Dhaka 4:37 am, Saturday, 4 July 2026

শ্রীপুরে সরঃ প্রাঃ বিদ্যালয়ের দুইজন সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ,পরিশেষে বিভাগীয় মামলা

শ্রীপুরে সরঃ প্রাঃ বিদ্যালয়ের দুইজন সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ,পরিশেষে বিভাগীয় মামলা

গাজীপুর থেকে নিজস্ব প্রতিনিধি মোঃ আল আমিন

গাজীপুর জেলা শ্রীপুর উপজেলার ১২৭ নং পশ্চিম নিজমাওনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ ছানোয়ার হোসেন এবং তার স্ত্রী শিক্ষিকা মোছাঃ শেলিনা আক্তার এর বিরুদ্ধে অভিযোগ সমূহ ‘ সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮ এর বিধি অসদাচরণের পর্যায় ভুক্ত অপরাধ। সে মোতাবেক তাদের উভয়ের বিরুদ্ধে – সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮ এর বিধি ২(খ), ৩(খ)ধারা মোতাবেক বিভাগীয় মামলা রুজু করেন শ্রীপুর উপজেলা সরকারি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফাতেমা নাসরিন এবং উক্ত বিধিমালার ৪(৩) এর উপবিধি (ঘ) মোতাবেক তাদের কে চাকুরি হতে কেন রবরখাস্ত ( Dismissal from Service) করা হবেনা তার সাফাওয়ারী জবাব জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে জমা দিতে বলা হয়।

নিকট অতীতের স্বনামধন্য এই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান বর্তমানে ক্রমাগত নিম্নমূখী হওয়ায় এবং শিক্ষকগণের- অশিক্ষক সুলভ অসদাচরণের কারণে দিন দিন ছাত্র সংখ্যা কমে যাচ্ছে। দীর্ঘ্যদিন যাবৎ এই প্রতিষ্ঠানের দাতা সদস্য, ছাত্র অভিভাবক, সাবেক ছাত্র, শিক্ষা অনুরাগী এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ শিক্ষার মান উন্নয়নের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে পরিশেষে, সহকারী শিক্ষক মোঃ ছানোয়ার হোসেন এবং সহকারী শিক্ষিকা তার স্ত্রী মোছাঃ শেলিনা আক্তার এর বিরুদ্ধে শ্রীপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এবং গাজীপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর দুটি অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগে ছাত্র অভিভাবক, দাতা সদস্য, শিক্ষা অনুরাগী এবং গণ্যমান্য সহ ৫০ জন স্বাক্ষর করেন। অভিযোগে উল্লেখ থাকে যে, সহকারী শিক্ষক মোঃ ছানোয়ার মাস্টার স্থানীয় শিক্ষক হওয়ায় প্রধান শিক্ষকের কমান্ড মেনে চলত না, তার সাথে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যসহ তুইতুকারি ব্যবহার,একাধিক বার প্রধান শিক্ষকের গায়ে হাত তুলে,সর্বসময় বিভিন্ন ধরনের হুমকি ধামকি দিয়ে থাকে।

প্রধান শিক্ষক চৌকসকে জানান – “আমি সহকারী শিক্ষক ছানোয়ার হোসেন এবং তার স্ত্রী সহকারী শিক্ষিকা সেলিনা আক্তারের নিকট অসহায়। আমি এবং এসএমসি কমিটি বারবার উপজেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর মৌখিক অভিযোগ দায়ের করেও কোন প্রকার প্রতিকার পাইনি। তাই ঢিলেঢালাভাবে স্কুলের কার্যক্রম চলছে। শিক্ষার মান নিম্নগামী হওয়ায় দিন দিন স্কুলের ছাত্র সংখ্যা কমেই যাচ্ছে। তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন – ছানোয়ার মাস্টার এবং তার স্ত্রী সেলিনা আক্তার সর্বদাই শ্রেণী কক্ষে যথাযথ পাঠদান না করে বরং প্রাইভেট নিয়েই বেশি ব্যস্ত থাকেন। স্কুল কক্ষে প্রাইভেট পড়ানোর কারণ জানতে চাইলে আমাকে শারিরীকভাবে লাঞ্ছিত করে।

প্রাইভেট পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতি ক্লাসে অধিক গুরুত্ব দিয়ে থাকে। পরীক্ষার খাতায় তাদেরকে বেশি বেশি নাম্বার দিতেন অন্যদিকে মেধাবী ছাত্রদেরকেও প্রাইভেট না পড়ায় নাম্বার কম দিতেন এবং যতপ্রকার অপকৌশল সবগুলি এই দুই শিক্ষক প্রয়োগ করতেন। যারা প্রাইভেট না পড়তো ক্লাসে তাদেরকে বিভিন্ন অজুহাতে বেত্রাঘাতসহ মানসিক লাঞ্ছনা চালায় এবং তার কাছে প্রাইভেট পড়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে থাকেন। ছাত্র অভিভাবকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ ছিল তার নিত্যনৈমত্তিক কাজ।

এইসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড যখন বারবার দৃশ্যপটে চলে আসে তখনই ছাত্র অভিভাবক, শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিবর্গ ও এলাকাবাসী সমন্বিতভাবে তার বিরুদ্ধে শ্রীপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন।” সাবেক এসএমসি কমিটি চৌকসকে জানান- শিক্ষার মান বাড়ানোর জন্য আমরা অনেক চেষ্টা করেছি।

শ্রীপুর উপজেলা সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা একাধিকবার তাকে সতর্ক করেছেন। তাতে কোন ফল হয়নি। যেই লাউ সেই কদু।

অভিযোগে বিশেষভাবে উঠে এসেছে – অভিযুক্ত উক্ত সহকারি দুইজন শিক্ষক প্রাইভেট নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন। প্রাইভেট না পড়লে ছাত্র-ছাত্রীদের উপর ক্লাসে বিভিন্ন অজুহাতে বেত্রাঘাত করতন। ছাত্র অভিভাবকের সাথে তার অসদাচরণের প্রভাব ছিল অত্যধিক বেশি। প্রাইভেট পড়ুয়া ছাত্রদের পরীক্ষায় ইচ্ছাকৃত ভাবেই নাম্বার বেশি দেয়া। স্কুলে নিয়মিত ক্লাস না করা ছিল তার একটি স্থানীয় বড় প্রভাব। এরকম অজস্র অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে।

শ্রীপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর অভিযোগ দাখিলের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে আমলে নিয়ে ০২/০৭/২৫ ইং ৪ জন সহকারি শিক্ষা অফিসার সরজমিনে এসে তদন্ত করেন। তদন্ত কমিটির আহবায়ক ছিলেন শ্রীপুর উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা অফিসার মোঃ মনির হোসেন। তিনি চৌকসকে বলেন,আমরা অভিযোগ পাওয়ার পর যথা সময়ে সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে স্বাক্ষরকৃত দাতাগণ, শিক্ষানুরাগী, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং স্থানীয় ব্যক্তিবর্গের নিকট থেকে অভিযোগের প্রত্যেকটি বিষয়েই সত্যতা পাই।

যাচাই-বাছাই করার জন্য পুনরায় তদন্ত করে তার সত্যতা সন্দেহাতীত ভাবে নিশ্চিত হয়ে, আমরা আমাদের তদন্ত রিপোর্ট শ্রীপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর প্রেরণ করি।” শ্রীপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফাতেমা নাসরিন চৌকসকে বলেন,১২৭ নং পশ্চিম নিজমাওনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ ছানোয়ার হোসেন এবং সহকারী শিক্ষিকা মোছাঃ শেলিনা আক্তারের বিরুদ্ধে অত্র বিদ্যালয়ের ছাত্র অভিভাবক,শিক্ষানুরাগী এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ কর্তৃক দাখিলকৃত অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে আমলে নেই।

যথা সময়ে তদন্ত করে অপরাধসমূহ চিহ্নিত করে ০৮/০৮/২৫ইং তারিখে গাজীপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জ্বনাব মোঃ মাসুদ ভুঁইয়া এর নিকট প্রেরণ করি। তিনি আরো বলেন, পশ্চিম নিজমাওনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যবস্থা অত্যন্ত সূচনীয়। কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারাচ্ছন্ন। আমরা চাই সকলের সহযোগিতার মাধ্যমে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মানের উত্তরণ ঘটুক।

গাজীপুর জেলা শিক্ষা অফিসার মাসুদ ভূঁইয়া চৌকসকে বলেন, ১২৭ নং পশ্চিম নিজমাওনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র অভিভাবক, শিক্ষানুরাগী এবং গণ্যমান্য কর্তৃক ৫০ জনের স্বাক্ষরিত অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদনটি

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও জনবলের সংকট সাধারণ রোগীদের চরম ভোগান্তি। মোঃ শাহ্ আলম সরকার স্টাফ রিপোর্টার। গাজীপুর কালিয়াকৈর উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও জনবলের দীর্ঘদিনের নানা সংকট, হসপিটালে জেনারেটর না থাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় জরুরি চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হওয়া এক দালালচক্রের তৎপরতায় সাধারণ রোগীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন প্রতিদিন কয়েকশ রোগী চিকিৎসা সেবা নিতে এলেও সীমিত জনবল ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুবিধার অভাবে কাঙ্ক্ষিত সেবা মিলছে না বলে অভিযোগ করেছেন দূর দূরান্ত থেকে আসা রোগী ও স্বজনরা। ২ জুলাই রোজ বৃহস্পতিবার হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, বহির্বিভাগে সকাল থেকেই রোগীদের দীর্ঘ সারি হয়ে দাঁড়িয়ে আছে রোগীরা একজন চিকিৎসককে একাধিক বিভাগের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। ফলে রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। শিশু, বয়স্ক ও নারী রোগীদের অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে চিকিৎসকের সাক্ষাৎ মিলেনা। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৫০ শয্যার এ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের অনুমোদিত পদের মধ্যে বর্তমানে ১০টি পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া তৃতীয় শ্রেণির প্রায় ৪০ শতাংশ এবং চতুর্থ শ্রেণির প্রায় ৫০ শতাংশ পদ দীর্ঘদিন ধরে খালি রয়েছে। ফলে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। সবচেয়ে বড় সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থার অভাব। হাসপাতালে কোনো জেনারেটর না থাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলে জরুরি বিভাগ, নেবুলাইজার, অক্সিজেন সাপোর্টসহ বিদ্যুৎনির্ভর বিভিন্ন চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয়। অনেক সময় রোগীর স্বজনদের হাতপাখা দিয়ে রোগীদের বাতাস করতে দেখা যায়। এতে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়। রেহেনা আক্তার নামের এক রোগী বলেন, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। অনেক সময় প্রয়োজনীয় চিকিৎসক পাওয়া যায় না। পরে বাধ্য হয়ে বেসরকারি হাসপাতালে যেতে হয়। এতে আমাদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুল বাসেত বলেন, এত বড় উপজেলার একমাত্র সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক ও জনবল সংকট দীর্ঘদিনের। দ্রুত শূন্য পদে নিয়োগ একটি জেনারেটর স্থাপন করা না হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। এদিকে হাসপাতালকে দালালমুক্ত রাখতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ১ জুলাই থেকে হাসপাতালের ১০ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোনো দালালের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ.এইচ.এম. ফখরুল হোসেন বলেন, কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক, জনবল ও জেনারেটর সংকটের বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। শূন্য পদ পূরণ জেনারেটর বরাদ্দের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে জরুরি ভিত্তিতে চিঠি পাঠানো হবে। হাসপাতালের সেবায় কোনো ধরনের অনিয়ম, দালালচক্রের তৎপরতা বরদাশত করা হবে না। ইতোমধ্যে হাসপাতালের নিরাপত্তা ও দালাল নিয়ন্ত্রণে ১০ জন আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাদিয়া তাসনিম মুনমুন বলেন, চিকিৎসক ও জনবল সংকট সত্ত্বেও সীমিত জনবল নিয়ে হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে। শূন্য পদ পূরণ জেনারেটর বরাদ্দের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে প্রয়োজনীয় চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা আন্তরিকভাবে কাজ করছেন। হাসপাতালকে দালালমুক্ত রাখতে প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা গেছে, প্রতিদিন এ হাসপাতালে জরুরি প্রসূতি সেবা, নবজাতক ও শিশু চিকিৎসা, অক্সিজেন সাপোর্ট, টিকাদান, বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হয়। কিন্তু জনবল সংকট ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে সেবার মান ধরে রাখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

রাজপাড়ায় র‍্যাব-৫ এর অভিযান ১ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার

শ্রীপুরে সরঃ প্রাঃ বিদ্যালয়ের দুইজন সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ,পরিশেষে বিভাগীয় মামলা

Update Time : 11:17:26 pm, Saturday, 4 October 2025

শ্রীপুরে সরঃ প্রাঃ বিদ্যালয়ের দুইজন সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ,পরিশেষে বিভাগীয় মামলা

গাজীপুর থেকে নিজস্ব প্রতিনিধি মোঃ আল আমিন

গাজীপুর জেলা শ্রীপুর উপজেলার ১২৭ নং পশ্চিম নিজমাওনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ ছানোয়ার হোসেন এবং তার স্ত্রী শিক্ষিকা মোছাঃ শেলিনা আক্তার এর বিরুদ্ধে অভিযোগ সমূহ ‘ সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮ এর বিধি অসদাচরণের পর্যায় ভুক্ত অপরাধ। সে মোতাবেক তাদের উভয়ের বিরুদ্ধে – সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮ এর বিধি ২(খ), ৩(খ)ধারা মোতাবেক বিভাগীয় মামলা রুজু করেন শ্রীপুর উপজেলা সরকারি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফাতেমা নাসরিন এবং উক্ত বিধিমালার ৪(৩) এর উপবিধি (ঘ) মোতাবেক তাদের কে চাকুরি হতে কেন রবরখাস্ত ( Dismissal from Service) করা হবেনা তার সাফাওয়ারী জবাব জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে জমা দিতে বলা হয়।

নিকট অতীতের স্বনামধন্য এই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান বর্তমানে ক্রমাগত নিম্নমূখী হওয়ায় এবং শিক্ষকগণের- অশিক্ষক সুলভ অসদাচরণের কারণে দিন দিন ছাত্র সংখ্যা কমে যাচ্ছে। দীর্ঘ্যদিন যাবৎ এই প্রতিষ্ঠানের দাতা সদস্য, ছাত্র অভিভাবক, সাবেক ছাত্র, শিক্ষা অনুরাগী এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ শিক্ষার মান উন্নয়নের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে পরিশেষে, সহকারী শিক্ষক মোঃ ছানোয়ার হোসেন এবং সহকারী শিক্ষিকা তার স্ত্রী মোছাঃ শেলিনা আক্তার এর বিরুদ্ধে শ্রীপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এবং গাজীপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর দুটি অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগে ছাত্র অভিভাবক, দাতা সদস্য, শিক্ষা অনুরাগী এবং গণ্যমান্য সহ ৫০ জন স্বাক্ষর করেন। অভিযোগে উল্লেখ থাকে যে, সহকারী শিক্ষক মোঃ ছানোয়ার মাস্টার স্থানীয় শিক্ষক হওয়ায় প্রধান শিক্ষকের কমান্ড মেনে চলত না, তার সাথে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যসহ তুইতুকারি ব্যবহার,একাধিক বার প্রধান শিক্ষকের গায়ে হাত তুলে,সর্বসময় বিভিন্ন ধরনের হুমকি ধামকি দিয়ে থাকে।

প্রধান শিক্ষক চৌকসকে জানান – “আমি সহকারী শিক্ষক ছানোয়ার হোসেন এবং তার স্ত্রী সহকারী শিক্ষিকা সেলিনা আক্তারের নিকট অসহায়। আমি এবং এসএমসি কমিটি বারবার উপজেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর মৌখিক অভিযোগ দায়ের করেও কোন প্রকার প্রতিকার পাইনি। তাই ঢিলেঢালাভাবে স্কুলের কার্যক্রম চলছে। শিক্ষার মান নিম্নগামী হওয়ায় দিন দিন স্কুলের ছাত্র সংখ্যা কমেই যাচ্ছে। তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন – ছানোয়ার মাস্টার এবং তার স্ত্রী সেলিনা আক্তার সর্বদাই শ্রেণী কক্ষে যথাযথ পাঠদান না করে বরং প্রাইভেট নিয়েই বেশি ব্যস্ত থাকেন। স্কুল কক্ষে প্রাইভেট পড়ানোর কারণ জানতে চাইলে আমাকে শারিরীকভাবে লাঞ্ছিত করে।

প্রাইভেট পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতি ক্লাসে অধিক গুরুত্ব দিয়ে থাকে। পরীক্ষার খাতায় তাদেরকে বেশি বেশি নাম্বার দিতেন অন্যদিকে মেধাবী ছাত্রদেরকেও প্রাইভেট না পড়ায় নাম্বার কম দিতেন এবং যতপ্রকার অপকৌশল সবগুলি এই দুই শিক্ষক প্রয়োগ করতেন। যারা প্রাইভেট না পড়তো ক্লাসে তাদেরকে বিভিন্ন অজুহাতে বেত্রাঘাতসহ মানসিক লাঞ্ছনা চালায় এবং তার কাছে প্রাইভেট পড়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে থাকেন। ছাত্র অভিভাবকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ ছিল তার নিত্যনৈমত্তিক কাজ।

এইসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড যখন বারবার দৃশ্যপটে চলে আসে তখনই ছাত্র অভিভাবক, শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিবর্গ ও এলাকাবাসী সমন্বিতভাবে তার বিরুদ্ধে শ্রীপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন।” সাবেক এসএমসি কমিটি চৌকসকে জানান- শিক্ষার মান বাড়ানোর জন্য আমরা অনেক চেষ্টা করেছি।

শ্রীপুর উপজেলা সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা একাধিকবার তাকে সতর্ক করেছেন। তাতে কোন ফল হয়নি। যেই লাউ সেই কদু।

অভিযোগে বিশেষভাবে উঠে এসেছে – অভিযুক্ত উক্ত সহকারি দুইজন শিক্ষক প্রাইভেট নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন। প্রাইভেট না পড়লে ছাত্র-ছাত্রীদের উপর ক্লাসে বিভিন্ন অজুহাতে বেত্রাঘাত করতন। ছাত্র অভিভাবকের সাথে তার অসদাচরণের প্রভাব ছিল অত্যধিক বেশি। প্রাইভেট পড়ুয়া ছাত্রদের পরীক্ষায় ইচ্ছাকৃত ভাবেই নাম্বার বেশি দেয়া। স্কুলে নিয়মিত ক্লাস না করা ছিল তার একটি স্থানীয় বড় প্রভাব। এরকম অজস্র অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে।

শ্রীপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর অভিযোগ দাখিলের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে আমলে নিয়ে ০২/০৭/২৫ ইং ৪ জন সহকারি শিক্ষা অফিসার সরজমিনে এসে তদন্ত করেন। তদন্ত কমিটির আহবায়ক ছিলেন শ্রীপুর উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা অফিসার মোঃ মনির হোসেন। তিনি চৌকসকে বলেন,আমরা অভিযোগ পাওয়ার পর যথা সময়ে সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে স্বাক্ষরকৃত দাতাগণ, শিক্ষানুরাগী, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং স্থানীয় ব্যক্তিবর্গের নিকট থেকে অভিযোগের প্রত্যেকটি বিষয়েই সত্যতা পাই।

যাচাই-বাছাই করার জন্য পুনরায় তদন্ত করে তার সত্যতা সন্দেহাতীত ভাবে নিশ্চিত হয়ে, আমরা আমাদের তদন্ত রিপোর্ট শ্রীপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর প্রেরণ করি।” শ্রীপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফাতেমা নাসরিন চৌকসকে বলেন,১২৭ নং পশ্চিম নিজমাওনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ ছানোয়ার হোসেন এবং সহকারী শিক্ষিকা মোছাঃ শেলিনা আক্তারের বিরুদ্ধে অত্র বিদ্যালয়ের ছাত্র অভিভাবক,শিক্ষানুরাগী এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ কর্তৃক দাখিলকৃত অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে আমলে নেই।

যথা সময়ে তদন্ত করে অপরাধসমূহ চিহ্নিত করে ০৮/০৮/২৫ইং তারিখে গাজীপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জ্বনাব মোঃ মাসুদ ভুঁইয়া এর নিকট প্রেরণ করি। তিনি আরো বলেন, পশ্চিম নিজমাওনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যবস্থা অত্যন্ত সূচনীয়। কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারাচ্ছন্ন। আমরা চাই সকলের সহযোগিতার মাধ্যমে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মানের উত্তরণ ঘটুক।

গাজীপুর জেলা শিক্ষা অফিসার মাসুদ ভূঁইয়া চৌকসকে বলেন, ১২৭ নং পশ্চিম নিজমাওনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র অভিভাবক, শিক্ষানুরাগী এবং গণ্যমান্য কর্তৃক ৫০ জনের স্বাক্ষরিত অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদনটি