
মোঃ জাহাঙ্গীর আলম,জেলা প্রতিনিধি,ব্রাহ্মণবাড়িয়া:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র, একটি মাইক্রোবাস এবং বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারকৃতরা সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য এবং দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২০ জুন) রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানাধীন পৌর এলাকার মেড্ডা এলাকায় কোকিল টেক্সটাইলের সামনে একটি ডাকাত দল জড়ো হয়েছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার একটি চৌকস পুলিশ দল সেখানে অভিযান পরিচালনা করে।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত দলের কয়েকজন সদস্য দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তবে রাতভর অভিযান চালিয়ে চারজনকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ। এ সময় তাদের আরও ৮ থেকে ১০ জন সহযোগী পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে দুটি ধারালো রামদা, একটি পেরেকযুক্ত গদা, সাইকেলের প্যাডেল সংযুক্ত একটি কুড়াল, একটি সাদা রঙের নোয়া মডেলের মাইক্রোবাস, নগদ অর্থ, কয়েকটি হেলমেট, মাংকি টুপি, টর্চলাইট, মোবাইল ফোন, রশির বান্ডেল এবং হ্যান্ডকাফের চাবি। উদ্ধারকৃত এসব সরঞ্জাম ডাকাতির প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ব্যবহার করা হতো বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— কসবা উপজেলার আদ্রা এলাকার মোঃ রাশেক মিয়া, নবীনগর উপজেলার নোয়াগাঁও এলাকার মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মেড্ডা এলাকার রফিকুল ইসলাম এবং নবীনগর উপজেলার আলিয়াবাদ এলাকার মোঃ কামাল মিয়া।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত রাশেক মিয়ার বিরুদ্ধে ডাকাতি, ডাকাতির প্রস্তুতি, অস্ত্র আইন এবং চুরিসহ মোট ১৪টি মামলা রয়েছে। এছাড়া জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে ডাকাতির তিনটি মামলা এবং রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণ মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
এ ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় ডাকাতির প্রস্তুতি এবং অস্ত্র আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধ দমনে জেলা পুলিশের এ ধরনের বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল পুলিশের এ সফল অভিযানের প্রশংসা করে অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।প্রেরক:
মোঃ জাহাঙ্গীর আলম
জেলা প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
মোঃ জাহাঙ্গীর আলম 



















