
নিজস্ব প্রতিবেদক,মোঃ সুহেল রানা
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাদকবিরোধী কার্যক্রমে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে কঠোর সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, যিনি নিজের নির্বাচনী এলাকা থেকেই মাদক নির্মূল করতে পারছেন না, তিনি পুরো দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন?
সোমবার বিকেলে গাজীপুরের কালীগঞ্জে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান’ এর দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই বিপ্লব স্মরণে মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে এদিন একটি পদযাত্রা শেষে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, “কয়েকদিন আগে জাতীয় সংসদে খোদ সরকারি দলের সংসদ সদস্যই অভিযোগ করেছেন, কক্সবাজার হলো মাদকের সুতিকাগার। আমাদের প্রশ্ন হলো—একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যদি তার নিজের নির্বাচনী এলাকা থেকেই মাদকের আগ্রাসন ঠেকাতে ব্যর্থ হন, তবে তিনি সারাদেশে মাদকের বিস্তার রোধ করবেন কীভাবে? তিনি সারাদেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখছেন—এই দাবি কতটা যৌক্তিক?”
মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর পদক্ষেপের অভাব রয়েছে বলেও দাবি করেন বিরোধীদলীয় এই চিফ হুইপ। তিনি বলেন, দায়িত্বশীল পদে থেকে মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতার কথা বলা হলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। দেশের তরুণ প্রজন্মকে মাদকের মরণফাঁদ থেকে বাঁচাতে হলে প্রশাসনকে আরও জবাবদিহিমূলক ও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে নাহিদ ইসলাম সারাদেশের সব জায়গায় মাদক কারবারিদের নেটওয়ার্ক ভেঙে দিয়ে আইন-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে একটি দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধান সরকারের প্রধান দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হওয়াটাই স্বাভাবিক।”
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিকে সামনে রেখে আয়োজিত এই সমাবেশে স্থানীয় নাগরিক সমাজ ও সাধারণ মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণ ছিল লক্ষ্যণীয়। বক্তারা মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার পাশাপাশি প্রশাসনের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
মোঃ সুহেল রানা 














