
প্রিয় হযরত মুহম্মদ (সা.)কে নিয়ে কটূক্তি করায় দীপুচন্দ্র দাস কে পিটিয়ে হত্যা,লাশে আগুন
মোঃ হুমায়ুন কবির ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
ময়মনসিংহের ভালুকায় হযরত মুহম্মদ (সা.)কে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে দীপুচন্দ্র দাস (৩০) নামে এক
যুবককে গণপিটুনি দিয়ে হত্যার পর লাশে আগুন দিয়েছে ‘তৌহিদী জনতা’। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের জামিরদিয়া ডুবালিয়াপাড়া এলাকায়। নিহত যুবক ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার রবিচন্দ্র দাসের ছেলে। তিনি স্থানীয় পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস কারখানার শ্রমিক ছিলেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যার দিকে হযরত মুহম্মদ (সা.)কে নিয়ে কটূক্তি করা নিয়ে সহকর্মীর সঙ্গে দীপুচন্দ্র দাসের কথাকাটাকাটি হয়। বিষয়টি তাৎক্ষণিক মিলগেটের বাইরে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যে প্রায় দেড়-দুই হাজার মানুষ কারখানার সামনে জড়ো হয়। তারা কারখানার গেটের ভেতরে ঢুকে দীপুকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে বের করে আনে এবং গণপিটুনি দেয়। ঘটনাস্থলেই দীপু মারা যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়। এ সময় শিল্প পুলিশ ও ভালুকা মডেল থানা পুলিশের একটি দল তাদের বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে জনতা পুলিশের উপরও হামলা চালায়। পরে জনতা লাশ টেনেহিঁচড়ে নিয়ে গাছে ঝুলিয়ে আগুন লাগিয়ে দেয়। এই সময় ‘না রে তাকবির, আল্লাহু আকবার, আল-কোরআনের আলো ঘরে ঘরে জ্বালো’-স্লোগান দেয় তাওহিদী জনতা। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ফিরোজ হোসেন, সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে লাশ উদ্ধার করে ভালুকা মডেল থানায় নিয়ে যায়। এ বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষ কোনো কথা বলতে রাজি হয়নি। ভালুকা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ জাহিদুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-৫, ময়মনসিংহ এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল মামুন শিকদার বলেন, শুক্রবার কারখানা বন্ধ। এছাড়াও এলাকার পরিবেশ শান্ত রয়েছে। তবে উত্তেজনার যে কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে পুলিশ মোতায়েনের প্রস্তুতি রয়েছে। এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, নতুন বাংলাদেশে এ ধরনের সহিংসতার কোনো স্থান নেই এবং এ নৃশংস অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেয়া হয়। এছাড়া রবি লাল ভুট্টো জনান, আমার পরিবার আতঙ্কিত এবং ভয়-ভীতি প্রদর্শন সহ হুমকি সম্মুখে আছি।আমার গোটা সম্প্রদায় ভয়ের কারণে ছেলের শেষ কৃত্য আসতে পারছে না। আমরা রাষ্ট্র তথা সমাজের সচেতন মানুষ ও পুলিশের কাছে নিরাপত্তা চাই।
তারাকান্দা শ্মশানে দিপু চন্দ্র রবি দাস এর শেষ কৃত্য সম্পূর্ণ করতে, তারাকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ তানবীর আহমেদ ও থানা পুলিশ সহায়তা করছেন বলে জানা যায়।
নিজস্ব সংবাদদাতা 












