Dhaka 8:08 pm, Saturday, 13 June 2026

প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অনশনে,১৪ দিনেও কোন সুরাহা

রংপুর জেলা প্রতিনিধিঃ মোঃআজহারুল ইসলাম

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার মাগুরা গ্রামে বিয়ের দাবিতে এক তরুণীর অনশন শুরু করার ১৩ দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত বিষয়টির কোনো সুরাহা হয়নি। প্রেমিকের কোনো খোঁজ নেই, নেই বিয়ের বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি। এতে করে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
অনশনরত তরুণীর নাম রেহেনা পারভীন সাথী। তিনি খালাশপীর ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রেমিকের বাড়ির সামনে দীর্ঘদিন ধরে অনশন চলায় প্রতিদিনই তাকে এক নজর দেখতে স্থানীয়দের ভিড় জমছে।

ভুক্তভোগী তরুণী জানান, প্রায় ছয় মাস আগে পার্শ্ববর্তী মাগুরা গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে মেজবাহুল ইসলাম নিলয়ের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে বিয়ের আশ্বাসের মাধ্যমে সম্পর্কটি গভীর হয়। তবে সম্প্রতি হঠাৎ করেই মেজবাহুল ইসলাম নিলয় তার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।
পরবর্তীতে রেহেনা পারভীন সাথী জানতে পারেন, তার প্রেমিকের পরিবার অন্যত্র বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ খবর পাওয়ার পর বিয়ের দাবিতে শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে প্রেমিকের বাড়িতে আমরণ অনশন শুরু করেন তিনি। তার দাবি, প্রেম ও বিয়ের প্রতিশ্রুতির পক্ষে তার কাছে একাধিক প্রমাণ রয়েছে। বিয়ে না হওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দেন তিনি।
তরুণীর অভিযোগ, অনশন শুরুর কয়েক ঘণ্টা পর মেজবাহুল ইসলাম নিলয়ের পরিবারের সদস্যরা তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন এবং তার ব্যবহৃত মুঠোফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় ফোনে থাকা গুরুত্বপূর্ণ বার্তা ও ছবি মুছে ফেলা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে, মেজবাহুল ইসলাম নিলয়ের বড় ভাই দাবি করেন, তাদের পরিবার এই প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি বিশ্বাস করে না। তিনি বলেন, “আমার ভাইয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। সে কোনোভাবেই ওই মেয়েকে বিয়ে করতে রাজি নয়।”
এ ঘটনার ১৩ দিন পেরিয়ে গেলেও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। এখনো মেজবাহুল ইসলাম নিলয়ের কোনো দেখা নেই এবং বিয়ের বিষয়ে তার পরিবারের পক্ষ থেকেও কোনো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণীর বাবা রাহেদ মিয়া পীরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানান। তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সোহেল রানা বলেন, তিনি অভিযোগটি সম্পর্কে নিশ্চিত নন। বর্তমানে রাজনৈতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে থানায় ব্যস্ততা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

নড়াইলের কাশিপুর ইউনিয়নে বিনামূল্যে অ্যাম্বুলেন্স সেবার উদ্বোধন

প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অনশনে,১৪ দিনেও কোন সুরাহা

Update Time : 01:22:28 pm, Saturday, 21 February 2026

রংপুর জেলা প্রতিনিধিঃ মোঃআজহারুল ইসলাম

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার মাগুরা গ্রামে বিয়ের দাবিতে এক তরুণীর অনশন শুরু করার ১৩ দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত বিষয়টির কোনো সুরাহা হয়নি। প্রেমিকের কোনো খোঁজ নেই, নেই বিয়ের বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি। এতে করে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
অনশনরত তরুণীর নাম রেহেনা পারভীন সাথী। তিনি খালাশপীর ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রেমিকের বাড়ির সামনে দীর্ঘদিন ধরে অনশন চলায় প্রতিদিনই তাকে এক নজর দেখতে স্থানীয়দের ভিড় জমছে।

ভুক্তভোগী তরুণী জানান, প্রায় ছয় মাস আগে পার্শ্ববর্তী মাগুরা গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে মেজবাহুল ইসলাম নিলয়ের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে বিয়ের আশ্বাসের মাধ্যমে সম্পর্কটি গভীর হয়। তবে সম্প্রতি হঠাৎ করেই মেজবাহুল ইসলাম নিলয় তার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।
পরবর্তীতে রেহেনা পারভীন সাথী জানতে পারেন, তার প্রেমিকের পরিবার অন্যত্র বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ খবর পাওয়ার পর বিয়ের দাবিতে শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে প্রেমিকের বাড়িতে আমরণ অনশন শুরু করেন তিনি। তার দাবি, প্রেম ও বিয়ের প্রতিশ্রুতির পক্ষে তার কাছে একাধিক প্রমাণ রয়েছে। বিয়ে না হওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দেন তিনি।
তরুণীর অভিযোগ, অনশন শুরুর কয়েক ঘণ্টা পর মেজবাহুল ইসলাম নিলয়ের পরিবারের সদস্যরা তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন এবং তার ব্যবহৃত মুঠোফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় ফোনে থাকা গুরুত্বপূর্ণ বার্তা ও ছবি মুছে ফেলা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে, মেজবাহুল ইসলাম নিলয়ের বড় ভাই দাবি করেন, তাদের পরিবার এই প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি বিশ্বাস করে না। তিনি বলেন, “আমার ভাইয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। সে কোনোভাবেই ওই মেয়েকে বিয়ে করতে রাজি নয়।”
এ ঘটনার ১৩ দিন পেরিয়ে গেলেও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। এখনো মেজবাহুল ইসলাম নিলয়ের কোনো দেখা নেই এবং বিয়ের বিষয়ে তার পরিবারের পক্ষ থেকেও কোনো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণীর বাবা রাহেদ মিয়া পীরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানান। তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সোহেল রানা বলেন, তিনি অভিযোগটি সম্পর্কে নিশ্চিত নন। বর্তমানে রাজনৈতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে থানায় ব্যস্ততা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।