Dhaka 11:41 am, Monday, 22 June 2026

প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা সরকারি তালিকা থেকে বাদ পড়ায় ইউএনও বরাবর আবেদন

মোঃ বুলবুল আহম্মেদ, নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা ভারী বর্ষণের কারণে চলতি বোরো মৌসুমে নবীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের ব্যাপক ফসলহানি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় সরকারিভাবে কৃষি ভর্তুকির তালিকা প্রণয়ন করা হলেও সেই তালিকা থেকে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নাম বাদ পড়ার অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় নবীগঞ্জ উপজেলার করগাঁও ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের শেরপুর গ্রামের কৃষক মোঃ সাদ্দিক মিয়া ও অলিউর রহমান ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

রোববার (২১ জুন) দুপুরে তারা নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে অভিযোগপত্র জমা দেন। অভিযোগে বলা হয়, সরকার ঘোষিত কৃষি ভর্তুকির তালিকা প্রণয়নে চরম অনিয়ম ও অবহেলার কারণে অনেক প্রকৃত, দরিদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের নাম বাদ পড়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, মাঠপর্যায়ে যথাযথ যাচাই-বাছাই না করে কতিপয় অসাধু ব্যক্তির মাধ্যমে মনগড়া তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। এতে কৃষিকাজের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নন—এমন ব্যক্তিদেরও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে সরকারের সহায়তা কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে এবং প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা বঞ্চিত হচ্ছেন।

তারা আরও জানান, বর্তমান ত্রুটিপূর্ণ তালিকা স্থগিত করে মাঠপর্যায়ে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ও বর্গাচাষি কৃষকদের চিহ্নিত করে স্বচ্ছ ও নির্ভুল তালিকা প্রস্তুত করা জরুরি। বন্যায় ফসলি জমি প্লাবিত হওয়ায় অনেক কৃষক পরিবার বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, সরকার কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্যে সার, বীজ, কীটনাশক, ধান কাটার যন্ত্র, ফুলের বীজ ও চারা এবং কৃষক-কৃষাণীদের জন্য বিভিন্ন প্রণোদনা বরাদ্দ দিলেও অধিকাংশ প্রকৃত কৃষক এসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

সরেজমিনে শতাধিক কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেকেই কখনো সরকারি কোনো কৃষি উপকরণ বা প্রণোদনা পাননি। অথচ সরকারি তালিকায় তাদের নাম ব্যবহার করে সহায়তা বিতরণ দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কারা তাদের নাম ব্যবহার করে এসব সুবিধা গ্রহণ করেছে, সে বিষয়েও তারা কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হলে দীর্ঘদিন ধরে প্রকৃত কৃষকদের নামে সরকারি প্রণোদনা আত্মসাৎ ও প্রতারণার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধ করা যাবে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আশা, উপজেলা প্রশাসন দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত কৃষকদের অধিকার ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করবে।

প্রেরক:
মোঃ বুলবুল আহমেদ
প্রতিনিধি, নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ)
মোবাইল: ০১৭১৬-৭৯৬৩৯৮।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

সিলেট ক্রাইম ডটকমে প্রকাশিত মিথ্যা, বানোয়াট ও মানহানিকর সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ এবং নিন্দা

প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা সরকারি তালিকা থেকে বাদ পড়ায় ইউএনও বরাবর আবেদন

Update Time : 07:49:35 am, Monday, 22 June 2026

মোঃ বুলবুল আহম্মেদ, নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা ভারী বর্ষণের কারণে চলতি বোরো মৌসুমে নবীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের ব্যাপক ফসলহানি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় সরকারিভাবে কৃষি ভর্তুকির তালিকা প্রণয়ন করা হলেও সেই তালিকা থেকে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নাম বাদ পড়ার অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় নবীগঞ্জ উপজেলার করগাঁও ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের শেরপুর গ্রামের কৃষক মোঃ সাদ্দিক মিয়া ও অলিউর রহমান ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

রোববার (২১ জুন) দুপুরে তারা নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে অভিযোগপত্র জমা দেন। অভিযোগে বলা হয়, সরকার ঘোষিত কৃষি ভর্তুকির তালিকা প্রণয়নে চরম অনিয়ম ও অবহেলার কারণে অনেক প্রকৃত, দরিদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের নাম বাদ পড়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, মাঠপর্যায়ে যথাযথ যাচাই-বাছাই না করে কতিপয় অসাধু ব্যক্তির মাধ্যমে মনগড়া তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। এতে কৃষিকাজের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নন—এমন ব্যক্তিদেরও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে সরকারের সহায়তা কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে এবং প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা বঞ্চিত হচ্ছেন।

তারা আরও জানান, বর্তমান ত্রুটিপূর্ণ তালিকা স্থগিত করে মাঠপর্যায়ে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ও বর্গাচাষি কৃষকদের চিহ্নিত করে স্বচ্ছ ও নির্ভুল তালিকা প্রস্তুত করা জরুরি। বন্যায় ফসলি জমি প্লাবিত হওয়ায় অনেক কৃষক পরিবার বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, সরকার কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্যে সার, বীজ, কীটনাশক, ধান কাটার যন্ত্র, ফুলের বীজ ও চারা এবং কৃষক-কৃষাণীদের জন্য বিভিন্ন প্রণোদনা বরাদ্দ দিলেও অধিকাংশ প্রকৃত কৃষক এসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

সরেজমিনে শতাধিক কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেকেই কখনো সরকারি কোনো কৃষি উপকরণ বা প্রণোদনা পাননি। অথচ সরকারি তালিকায় তাদের নাম ব্যবহার করে সহায়তা বিতরণ দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কারা তাদের নাম ব্যবহার করে এসব সুবিধা গ্রহণ করেছে, সে বিষয়েও তারা কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হলে দীর্ঘদিন ধরে প্রকৃত কৃষকদের নামে সরকারি প্রণোদনা আত্মসাৎ ও প্রতারণার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধ করা যাবে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আশা, উপজেলা প্রশাসন দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত কৃষকদের অধিকার ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করবে।

প্রেরক:
মোঃ বুলবুল আহমেদ
প্রতিনিধি, নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ)
মোবাইল: ০১৭১৬-৭৯৬৩৯৮।