলেছেন, মহররম হলো ঈমানি শোক, কারবালার শাহাদাতের স্মরণ এবং সেই আত্মত্যাগের আদর্শ বাস্তবায়নের দৃঢ় অঙ্গীকারের মাস।

তিনি বলেন, মহররম মাসে কৃত্রিম কাঠামো নির্মাণ করে পবিত্র ব্যক্তি বা স্থানের প্রতীকী উপস্থাপন ইসলামের মৌলিক দর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাঁর ভাষায়, তাজিয়া হলো প্রতীকী মাজার বা কবর নির্মাণের একটি প্রথা, যা ইসলামের প্রকৃত শিক্ষার পরিপন্থী।

আল্লামা ইমাম হায়াত বলেন, “তাজিয়া মানে বাতিল শিয়াবাদ। তাজিয়া মানে পবিত্র আহলে রাসূল (আলাইহিমুস সালাম)-এর অবমাননা।” তিনি দাবি করেন, তাজিয়ার মাধ্যমে শোক প্রকাশ প্রকৃত ভালোবাসা বা মহব্বতের বহিঃপ্রকাশ নয়; বরং এটি আহলে বাইতের প্রতি অসম্মান এবং ঈমানবিরোধী বিভ্রান্তির অংশ।

তিনি আরও বলেন, তাজিয়া মিছিল ও সংশ্লিষ্ট আচার-অনুষ্ঠান ইসলামের নামে প্রচলিত একটি বানোয়াট সংস্কৃতি, যা মুসলিম সমাজকে বিভ্রান্তির দিকে ঠেলে দেয়। তাঁর মতে, ইসলামে কৃত্রিম বা প্রতীকী উপাসনামূলক কাঠামোর কোনো স্থান নেই।

তবে আল্লামা ইমাম হায়াত ১০ মহররমের শাহাদাতে কারবালা দিবসকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পালনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এ দিনকে শুধু আশুরা হিসেবে নয়, বরং “মুসলিম মিল্লাতের মহান জাতীয় ঈমানি শহীদ দিবস” এবং “মানবতার মুক্তির মহা শাহাদাত দিবস” হিসেবে পালন করা উচিত।

তিনি তাজিয়া ও মাতমের পরিবর্তে কারবালার প্রকৃত শিক্ষা—সত্য, ন্যায়, ঈমান, মানবিক মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার চেতনাকে ধারণ করে শান্তিপূর্ণ র‌্যালি, আলোচনা সভা ও সমাবেশ আয়োজনের আহ্বান জানান।

আল্লামা ইমাম হায়াত বলেন, “হকের শত্রু ইয়াজিদি ও মুলুকিয়তবাদী ধারা যেমন বাতিল, তেমনি শিয়াবাদের ভ্রান্ত ধারাও বাতিল। তাজিয়া বা পবিত্র আহলে রাসূলের নামে নকল মাজার ও মণ্ডপ নির্মাণ তাঁদের মর্যাদার পরিপন্থী এবং ইসলামের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়।”

তিনি বলেন, কারবালার প্রকৃত শিক্ষা হলো সত্য ও ন্যায়ের জন্য আত্মত্যাগের আদর্শকে ধারণ করা। সেই চেতনাকে সমাজে প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই শাহাদাতে কারবালার প্রতি যথার্থ সম্মান প্রদর্শন করা সম্ভব।

পরিশেষে তিনি বিশ্ব সুন্নী আন্দোলন ও বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লব আয়োজিত আগামী ১০ মহররমের শাহাদাতে কারবালা দিবসের কর্মসূচি সফল করতে দেশব্যাপী মুমিন মুসলমানদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।

প্রেরক:

শেখ রায়হান রাহবার

মহাসচিব, বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ (World Humanity Revolution Bangladesh)

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ঘনঘন লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে মৌচাকে বিক্ষোভ পল্লী বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও ও স্মারকলিপি প্রদান

তাজিয়া ইসলামের মূল শিক্ষার পরিপন্থী — আল্লামা ইমাম হায়াত

Update Time : 03:54:28 pm, Thursday, 25 June 2026

চট্টগ্রাম বিশেষ প্রতিনিধি: আহমদ রেজা

ইসলামের মূলধারা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আদর্শের পুনর্জাগরণকারী, বিশ্ব সুন্নী আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা এবং বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আল্লামা ইমাম হায়াত তাজিয়া মিছিলের কঠোর বিরোধিতা করে বলেছেন, মহররম হলো ঈমানি শোক, কারবালার শাহাদাতের স্মরণ এবং সেই আত্মত্যাগের আদর্শ বাস্তবায়নের দৃঢ় অঙ্গীকারের মাস।

তিনি বলেন, মহররম মাসে কৃত্রিম কাঠামো নির্মাণ করে পবিত্র ব্যক্তি বা স্থানের প্রতীকী উপস্থাপন ইসলামের মৌলিক দর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাঁর ভাষায়, তাজিয়া হলো প্রতীকী মাজার বা কবর নির্মাণের একটি প্রথা, যা ইসলামের প্রকৃত শিক্ষার পরিপন্থী।

আল্লামা ইমাম হায়াত বলেন, “তাজিয়া মানে বাতিল শিয়াবাদ। তাজিয়া মানে পবিত্র আহলে রাসূল (আলাইহিমুস সালাম)-এর অবমাননা।” তিনি দাবি করেন, তাজিয়ার মাধ্যমে শোক প্রকাশ প্রকৃত ভালোবাসা বা মহব্বতের বহিঃপ্রকাশ নয়; বরং এটি আহলে বাইতের প্রতি অসম্মান এবং ঈমানবিরোধী বিভ্রান্তির অংশ।

তিনি আরও বলেন, তাজিয়া মিছিল ও সংশ্লিষ্ট আচার-অনুষ্ঠান ইসলামের নামে প্রচলিত একটি বানোয়াট সংস্কৃতি, যা মুসলিম সমাজকে বিভ্রান্তির দিকে ঠেলে দেয়। তাঁর মতে, ইসলামে কৃত্রিম বা প্রতীকী উপাসনামূলক কাঠামোর কোনো স্থান নেই।

তবে আল্লামা ইমাম হায়াত ১০ মহররমের শাহাদাতে কারবালা দিবসকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পালনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এ দিনকে শুধু আশুরা হিসেবে নয়, বরং “মুসলিম মিল্লাতের মহান জাতীয় ঈমানি শহীদ দিবস” এবং “মানবতার মুক্তির মহা শাহাদাত দিবস” হিসেবে পালন করা উচিত।

তিনি তাজিয়া ও মাতমের পরিবর্তে কারবালার প্রকৃত শিক্ষা—সত্য, ন্যায়, ঈমান, মানবিক মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার চেতনাকে ধারণ করে শান্তিপূর্ণ র‌্যালি, আলোচনা সভা ও সমাবেশ আয়োজনের আহ্বান জানান।

আল্লামা ইমাম হায়াত বলেন, “হকের শত্রু ইয়াজিদি ও মুলুকিয়তবাদী ধারা যেমন বাতিল, তেমনি শিয়াবাদের ভ্রান্ত ধারাও বাতিল। তাজিয়া বা পবিত্র আহলে রাসূলের নামে নকল মাজার ও মণ্ডপ নির্মাণ তাঁদের মর্যাদার পরিপন্থী এবং ইসলামের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়।”

তিনি বলেন, কারবালার প্রকৃত শিক্ষা হলো সত্য ও ন্যায়ের জন্য আত্মত্যাগের আদর্শকে ধারণ করা। সেই চেতনাকে সমাজে প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই শাহাদাতে কারবালার প্রতি যথার্থ সম্মান প্রদর্শন করা সম্ভব।

পরিশেষে তিনি বিশ্ব সুন্নী আন্দোলন ও বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লব আয়োজিত আগামী ১০ মহররমের শাহাদাতে কারবালা দিবসের কর্মসূচি সফল করতে দেশব্যাপী মুমিন মুসলমানদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।

প্রেরক:

শেখ রায়হান রাহবার

মহাসচিব, বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ (World Humanity Revolution Bangladesh)