Dhaka 12:45 am, Saturday, 4 July 2026

প্রতারণার মাধ্যমে মোবাইলে প্রেম, অতঃপর বিয়ে! ৫লক্ষ টাকা যৌতুক না দেয়ায় আদালতে মামলা করে বাদী হারালেন মান সম্মান সহ সবর্ত্র! বিচারের বাণী কাঁদে নিরবে!

স্টাফ রিপোর্টারঃ- প্রেম না মানে জাত ধর্ম, না মানে ধনী-গরিব। প্রেম কিন্তু স্বর্গীয়। কিন্তু বর্তমান প্রেম- ভালবাসার শুরুটাই হলো দেহ লেনা দেনা! এসবের পিছনে অনেকটা তাদের ভুক্তভোগী পরিবারই দায়ী।
বিয়ের পর স্বামী ও খালার যৌতুকের দাবীতে নানান নির্যাতনের কারণে আদালতে মামলা করে বিপাকে পড়েছে এক নববধু। মোবাইল ফোনের সম্পর্কের বিয়ে ফলে রাফি বেগম জীবনে নেমে আসে কাল বৈখাখী ঝড়।
জানাযায়, সিলেটের ওসমানী নগর উপজেলার চানপুর গ্রামের শেখ মোহাম্মদ ছিদ্দিক আলীর পুত্র শেখ মোহাম্মদ হায়দার আলীর তার এক আত্মীয় কাছ থেকে মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার সালন গ্রামের হাজী চান মিয়ার কন্যা রাফি বেগমের মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ করে রং নাম্বারে আত্মীয় সেজে দীর্ঘদিন আলাপের এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে গভীর প্রেমের সখ্যতা গড়ে ওঠে।
প্রেমিকের কাছে দূর্বল হয়ে পড়ে প্রেমিকা। কিন্তু তার প্রেমিক তার মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে বলে
সে একজন সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। তার বাড়ী- গাড়ী ও অঢেল সম্পদ রয়েছে৷ এসব নানান চল-চাতুরীর মাধ্যমে মেয়েটিকে নানাভাবে ফুসলিয়ে বিগত ২০২৫ সালের ৯ এপ্রিল হবিগঞ্জ নোটারী পাবলিকের কার্যালয়ে ১৯৯৫ নং রেজি:কৃত এফিডেভিট মূলে বিয়ে করে। এ বিয়ের অঙ্গিকার নামাও হয়। এভিডেভিটের মাধ্যমে বিয়ের পর প্রেমিক তার প্রেমিকাকে স্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে গ্রামের বাড়ি চানপুর গ্রামে নিয়ে যায়। এরপর তারা প্রেমিক জুটি সেখানে স্বামী-স্ত্রী হিসাবে বসবাস করে। কিন্তু বিয়ের কয়েক মাস যেতে না যেতেই মেয়ে তার পিত্রালয়ে গেলে চলতি বছরের ২১ এপ্রিল মৌলভীবাজার নোটারী পাবলিক এর কার্যালয়ে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে৷
তবে, মেয়েটি ঘটনাটি মেনে নিতে পারেনি! সে বাড়িতে এসে মান সম্মান আর ইজ্জতের ভয়ে পরদিন আবারো প্রেমিক স্বামীর কাছে। সেখানে গিয়ে পূণরায় স্বামীর সাথে সংসার করতে তাকে। এতে, গত ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ইং তারিখে হবিগঞ্জ আদালতে উপস্থিত হয়ে মেয়েটি তার তালাকের নোর্টিশ এফিডেভিটের মাধ্যমে প্রত্যাহার করে। যাহার নাম্বার ২৫১। পরে উভয় পক্ষের আত্মীয় স্বজনদের সম্মতিক্রমে দু’পক্ষের লেখকজনের উপস্থিতিতে পারিবারিক ভাবে বিগত ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসের ২৬ তারিখ শরিয়ত মোতাবেক ৬ লক্ষ টাকার দেনমোহর সাবস্তক্রমে রেজিষ্ট্রিকৃত নিকাহনামা মূলে আবার তাদের বিয়ে হয়। যার বহি নং ৩৫, পৃষ্ঠা নং ৯, ক্রমিক নং ৯, ২০২৫ইংরেজী। বিয়ের আসবাবপত্র ও মালামাল ক্রয় করার জন্য মেয়ের বাবা মেয়ের স্বামী শেখ হায়দার মিয়ার নিকট নগদ নগদ ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা দেন। তবে, তিনি অভিযোগ করে বলেন, তার জামাতা আজ পর্যন্ত এই টাকা দিয়ে কোন প্রকার মালামল ক্রয় না করে মাদক সেবন করে আর মোবাইল ফোনে অনলাইনে জুয়া খেলা নিয়ে দিন রাত মগ্ন থাকে। এতে প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার টাকা অসৎ পথে ব্যয় করে। এর প্রতিবাদ করলেই শুরু হয় তার স্ত্রীর উপর অমানুষিক নির্যাতন, খারাপ ভাষায় গালিগালাজ সহ শারিরীক ও মানুষিক অত্মাচার করে। বর্তমানে তারা মৌলভীবাজার ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের দুটি মামলায় আসামি হিসেবে তার আপন খালা রানী চৌধুরীর আউশকান্দি খান ম্যানশনের চতুর্থ তলা নিজস্ব ভবনে নবীগঞ্জ বসবাস করে আসছে।
এ ব্যাপারে মামলার অভিযোগে আরো জানাযায়, বিয়ের সময় মেয়ের বাবার বাড়ি থেকে ১ ভরি ওজনের গলার স্বর্ণের চেইন, ১ ভরি ওজনের হাতের স্বর্ণের বেসলেট, ৮ আনা ওজনের স্বর্ণের আংটি সহ ৮ আনা ওজনের এক জোড়া কানের দোল সহ মোট তিন ভরি স্বর্ণালংকার যার বাজার মূল্য বর্তমানে প্রায় ৬ লক্ষাধিক টাকার উপরে।
অপরদিকে, মাদকাসক্ত স্বামীকে মাদক সেবন ও জুয়া খেলায় স্ত্রী বাঁধা দিলেই সইতে হয় নানান নির্যাতন।
এ ব্যাপারে মামলার অভিযোগে উল্লেখ ও বাদী
রাফি বেগম এর সাথে কথা হলে তিনি জানান, বিয়ের কিছু দিন পরপরই তার স্বামী হায়দার এর খালা নবীগঞ্জ উপজেলার কুর্শি গ্রামের নাঈম উল্লাহর স্ত্রী রানী চৌধুরী (৫০) এর কথা মতো আমার কাছ থেকে আমার হাত, কান, নাক ও গলা থেকে স্বর্ণ নিয়ে বিক্রয় করে রানী চৌধুরীর কাছে স্বর্ণের টাকা জমা রাখেন। ঐ টাকা আজওবদি রানী চৌধুরীর কাছেই জমা রয়েছে৷
অপরদিকে, রাফি বেগম কয়েকদিন পর পর বলে তর বাবার বাড়ি থেকে আরো টাকা এনে দে! তার কথা মতো টাকাও এনে দেয়া হয় কয়েক বার। কিন্তু সে সংসারে কোন খরচ না করে অনলাইনে জুয়া আর মাদক সেবন করে সব টাকা নষ্ট করে দেয়। সংসার জীবনে অমানবিক নির্যাতন সহ্য করে বাবার বাড়িতে থেকে দফায় দফায় টাকা এনে দিয়েও কোন ভাবেই শান্তিতে থাকতে সংসার করতে দিলনা আমার স্বামী হায়দার ও তার খালা রানি৷ বিয়ের কিছুদিন পর থেকে টাকার জন্য স্বামী ও তার খালা মিলে একের পর এক নির্যাতন করেই আসছিল।
অবশেষে, সকল নির্যাতন সহ্য করে মান সম্মান আর ইজ্জতের ভয়ে সংসারটি ঠিকিয়ে রাখতে গিয়ে একের পর এক নির্যাতন সইতে হয়েছে। এর মধ্যে একদিন রাফির স্বামী ও তার খালা বলে কাতারের ভিসা পাইছি, তুমার স্বামীকে বিদেশ পাঠাতে হলে অনেক টাকার প্রয়োজন। তাই তুমি তুমার বাবার বাড়ি থেকে ৫ লক্ষ টাকা লাগবে। কাতার গেলে ভাল টাকা রুজি করা যাবে। মেয়েটি তাদের কথা শুনে মেয়েটি এতো টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে উল্লেখিত তারিখ ও সময়ে মেয়েটিকে বেধরক মারপিট করে চুল ধরে টানা হেছড়া করে থাপ্পাইয়া মাটিতে ফেলে মারতে থাকে। মারে আর বলে টাকা না নিয়ে আসলে আমার বাড়িতে তর জায়গা নাই!

মামলার এজাহারে উল্লেখিত স্বাক্ষীগণের সামনে বলে ৫ লক্ষ টাকা না দিলে আমার ঘরে তকে আর তুলবেনা! তকে নিয়ে আমি আর সংসার করবোনা। বরণ পোষনও দেবোনা, আরো বেশী টাকা যৌতুক নিয়ে অন্যত্র বিয়ে করবে বলে চলে যায়। এবং পরদিন (২৭) এপ্রিল স্ত্রীর ব্যক্তিগত ছবি ও পরিবারের অনেক স্বামী- স্ত্রীর ছবি ও ভিডিও টিকটক, ফেসইবুকে ও স্থানীয় সামাজিক গণমাধ্যমে ছেড়ে দিয়ে মেয়ের পরিবারের মান সম্মান নষ্ট করেছে তার স্বামী। পরবর্তীতে আরও বড় দুর্ঘটনা গোটাবে বলে পরিবারের সদস্যদের অনেক হুমকি ধমকি দেয়।

২৭ এপ্রিল স্বামী- স্ত্রীর ব্যাক্তিগত ও গোপনিয় ছবি, ভিডিও, ফেইসবুক ও টিকটকে ছেড়ে মেয়ে সহ মেয়ের পরিবার ও আত্মীয় স্বজনদের মান সম্মান ক্ষুন্ন করছে তার স্বামী।
এ ব্যাপারে রাফি বেগম ও তার পরিবারের লোকজন বলেন, মান সম্মানের ভয়ে আমরা নিরব থাকার পরও সে একের পর এক মানহানি করেই যাচ্ছে। অবশেষে নিরুপায় হয়ে গত মে মাসের ৪ তারিখ চীফ লিগ্যাল এইড অফিসার মৌলভীবাজার-এ আইনগত সহায়তা প্রদান ও আপোষ মিমাংসার মাধ্যমে বিরোধ নিস্পত্তিতে এক মত না হওয়াতে আদালত ২০২৬ সালের জুন মাসের ১৫ তারিখ চীফ লিগ্যাল এইড অফিসার মধ্যস্থতা প্রক্রিয়া ব্যর্থ হওয়া সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রদান করে বাদীকে আদালতে হাজির হয়ে মামলা দায়েরের পরামর্শ দেন। আপোষের চেষ্টায় ব্যার্থ হয়ে গত জুন মাসের ২৩ তারিখ ন্যায় বিচার চেয়ে বিজ্ঞ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। এই মামলার খবর পেয়ে সে আরো বেপরোয়া হয়ে ফেইসবুকে স্বামী- স্ত্রীর একান্ত গোপনীয় ছবি ও ভিডিও পোষ্ট করে সমাজে হেয় পতিপন্ন করার চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। বউ নির্যাতন ও যৌতুকের মামলা মৌলভীবাজার বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রট আদালতের মামলায় আসামী হায়দার আলী, তার ছোট ভাই হৃদয় আহমদ ও মা ফরিদা বেগমকে নিয়ে তার খালা রাণী বেগম এর বাসা খাঁন ম্যানশনের চতুর্থ তলায় নিজস্ব দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছে।

অপরদিকে, ফেইসবুকে অষ্টিল ও মানহানিকর ভাষা প্রয়োগ করে স্বামী- স্ত্রীর ছবি ও ভিডিও পোষ্ট করে সমাজে মানহানি করায় বিজ্ঞ সাইবার ট্রাইব্যাল আদালতে মামলা দায়েরের চেষ্টা চলছে বলেও জানান ভুক্তভোগী পরিবারের লোকজন। এ বিষয়ে সু- বিচার প্রার্থী হয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তার আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভোক্তভোগী পরিবারের লোকজন৷

প্রেরক
বুলবুল আহমেদ
নবীগঞ্জ হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
মোবাইল নাম্বার 01716796398
তারিখ:- ২ জুলাই ২০২৬ইংরেজী

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও জনবলের সংকট সাধারণ রোগীদের চরম ভোগান্তি। মোঃ শাহ্ আলম সরকার স্টাফ রিপোর্টার। গাজীপুর কালিয়াকৈর উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও জনবলের দীর্ঘদিনের নানা সংকট, হসপিটালে জেনারেটর না থাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় জরুরি চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হওয়া এক দালালচক্রের তৎপরতায় সাধারণ রোগীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন প্রতিদিন কয়েকশ রোগী চিকিৎসা সেবা নিতে এলেও সীমিত জনবল ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুবিধার অভাবে কাঙ্ক্ষিত সেবা মিলছে না বলে অভিযোগ করেছেন দূর দূরান্ত থেকে আসা রোগী ও স্বজনরা। ২ জুলাই রোজ বৃহস্পতিবার হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, বহির্বিভাগে সকাল থেকেই রোগীদের দীর্ঘ সারি হয়ে দাঁড়িয়ে আছে রোগীরা একজন চিকিৎসককে একাধিক বিভাগের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। ফলে রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। শিশু, বয়স্ক ও নারী রোগীদের অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে চিকিৎসকের সাক্ষাৎ মিলেনা। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৫০ শয্যার এ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের অনুমোদিত পদের মধ্যে বর্তমানে ১০টি পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া তৃতীয় শ্রেণির প্রায় ৪০ শতাংশ এবং চতুর্থ শ্রেণির প্রায় ৫০ শতাংশ পদ দীর্ঘদিন ধরে খালি রয়েছে। ফলে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। সবচেয়ে বড় সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থার অভাব। হাসপাতালে কোনো জেনারেটর না থাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলে জরুরি বিভাগ, নেবুলাইজার, অক্সিজেন সাপোর্টসহ বিদ্যুৎনির্ভর বিভিন্ন চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয়। অনেক সময় রোগীর স্বজনদের হাতপাখা দিয়ে রোগীদের বাতাস করতে দেখা যায়। এতে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়। রেহেনা আক্তার নামের এক রোগী বলেন, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। অনেক সময় প্রয়োজনীয় চিকিৎসক পাওয়া যায় না। পরে বাধ্য হয়ে বেসরকারি হাসপাতালে যেতে হয়। এতে আমাদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুল বাসেত বলেন, এত বড় উপজেলার একমাত্র সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক ও জনবল সংকট দীর্ঘদিনের। দ্রুত শূন্য পদে নিয়োগ একটি জেনারেটর স্থাপন করা না হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। এদিকে হাসপাতালকে দালালমুক্ত রাখতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ১ জুলাই থেকে হাসপাতালের ১০ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোনো দালালের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ.এইচ.এম. ফখরুল হোসেন বলেন, কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক, জনবল ও জেনারেটর সংকটের বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। শূন্য পদ পূরণ জেনারেটর বরাদ্দের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে জরুরি ভিত্তিতে চিঠি পাঠানো হবে। হাসপাতালের সেবায় কোনো ধরনের অনিয়ম, দালালচক্রের তৎপরতা বরদাশত করা হবে না। ইতোমধ্যে হাসপাতালের নিরাপত্তা ও দালাল নিয়ন্ত্রণে ১০ জন আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাদিয়া তাসনিম মুনমুন বলেন, চিকিৎসক ও জনবল সংকট সত্ত্বেও সীমিত জনবল নিয়ে হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে। শূন্য পদ পূরণ জেনারেটর বরাদ্দের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে প্রয়োজনীয় চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা আন্তরিকভাবে কাজ করছেন। হাসপাতালকে দালালমুক্ত রাখতে প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা গেছে, প্রতিদিন এ হাসপাতালে জরুরি প্রসূতি সেবা, নবজাতক ও শিশু চিকিৎসা, অক্সিজেন সাপোর্ট, টিকাদান, বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হয়। কিন্তু জনবল সংকট ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে সেবার মান ধরে রাখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

রাজপাড়ায় র‍্যাব-৫ এর অভিযান ১ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার

প্রতারণার মাধ্যমে মোবাইলে প্রেম, অতঃপর বিয়ে! ৫লক্ষ টাকা যৌতুক না দেয়ায় আদালতে মামলা করে বাদী হারালেন মান সম্মান সহ সবর্ত্র! বিচারের বাণী কাঁদে নিরবে!

Update Time : 10:35:11 am, Friday, 3 July 2026

স্টাফ রিপোর্টারঃ- প্রেম না মানে জাত ধর্ম, না মানে ধনী-গরিব। প্রেম কিন্তু স্বর্গীয়। কিন্তু বর্তমান প্রেম- ভালবাসার শুরুটাই হলো দেহ লেনা দেনা! এসবের পিছনে অনেকটা তাদের ভুক্তভোগী পরিবারই দায়ী।
বিয়ের পর স্বামী ও খালার যৌতুকের দাবীতে নানান নির্যাতনের কারণে আদালতে মামলা করে বিপাকে পড়েছে এক নববধু। মোবাইল ফোনের সম্পর্কের বিয়ে ফলে রাফি বেগম জীবনে নেমে আসে কাল বৈখাখী ঝড়।
জানাযায়, সিলেটের ওসমানী নগর উপজেলার চানপুর গ্রামের শেখ মোহাম্মদ ছিদ্দিক আলীর পুত্র শেখ মোহাম্মদ হায়দার আলীর তার এক আত্মীয় কাছ থেকে মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার সালন গ্রামের হাজী চান মিয়ার কন্যা রাফি বেগমের মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ করে রং নাম্বারে আত্মীয় সেজে দীর্ঘদিন আলাপের এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে গভীর প্রেমের সখ্যতা গড়ে ওঠে।
প্রেমিকের কাছে দূর্বল হয়ে পড়ে প্রেমিকা। কিন্তু তার প্রেমিক তার মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে বলে
সে একজন সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। তার বাড়ী- গাড়ী ও অঢেল সম্পদ রয়েছে৷ এসব নানান চল-চাতুরীর মাধ্যমে মেয়েটিকে নানাভাবে ফুসলিয়ে বিগত ২০২৫ সালের ৯ এপ্রিল হবিগঞ্জ নোটারী পাবলিকের কার্যালয়ে ১৯৯৫ নং রেজি:কৃত এফিডেভিট মূলে বিয়ে করে। এ বিয়ের অঙ্গিকার নামাও হয়। এভিডেভিটের মাধ্যমে বিয়ের পর প্রেমিক তার প্রেমিকাকে স্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে গ্রামের বাড়ি চানপুর গ্রামে নিয়ে যায়। এরপর তারা প্রেমিক জুটি সেখানে স্বামী-স্ত্রী হিসাবে বসবাস করে। কিন্তু বিয়ের কয়েক মাস যেতে না যেতেই মেয়ে তার পিত্রালয়ে গেলে চলতি বছরের ২১ এপ্রিল মৌলভীবাজার নোটারী পাবলিক এর কার্যালয়ে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে৷
তবে, মেয়েটি ঘটনাটি মেনে নিতে পারেনি! সে বাড়িতে এসে মান সম্মান আর ইজ্জতের ভয়ে পরদিন আবারো প্রেমিক স্বামীর কাছে। সেখানে গিয়ে পূণরায় স্বামীর সাথে সংসার করতে তাকে। এতে, গত ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ইং তারিখে হবিগঞ্জ আদালতে উপস্থিত হয়ে মেয়েটি তার তালাকের নোর্টিশ এফিডেভিটের মাধ্যমে প্রত্যাহার করে। যাহার নাম্বার ২৫১। পরে উভয় পক্ষের আত্মীয় স্বজনদের সম্মতিক্রমে দু’পক্ষের লেখকজনের উপস্থিতিতে পারিবারিক ভাবে বিগত ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসের ২৬ তারিখ শরিয়ত মোতাবেক ৬ লক্ষ টাকার দেনমোহর সাবস্তক্রমে রেজিষ্ট্রিকৃত নিকাহনামা মূলে আবার তাদের বিয়ে হয়। যার বহি নং ৩৫, পৃষ্ঠা নং ৯, ক্রমিক নং ৯, ২০২৫ইংরেজী। বিয়ের আসবাবপত্র ও মালামাল ক্রয় করার জন্য মেয়ের বাবা মেয়ের স্বামী শেখ হায়দার মিয়ার নিকট নগদ নগদ ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা দেন। তবে, তিনি অভিযোগ করে বলেন, তার জামাতা আজ পর্যন্ত এই টাকা দিয়ে কোন প্রকার মালামল ক্রয় না করে মাদক সেবন করে আর মোবাইল ফোনে অনলাইনে জুয়া খেলা নিয়ে দিন রাত মগ্ন থাকে। এতে প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার টাকা অসৎ পথে ব্যয় করে। এর প্রতিবাদ করলেই শুরু হয় তার স্ত্রীর উপর অমানুষিক নির্যাতন, খারাপ ভাষায় গালিগালাজ সহ শারিরীক ও মানুষিক অত্মাচার করে। বর্তমানে তারা মৌলভীবাজার ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের দুটি মামলায় আসামি হিসেবে তার আপন খালা রানী চৌধুরীর আউশকান্দি খান ম্যানশনের চতুর্থ তলা নিজস্ব ভবনে নবীগঞ্জ বসবাস করে আসছে।
এ ব্যাপারে মামলার অভিযোগে আরো জানাযায়, বিয়ের সময় মেয়ের বাবার বাড়ি থেকে ১ ভরি ওজনের গলার স্বর্ণের চেইন, ১ ভরি ওজনের হাতের স্বর্ণের বেসলেট, ৮ আনা ওজনের স্বর্ণের আংটি সহ ৮ আনা ওজনের এক জোড়া কানের দোল সহ মোট তিন ভরি স্বর্ণালংকার যার বাজার মূল্য বর্তমানে প্রায় ৬ লক্ষাধিক টাকার উপরে।
অপরদিকে, মাদকাসক্ত স্বামীকে মাদক সেবন ও জুয়া খেলায় স্ত্রী বাঁধা দিলেই সইতে হয় নানান নির্যাতন।
এ ব্যাপারে মামলার অভিযোগে উল্লেখ ও বাদী
রাফি বেগম এর সাথে কথা হলে তিনি জানান, বিয়ের কিছু দিন পরপরই তার স্বামী হায়দার এর খালা নবীগঞ্জ উপজেলার কুর্শি গ্রামের নাঈম উল্লাহর স্ত্রী রানী চৌধুরী (৫০) এর কথা মতো আমার কাছ থেকে আমার হাত, কান, নাক ও গলা থেকে স্বর্ণ নিয়ে বিক্রয় করে রানী চৌধুরীর কাছে স্বর্ণের টাকা জমা রাখেন। ঐ টাকা আজওবদি রানী চৌধুরীর কাছেই জমা রয়েছে৷
অপরদিকে, রাফি বেগম কয়েকদিন পর পর বলে তর বাবার বাড়ি থেকে আরো টাকা এনে দে! তার কথা মতো টাকাও এনে দেয়া হয় কয়েক বার। কিন্তু সে সংসারে কোন খরচ না করে অনলাইনে জুয়া আর মাদক সেবন করে সব টাকা নষ্ট করে দেয়। সংসার জীবনে অমানবিক নির্যাতন সহ্য করে বাবার বাড়িতে থেকে দফায় দফায় টাকা এনে দিয়েও কোন ভাবেই শান্তিতে থাকতে সংসার করতে দিলনা আমার স্বামী হায়দার ও তার খালা রানি৷ বিয়ের কিছুদিন পর থেকে টাকার জন্য স্বামী ও তার খালা মিলে একের পর এক নির্যাতন করেই আসছিল।
অবশেষে, সকল নির্যাতন সহ্য করে মান সম্মান আর ইজ্জতের ভয়ে সংসারটি ঠিকিয়ে রাখতে গিয়ে একের পর এক নির্যাতন সইতে হয়েছে। এর মধ্যে একদিন রাফির স্বামী ও তার খালা বলে কাতারের ভিসা পাইছি, তুমার স্বামীকে বিদেশ পাঠাতে হলে অনেক টাকার প্রয়োজন। তাই তুমি তুমার বাবার বাড়ি থেকে ৫ লক্ষ টাকা লাগবে। কাতার গেলে ভাল টাকা রুজি করা যাবে। মেয়েটি তাদের কথা শুনে মেয়েটি এতো টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে উল্লেখিত তারিখ ও সময়ে মেয়েটিকে বেধরক মারপিট করে চুল ধরে টানা হেছড়া করে থাপ্পাইয়া মাটিতে ফেলে মারতে থাকে। মারে আর বলে টাকা না নিয়ে আসলে আমার বাড়িতে তর জায়গা নাই!

মামলার এজাহারে উল্লেখিত স্বাক্ষীগণের সামনে বলে ৫ লক্ষ টাকা না দিলে আমার ঘরে তকে আর তুলবেনা! তকে নিয়ে আমি আর সংসার করবোনা। বরণ পোষনও দেবোনা, আরো বেশী টাকা যৌতুক নিয়ে অন্যত্র বিয়ে করবে বলে চলে যায়। এবং পরদিন (২৭) এপ্রিল স্ত্রীর ব্যক্তিগত ছবি ও পরিবারের অনেক স্বামী- স্ত্রীর ছবি ও ভিডিও টিকটক, ফেসইবুকে ও স্থানীয় সামাজিক গণমাধ্যমে ছেড়ে দিয়ে মেয়ের পরিবারের মান সম্মান নষ্ট করেছে তার স্বামী। পরবর্তীতে আরও বড় দুর্ঘটনা গোটাবে বলে পরিবারের সদস্যদের অনেক হুমকি ধমকি দেয়।

২৭ এপ্রিল স্বামী- স্ত্রীর ব্যাক্তিগত ও গোপনিয় ছবি, ভিডিও, ফেইসবুক ও টিকটকে ছেড়ে মেয়ে সহ মেয়ের পরিবার ও আত্মীয় স্বজনদের মান সম্মান ক্ষুন্ন করছে তার স্বামী।
এ ব্যাপারে রাফি বেগম ও তার পরিবারের লোকজন বলেন, মান সম্মানের ভয়ে আমরা নিরব থাকার পরও সে একের পর এক মানহানি করেই যাচ্ছে। অবশেষে নিরুপায় হয়ে গত মে মাসের ৪ তারিখ চীফ লিগ্যাল এইড অফিসার মৌলভীবাজার-এ আইনগত সহায়তা প্রদান ও আপোষ মিমাংসার মাধ্যমে বিরোধ নিস্পত্তিতে এক মত না হওয়াতে আদালত ২০২৬ সালের জুন মাসের ১৫ তারিখ চীফ লিগ্যাল এইড অফিসার মধ্যস্থতা প্রক্রিয়া ব্যর্থ হওয়া সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রদান করে বাদীকে আদালতে হাজির হয়ে মামলা দায়েরের পরামর্শ দেন। আপোষের চেষ্টায় ব্যার্থ হয়ে গত জুন মাসের ২৩ তারিখ ন্যায় বিচার চেয়ে বিজ্ঞ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। এই মামলার খবর পেয়ে সে আরো বেপরোয়া হয়ে ফেইসবুকে স্বামী- স্ত্রীর একান্ত গোপনীয় ছবি ও ভিডিও পোষ্ট করে সমাজে হেয় পতিপন্ন করার চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। বউ নির্যাতন ও যৌতুকের মামলা মৌলভীবাজার বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রট আদালতের মামলায় আসামী হায়দার আলী, তার ছোট ভাই হৃদয় আহমদ ও মা ফরিদা বেগমকে নিয়ে তার খালা রাণী বেগম এর বাসা খাঁন ম্যানশনের চতুর্থ তলায় নিজস্ব দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছে।

অপরদিকে, ফেইসবুকে অষ্টিল ও মানহানিকর ভাষা প্রয়োগ করে স্বামী- স্ত্রীর ছবি ও ভিডিও পোষ্ট করে সমাজে মানহানি করায় বিজ্ঞ সাইবার ট্রাইব্যাল আদালতে মামলা দায়েরের চেষ্টা চলছে বলেও জানান ভুক্তভোগী পরিবারের লোকজন। এ বিষয়ে সু- বিচার প্রার্থী হয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তার আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভোক্তভোগী পরিবারের লোকজন৷

প্রেরক
বুলবুল আহমেদ
নবীগঞ্জ হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
মোবাইল নাম্বার 01716796398
তারিখ:- ২ জুলাই ২০২৬ইংরেজী