Dhaka 7:42 pm, Monday, 20 July 2026

মৌচাকে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের ব্যতিক্রমী আয়োজন: আসকর আলী মন্ডলের ভুরিভোজে উৎসবের আমেজ, গাভীর শরীরে আর্জেন্টিনার পতাকা

বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল ঘিরে কালিয়াকৈরে উচ্ছ্বাসের জোয়ার; হাজারো সমর্থকের মিলনমেলায় সম্প্রীতির বার্তা

বিশেষ প্রতিনিধি মোঃ ফরহাদুল ইসলাম জুয়েল

বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালকে কেন্দ্র করে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে বিরাজ করছে উৎসবের আবহ। সেই উচ্ছ্বাসে নতুন মাত্রা যোগ করেছে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক এলাকার এক ব্যতিক্রমী আয়োজন। প্রিয় দল আর্জেন্টিনার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা ও সমর্থনের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সমাজসেবক ও ক্রীড়ানুরাগী আসকর আলী মন্ডল আয়োজন করেছেন বর্ণাঢ্য ভুরিভোজের, যা ইতোমধ্যেই এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ফাইনাল ম্যাচ উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন এলাকার আর্জেন্টিনা সমর্থক, ক্রীড়াপ্রেমী, তরুণ-যুবক, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও শুভানুধ্যায়ীরা। খেলা শুরুর আগেই উৎসবমুখর পরিবেশে সবাই একত্রিত হন। সুস্বাদু খাবারের আয়োজন, আড্ডা, আনন্দ-উচ্ছ্বাস এবং প্রিয় দলের জয় প্রত্যাশায় পুরো অনুষ্ঠানস্থল পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়।

অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় ছিল একটি গাভীকে আর্জেন্টিনার জাতীয় পতাকার আদলে আকাশি-সাদা রঙে সাজিয়ে তোলা। পাশাপাশি মৌচাক এলাকার বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘরে উড়তে দেখা যায় আর্জেন্টিনার অসংখ্য পতাকা। ব্যানার, ফেস্টুন ও সাজসজ্জায় পুরো এলাকা যেন রূপ নেয় ছোট্ট এক ‘আর্জেন্টিনা পল্লীতে’।

আয়োজক আসকর আলী মন্ডল বলেন,
“ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়, এটি কোটি মানুষের আবেগ ও ভালোবাসার নাম। আমি আর্জেন্টিনার সমর্থক হলেও এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ছিল সবাইকে একত্রিত করা এবং আনন্দ ভাগাভাগি করা। খেলাকে ঘিরে মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক ভালোবাসা আরও দৃঢ় হোক—এটাই আমার প্রত্যাশা।”

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এ ধরনের আয়োজন শুধু ফুটবলপ্রেমীদের আনন্দই বাড়ায় না, বরং সামাজিক বন্ধনও দৃঢ় করে। তারা বলেন, দীর্ঘদিন পর এমন প্রাণবন্ত আয়োজনের মাধ্যমে এলাকার মানুষ একত্রিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন অব্যাহত থাকুক—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তারা।

স্থানীয় তরুণদের মতে, বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে এ ধরনের ইতিবাচক আয়োজন নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলার প্রতি আরও আগ্রহী করে তুলবে এবং সামাজিক সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেবে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে মাঠে, কিন্তু মাঠের বাইরে থাকবে সৌহার্দ্য, বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ—এই বার্তাই তুলে ধরেছে মৌচাকের এই ব্যতিক্রমী আয়োজন।

বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যেমন সমর্থকদের নানা রকম সৃজনশীল উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে, তেমনি কালিয়াকৈরের মৌচাকে আসকর আলী মন্ডলের এই ভুরিভোজ ও আর্জেন্টিনা-থিমে সাজানো আয়োজনও সমর্থকদের আনন্দ-উচ্ছ্বাসে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। খেলা শুরুর আগেই পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয় উৎসবের আবহ, আর চারদিকে ধ্বনিত হতে থাকে একটাই স্লোগান—

“¡Vamos Argentina! — ভামোস আর্জেন্টিনা!” 🇦🇷

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গোদাগাড়ীতে অবৈধ সম্পদ ও মানিলন্ডারিং ইস্যুতে আলোচনায় ২ ঘটনা, আদালতের ক্রোকাদেশ

মৌচাকে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের ব্যতিক্রমী আয়োজন: আসকর আলী মন্ডলের ভুরিভোজে উৎসবের আমেজ, গাভীর শরীরে আর্জেন্টিনার পতাকা

Update Time : 06:07:59 pm, Sunday, 19 July 2026

বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল ঘিরে কালিয়াকৈরে উচ্ছ্বাসের জোয়ার; হাজারো সমর্থকের মিলনমেলায় সম্প্রীতির বার্তা

বিশেষ প্রতিনিধি মোঃ ফরহাদুল ইসলাম জুয়েল

বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালকে কেন্দ্র করে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে বিরাজ করছে উৎসবের আবহ। সেই উচ্ছ্বাসে নতুন মাত্রা যোগ করেছে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক এলাকার এক ব্যতিক্রমী আয়োজন। প্রিয় দল আর্জেন্টিনার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা ও সমর্থনের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সমাজসেবক ও ক্রীড়ানুরাগী আসকর আলী মন্ডল আয়োজন করেছেন বর্ণাঢ্য ভুরিভোজের, যা ইতোমধ্যেই এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ফাইনাল ম্যাচ উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন এলাকার আর্জেন্টিনা সমর্থক, ক্রীড়াপ্রেমী, তরুণ-যুবক, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও শুভানুধ্যায়ীরা। খেলা শুরুর আগেই উৎসবমুখর পরিবেশে সবাই একত্রিত হন। সুস্বাদু খাবারের আয়োজন, আড্ডা, আনন্দ-উচ্ছ্বাস এবং প্রিয় দলের জয় প্রত্যাশায় পুরো অনুষ্ঠানস্থল পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়।

অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় ছিল একটি গাভীকে আর্জেন্টিনার জাতীয় পতাকার আদলে আকাশি-সাদা রঙে সাজিয়ে তোলা। পাশাপাশি মৌচাক এলাকার বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘরে উড়তে দেখা যায় আর্জেন্টিনার অসংখ্য পতাকা। ব্যানার, ফেস্টুন ও সাজসজ্জায় পুরো এলাকা যেন রূপ নেয় ছোট্ট এক ‘আর্জেন্টিনা পল্লীতে’।

আয়োজক আসকর আলী মন্ডল বলেন,
“ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়, এটি কোটি মানুষের আবেগ ও ভালোবাসার নাম। আমি আর্জেন্টিনার সমর্থক হলেও এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ছিল সবাইকে একত্রিত করা এবং আনন্দ ভাগাভাগি করা। খেলাকে ঘিরে মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক ভালোবাসা আরও দৃঢ় হোক—এটাই আমার প্রত্যাশা।”

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এ ধরনের আয়োজন শুধু ফুটবলপ্রেমীদের আনন্দই বাড়ায় না, বরং সামাজিক বন্ধনও দৃঢ় করে। তারা বলেন, দীর্ঘদিন পর এমন প্রাণবন্ত আয়োজনের মাধ্যমে এলাকার মানুষ একত্রিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন অব্যাহত থাকুক—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তারা।

স্থানীয় তরুণদের মতে, বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে এ ধরনের ইতিবাচক আয়োজন নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলার প্রতি আরও আগ্রহী করে তুলবে এবং সামাজিক সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেবে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে মাঠে, কিন্তু মাঠের বাইরে থাকবে সৌহার্দ্য, বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ—এই বার্তাই তুলে ধরেছে মৌচাকের এই ব্যতিক্রমী আয়োজন।

বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যেমন সমর্থকদের নানা রকম সৃজনশীল উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে, তেমনি কালিয়াকৈরের মৌচাকে আসকর আলী মন্ডলের এই ভুরিভোজ ও আর্জেন্টিনা-থিমে সাজানো আয়োজনও সমর্থকদের আনন্দ-উচ্ছ্বাসে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। খেলা শুরুর আগেই পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয় উৎসবের আবহ, আর চারদিকে ধ্বনিত হতে থাকে একটাই স্লোগান—

“¡Vamos Argentina! — ভামোস আর্জেন্টিনা!” 🇦🇷