Dhaka 5:37 am, Sunday, 12 July 2026

টেকনাফে আকস্মিক বন্যায় ৩৮০ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম শুরু

মোহাম্মদ হোসাইন টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

টানা ভারী বর্ষণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ও হোয়াইক্যং ইউনিয়নের শত শত পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ঘরবাড়ি প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কাঁচা সড়ক। নলকূপ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে নিরাপদ পানীয় পানির তীব্র সংকট।

এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় যুব নেতৃত্বাধীন সংগঠন SHAY (Support for Humanitarian Aid Youth Society), JYDA Bangladesh এবং Youth Peacebuilders, ActionAid Bangladesh-এর সহযোগিতায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য জরুরি মানবিক সহায়তা কার্যক্রম শুরু করেছে।

সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়, দুর্যোগ শুরুর পর থেকেই যুব স্বেচ্ছাসেবকেরা স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, কমিউনিটি নেতা এবং বিভিন্ন মানবিক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে কাজ করছেন। তারা নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া, শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানীয় পানি বিতরণ, পাহাড়ধসের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জরুরি চাহিদা নিরূপণের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

বর্তমানে অনেক পরিবার নিজ বাড়িতে অবস্থান করলেও রান্না, নিরাপদ পানি সংগ্রহ এবং ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে নারী, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী।

SHAY-এর প্রতিনিধি আলম মুহাম্মদ রাসেল বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে অধিকাংশ পরিবারের নলকূপ পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে নিরাপদ পানীয় পানির সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। এই বাস্তবতা বিবেচনায় স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত সহায়তা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, জরুরি সহায়তার প্রথম ধাপে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ৩৮০টি পরিবারের প্রায় ১ হাজার ৯০০ জন মানুষের মধ্যে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানীয় পানি, জরুরি ত্রিপল, ওরাল রিহাইড্রেশন সল্ট (ওআরএস) এবং নারী ও কিশোরীদের জন্য ডিগনিটি কিট বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত সহায়তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত থাকবে।

সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চলমান বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষায় সরকারি প্রতিষ্ঠান, মানবিক সংস্থা, দাতা ও উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

খুলনায় কিশোরী নির্জনা হত্যা: মায়ের স্বীকারোক্তি, বস্তাবন্দী লাশ ফেলে দেন বাবা-মা; পিতা পলাতক

টেকনাফে আকস্মিক বন্যায় ৩৮০ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম শুরু

Update Time : 11:36:46 pm, Saturday, 11 July 2026

মোহাম্মদ হোসাইন টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

টানা ভারী বর্ষণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ও হোয়াইক্যং ইউনিয়নের শত শত পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ঘরবাড়ি প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কাঁচা সড়ক। নলকূপ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে নিরাপদ পানীয় পানির তীব্র সংকট।

এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় যুব নেতৃত্বাধীন সংগঠন SHAY (Support for Humanitarian Aid Youth Society), JYDA Bangladesh এবং Youth Peacebuilders, ActionAid Bangladesh-এর সহযোগিতায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য জরুরি মানবিক সহায়তা কার্যক্রম শুরু করেছে।

সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়, দুর্যোগ শুরুর পর থেকেই যুব স্বেচ্ছাসেবকেরা স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, কমিউনিটি নেতা এবং বিভিন্ন মানবিক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে কাজ করছেন। তারা নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া, শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানীয় পানি বিতরণ, পাহাড়ধসের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জরুরি চাহিদা নিরূপণের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

বর্তমানে অনেক পরিবার নিজ বাড়িতে অবস্থান করলেও রান্না, নিরাপদ পানি সংগ্রহ এবং ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে নারী, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী।

SHAY-এর প্রতিনিধি আলম মুহাম্মদ রাসেল বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে অধিকাংশ পরিবারের নলকূপ পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে নিরাপদ পানীয় পানির সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। এই বাস্তবতা বিবেচনায় স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত সহায়তা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, জরুরি সহায়তার প্রথম ধাপে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ৩৮০টি পরিবারের প্রায় ১ হাজার ৯০০ জন মানুষের মধ্যে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানীয় পানি, জরুরি ত্রিপল, ওরাল রিহাইড্রেশন সল্ট (ওআরএস) এবং নারী ও কিশোরীদের জন্য ডিগনিটি কিট বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত সহায়তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত থাকবে।

সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চলমান বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষায় সরকারি প্রতিষ্ঠান, মানবিক সংস্থা, দাতা ও উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।