Dhaka 3:52 am, Wednesday, 24 June 2026

আদালতের নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না,সাংবাদিকের ওপর হামলা! খুমেকে ভর্তি রায়হান.

নিজস্ব প্রতিবেদক মোল্লা জাহাঙ্গীর আলম
খুলনা নগরীর ময়লাপোতা সংলগ্ন ইকবালনগর এলাকায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বিরোধপূর্ণ জমিতে নির্মাণকাজের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হলেন সাংবাদিকরা। হামলায় দৈনিক প্রবাহ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার “রায়হানসহ” কয়েকজন আহত হয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

সোমবার ২২ জুন বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ইকবালনগর রোডে দীর্ঘদিনের বিরোধপূর্ণ একটি জমিতে নির্মাণকাজ চলছিল। এলাকায় উত্তেজনা থাকায় বিষয়টির খোঁজখবর নিতে ঘটনাস্থলে যান সাংবাদিকরা। অভিযোগ, সংবাদ সংগ্রহের একপর্যায়ে হামলাকারীরা সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়। তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয় এবং সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়েও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ছোঁড়া হয়। এতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয়রা জানান, জমি দখলের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বাকবিতণ্ডা একসময় হামলায় রূপ নেয়। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ভুক্তভোগী আবুল হাসান মোল্লার দাবি, বানিয়াখামার মৌজার প্রায় সাড়ে ১০ কাঠা জমি নিয়ে তার পরিবারের বিরোধ প্রায় ৩৭ বছর ধরে চলছে। ১৯৮৯ সালে বাটোয়ারা মামলা হয়। ১৯৯৭ ও ২০০৪ সালে আপিলেও বাদীপক্ষের পক্ষে রায় আসে। বর্তমানে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন – মামলা নং-৩৬১/১৬।

তার অভিযোগ, বিচারাধীন অবস্থায় এবং আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও আব্দুল কুদ্দুস মোল্লা ও আব্দুল ওয়াদুদ মোল্লা ওরফে গুটু জোরপূর্বক দোকান ও স্থাপনা নির্মাণ চালিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি নতুন দেয়াল, মাটি ভরাট ও ঢালাইয়ের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

সূত্র জানায়, গত ২০ এপ্রিল খুলনা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ, ২৭ এপ্রিল জিডি এবং ১৭ মে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কেডিএ-তে অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নির্মাণ বন্ধের নির্দেশ দিলেও তা মানা হয়নি। কেডিএ কর্মকর্তারাও পরিদর্শন করেছেন।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, এর আগেও ওই এলাকায় বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন আছে এমন কয়েকটি বাণিজ্যিক স্থাপনা গড়ে উঠেছে। আবাসিক এলাকায় কাঠের কারখানা চলায় শব্দ ও বায়ুদূষণ হচ্ছে। ২০২৪ সালে পরিবেশ অধিদপ্তরে এ নিয়ে অভিযোগও দেওয়া হয়েছিল।

সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় খুলনার সাংবাদিক সমাজ উদ্বেগ জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, আদালতের নির্দেশ অমান্য করে জমি দখলের চেষ্টা যেমন অপরাধ, তেমনি পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকের ওপর হামলা গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতার ওপর আঘাত।

ভুক্তভোগীরা বিরোধপূর্ণ জমিতে সব ধরনের নির্মাণকাজ বন্ধ, আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং হামলার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় সাংবাদিক রায়হানের সুচিকিৎসা ও হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি উঠেছে সর্বত্র।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

Re ক্যাডেট এএসআই (নিরস্ত্র) নিয়োগ-২০২৬ উপলক্ষে ব্রিফিং অনুষ্ঠিত

আদালতের নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না,সাংবাদিকের ওপর হামলা! খুমেকে ভর্তি রায়হান.

Update Time : 11:40:55 am, Tuesday, 23 June 2026

নিজস্ব প্রতিবেদক মোল্লা জাহাঙ্গীর আলম
খুলনা নগরীর ময়লাপোতা সংলগ্ন ইকবালনগর এলাকায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বিরোধপূর্ণ জমিতে নির্মাণকাজের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হলেন সাংবাদিকরা। হামলায় দৈনিক প্রবাহ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার “রায়হানসহ” কয়েকজন আহত হয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

সোমবার ২২ জুন বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ইকবালনগর রোডে দীর্ঘদিনের বিরোধপূর্ণ একটি জমিতে নির্মাণকাজ চলছিল। এলাকায় উত্তেজনা থাকায় বিষয়টির খোঁজখবর নিতে ঘটনাস্থলে যান সাংবাদিকরা। অভিযোগ, সংবাদ সংগ্রহের একপর্যায়ে হামলাকারীরা সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়। তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয় এবং সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়েও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ছোঁড়া হয়। এতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয়রা জানান, জমি দখলের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বাকবিতণ্ডা একসময় হামলায় রূপ নেয়। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ভুক্তভোগী আবুল হাসান মোল্লার দাবি, বানিয়াখামার মৌজার প্রায় সাড়ে ১০ কাঠা জমি নিয়ে তার পরিবারের বিরোধ প্রায় ৩৭ বছর ধরে চলছে। ১৯৮৯ সালে বাটোয়ারা মামলা হয়। ১৯৯৭ ও ২০০৪ সালে আপিলেও বাদীপক্ষের পক্ষে রায় আসে। বর্তমানে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন – মামলা নং-৩৬১/১৬।

তার অভিযোগ, বিচারাধীন অবস্থায় এবং আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও আব্দুল কুদ্দুস মোল্লা ও আব্দুল ওয়াদুদ মোল্লা ওরফে গুটু জোরপূর্বক দোকান ও স্থাপনা নির্মাণ চালিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি নতুন দেয়াল, মাটি ভরাট ও ঢালাইয়ের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

সূত্র জানায়, গত ২০ এপ্রিল খুলনা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ, ২৭ এপ্রিল জিডি এবং ১৭ মে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কেডিএ-তে অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নির্মাণ বন্ধের নির্দেশ দিলেও তা মানা হয়নি। কেডিএ কর্মকর্তারাও পরিদর্শন করেছেন।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, এর আগেও ওই এলাকায় বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন আছে এমন কয়েকটি বাণিজ্যিক স্থাপনা গড়ে উঠেছে। আবাসিক এলাকায় কাঠের কারখানা চলায় শব্দ ও বায়ুদূষণ হচ্ছে। ২০২৪ সালে পরিবেশ অধিদপ্তরে এ নিয়ে অভিযোগও দেওয়া হয়েছিল।

সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় খুলনার সাংবাদিক সমাজ উদ্বেগ জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, আদালতের নির্দেশ অমান্য করে জমি দখলের চেষ্টা যেমন অপরাধ, তেমনি পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকের ওপর হামলা গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতার ওপর আঘাত।

ভুক্তভোগীরা বিরোধপূর্ণ জমিতে সব ধরনের নির্মাণকাজ বন্ধ, আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং হামলার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় সাংবাদিক রায়হানের সুচিকিৎসা ও হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি উঠেছে সর্বত্র।