
মোঃ নান্নু প্রামাণিক স্টাফ রিপোর্টার:-
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নের মাদারবাড়িয়া এলাকায় বিএনপি কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৪০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন মামলার বাদী ও খানমরিচ ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জুলফিকার আলী খান।
মামলার নথি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ভাঙ্গুড়া থানায় দায়ের করা মামলায় খানমরিচ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আছাদ, সাধারণ সম্পাদক জয়নুল আবেদীন, যুবলীগের সভাপতি দুলাল, ছাত্রলীগের সভাপতি শিবলুসহ মোট ৪০ জনকে আসামি করা হয়। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছিল, রাজনৈতিক বিরোধের জেরে বিএনপি কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
মামলার পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা সাইদুর রহমান প্রফেসরসহ একাধিক নেতাকর্মীকে আটক করা হয়। এছাড়া মামলায় বিভিন্ন ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় অনেক নেতাকর্মী পুলিশি হয়রানির শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
মামলা প্রত্যাহারের আবেদনকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাদী জুলফিকার আলী খান ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক শহিদুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।
মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে জানতে চাইলে জুলফিকার আলী খান বলেন, “মামলায় যে অভিযোগ আনা হয়েছিল, তা সত্য ছিল। তবে সম্প্রতি আমরা স্থানীয়ভাবে আলোচনার মাধ্যমে আপোসে পৌঁছেছি। বাকি বিষয়গুলো নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করে জানানো হবে।”
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব হিরোকের বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধ মীমাংসার মাধ্যমে মামলা প্রত্যাহার হলে স্থানীয় রাজনৈতিক পরিবেশে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক অবস্থান ও আদালতের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
নান্নু প্রামাণিক 

















