
মোল্লা জাহাঙ্গীর আলম :
খুলনা সরকারি ইকবাল নগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী আরফান হোসেন নির্জনা হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন মা সীমা আক্তার। গতকাল শুক্রবার ১০ জুলাই খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইব্রাহীম খলিল মুহিম তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। জবানবন্দি শেষে আদালত তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালত সূত্র জানায়, জবানবন্দিতে সীমা আক্তার জানিয়েছেন, ঘটনার দিন বিকেলে মেয়ের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে নির্জনার বাবা আলীম হোসেন আকাশ ঘরে এসে কাঠের চলা দিয়ে মেয়ের মাথায় আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই নির্জনার মৃ’ত্যু হয়। পরে লাশ ছেঁড়া লুঙ্গি ও প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে মোটরসাইকেলে বেঁধে নিরালা প্রান্তিকা আবাসিক এলাকায় ফেলে আসেন বাবা আকাশ।
গত বুধবার ৮ জুলাই রাতে পুলিশ নিরালা প্রান্তিকা আবাসিক এলাকা থেকে নির্জনার রক্তাক্ত বস্তাবন্দি লা’শ উদ্ধার করে। ত’দ’ন্তে বেরিয়ে আসে নিহত নির্জনা বসুপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. আলীম হোসেন আকাশের মেয়ে।
হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে জানা যায়, পরিবারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গত ২১ এপ্রিল তেরখাদা আজগড়া এলাকার মোস্তাফিজুর রহমানকে বিয়ে করেছিলেন নির্জনা। এরপর তাকে বুঝিয়ে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। ঘটনার দিন সকালেও শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার জন্য বের হলে তাকে আবার বাড়িতে আনা হয়েছিল।
এদিকে সদর থানা সূত্র জানায়, ঘটনার পর থেকে নির্জনার বাবা মো. আলীম হোসেন আকাশ পলাতক রয়েছেন। তাকে ধরতে বিভিন্ন স্থানে খোঁজ চলছে। শুক্রবার সকালে পুলিশ বাদী হয়ে সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে।
খুলনা সদর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ড নিয়ে আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় কেএমপি সদর দপ্তরে প্রেস ব্রিফিং করবেন কমিশনার। সেখানে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হবে।
Reporter Name 

















