Dhaka 7:49 am, Thursday, 17 September 2026

পশ্চিম মহেশখালীয়া পাড়া—উন্নয়নের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন ইউনিয়নের ৯ নংওয়ার্ডের মোহাম্মদ হোসাইন

বিশেষ প্রতিনিধি কামরুল ইসলাম টেকনাফ কক্সবাজারে

হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের অন্তর্গত কম্বন, রোজারঘোনা ও পশ্চিম মহেশখালীয়া পাড়া দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা, বঞ্চনা ও উন্নয়ন বৈষম্যের শিকার হয়ে আছে। প্রায় ৬ হাজার মানুষের বসবাস থাকা সত্ত্বেও এই জনপদে এখনো গড়ে ওঠেনি জীবনমান উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা। ফলে এলাকার অধিকাংশ মানুষ দারিদ্র্য, বেকারত্ব এবং নানা সামাজিক সমস্যার সঙ্গে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে জীবনযাপন করছেন।

অন্যান্য এলাকার তুলনায় এ অঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার অত্যন্ত সীমিত। নেই উল্লেখযোগ্য কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান, বড় বাজার, আধুনিক খামার কিংবা কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী উদ্যোগ। কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলার মতো পর্যাপ্ত সমতল জমিও এখানে নেই। একই সঙ্গে লবণ চাষ, সুপারি বাগান বা অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক কোনো বড় খাল না থাকায় স্থানীয় জনগণ আয় বৃদ্ধির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

শিক্ষা খাতের পরিস্থিতিও অত্যন্ত উদ্বেগজনক। একটি জনবহুল এলাকায় এখনো কোনো উচ্চ বিদ্যালয় বা পর্যাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে না ওঠায় শিক্ষার্থীদের দূরবর্তী এলাকায় গিয়ে পড়াশোনা করতে হয়। এতে অনেক শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে এবং উচ্চশিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। একইভাবে ধর্মীয় শিক্ষার ক্ষেত্রেও রয়েছে সীমাবদ্ধতা। একটি পূর্ণাঙ্গ ইবতেদায়ী মাদ্রাসা বা আধুনিক ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকায় অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের যথাযথ শিক্ষা নিশ্চিত করতে নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।

স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও এ এলাকার মানুষের দুর্ভোগ দীর্ঘদিনের। জরুরি চিকিৎসা সেবা পাওয়ার জন্য রোগীদের দূরের স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে যেতে হয়। কোনো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা মানসম্মত চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকায় অনেক সময় সাধারণ রোগও বড় ধরনের ঝুঁকিতে পরিণত হয়। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য এই সংকট আরও প্রকট।

এলাকার মানুষের প্রধান ভরসা পাহাড়সংলগ্ন কিছু কৃষিজমি। কিন্তু সেসব জমিতেও কৃষকরা সবসময় নিরাপদে চাষাবাদ করতে পারেন না। বিভিন্ন সময় নিরাপত্তাহীনতা, চুরি-ডাকাতি এবং সামাজিক অস্থিরতার কারণে কৃষকরা ক্ষতির সম্মুখীন হন। ফলে কৃষিকাজে আগ্রহ কমে যাচ্ছে এবং উৎপাদনও কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারছে না।

যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নও সময়ের দাবি। অনেক এলাকায় এখনো আধুনিক সড়ক, ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় জনসেবা অবকাঠামোর অভাব রয়েছে। বর্ষাকালে চলাচলে দুর্ভোগ বৃদ্ধি পায়, যা শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

এ অবস্থার পরিবর্তনে প্রয়োজন একটি দীর্ঘমেয়াদি, বাস্তবমুখী ও সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, কৃষকদের জন্য বিশেষ সহায়তা, যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে এ অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সামাজিক সংগঠনগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণও অত্যন্ত জরুরি।

কম্বন, রোজারঘোনা ও পশ্চিম মহেশখালীয়া পাড়ার মানুষেরও সমানভাবে উন্নত জীবনযাপনের অধিকার রয়েছে। তাই দল-মত নির্বিশেষে জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, সামাজিক সংগঠন, রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। সঠিক পরিকল্পনা, জনসম্পৃক্ততা এবং আন্তরিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে ইনশাআল্লাহ এই অবহেলিত জনপদকে উন্নয়নের মূলধারায় যুক্ত করে একটি আধুনিক, সমৃদ্ধ ও সম্ভাবনাময় এলাকায় পরিণত করা সম্ভব।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার প্রত্যয়ে বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের বর্ষপূর্তি

পশ্চিম মহেশখালীয়া পাড়া—উন্নয়নের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন ইউনিয়নের ৯ নংওয়ার্ডের মোহাম্মদ হোসাইন

Update Time : 06:05:11 am, Wednesday, 3 June 2026

বিশেষ প্রতিনিধি কামরুল ইসলাম টেকনাফ কক্সবাজারে

হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের অন্তর্গত কম্বন, রোজারঘোনা ও পশ্চিম মহেশখালীয়া পাড়া দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা, বঞ্চনা ও উন্নয়ন বৈষম্যের শিকার হয়ে আছে। প্রায় ৬ হাজার মানুষের বসবাস থাকা সত্ত্বেও এই জনপদে এখনো গড়ে ওঠেনি জীবনমান উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা। ফলে এলাকার অধিকাংশ মানুষ দারিদ্র্য, বেকারত্ব এবং নানা সামাজিক সমস্যার সঙ্গে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে জীবনযাপন করছেন।

অন্যান্য এলাকার তুলনায় এ অঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার অত্যন্ত সীমিত। নেই উল্লেখযোগ্য কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান, বড় বাজার, আধুনিক খামার কিংবা কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী উদ্যোগ। কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলার মতো পর্যাপ্ত সমতল জমিও এখানে নেই। একই সঙ্গে লবণ চাষ, সুপারি বাগান বা অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক কোনো বড় খাল না থাকায় স্থানীয় জনগণ আয় বৃদ্ধির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

শিক্ষা খাতের পরিস্থিতিও অত্যন্ত উদ্বেগজনক। একটি জনবহুল এলাকায় এখনো কোনো উচ্চ বিদ্যালয় বা পর্যাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে না ওঠায় শিক্ষার্থীদের দূরবর্তী এলাকায় গিয়ে পড়াশোনা করতে হয়। এতে অনেক শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে এবং উচ্চশিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। একইভাবে ধর্মীয় শিক্ষার ক্ষেত্রেও রয়েছে সীমাবদ্ধতা। একটি পূর্ণাঙ্গ ইবতেদায়ী মাদ্রাসা বা আধুনিক ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকায় অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের যথাযথ শিক্ষা নিশ্চিত করতে নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।

স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও এ এলাকার মানুষের দুর্ভোগ দীর্ঘদিনের। জরুরি চিকিৎসা সেবা পাওয়ার জন্য রোগীদের দূরের স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে যেতে হয়। কোনো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা মানসম্মত চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকায় অনেক সময় সাধারণ রোগও বড় ধরনের ঝুঁকিতে পরিণত হয়। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য এই সংকট আরও প্রকট।

এলাকার মানুষের প্রধান ভরসা পাহাড়সংলগ্ন কিছু কৃষিজমি। কিন্তু সেসব জমিতেও কৃষকরা সবসময় নিরাপদে চাষাবাদ করতে পারেন না। বিভিন্ন সময় নিরাপত্তাহীনতা, চুরি-ডাকাতি এবং সামাজিক অস্থিরতার কারণে কৃষকরা ক্ষতির সম্মুখীন হন। ফলে কৃষিকাজে আগ্রহ কমে যাচ্ছে এবং উৎপাদনও কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারছে না।

যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নও সময়ের দাবি। অনেক এলাকায় এখনো আধুনিক সড়ক, ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় জনসেবা অবকাঠামোর অভাব রয়েছে। বর্ষাকালে চলাচলে দুর্ভোগ বৃদ্ধি পায়, যা শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

এ অবস্থার পরিবর্তনে প্রয়োজন একটি দীর্ঘমেয়াদি, বাস্তবমুখী ও সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, কৃষকদের জন্য বিশেষ সহায়তা, যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে এ অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সামাজিক সংগঠনগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণও অত্যন্ত জরুরি।

কম্বন, রোজারঘোনা ও পশ্চিম মহেশখালীয়া পাড়ার মানুষেরও সমানভাবে উন্নত জীবনযাপনের অধিকার রয়েছে। তাই দল-মত নির্বিশেষে জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, সামাজিক সংগঠন, রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। সঠিক পরিকল্পনা, জনসম্পৃক্ততা এবং আন্তরিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে ইনশাআল্লাহ এই অবহেলিত জনপদকে উন্নয়নের মূলধারায় যুক্ত করে একটি আধুনিক, সমৃদ্ধ ও সম্ভাবনাময় এলাকায় পরিণত করা সম্ভব।