Dhaka 6:45 am, Wednesday, 22 April 2026

হাতিয়ায় ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে ত্রাণের চাল লুটের অভিযোগ মাদ্রাসা প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে

হাতিয়ায় ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে ত্রাণের চাল লুটের অভিযোগ মাদ্রাসা প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে

 

মামুন রাফী, স্টাফ রিপোর্টার

 

নোয়াখালীর হাতিয়ায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের জি আর প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দকৃত ৩১ টন ত্রাণের চাল বণ্টনে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এতিম ছাত্রদের জন্য বরাদ্দকৃত এই চালের একটি বড় অংশ ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে বরাদ্দ নিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, উপজেলার মাত্র তিনটি নিবন্ধিত এতিমখানার অস্তিত্ব থাকলেও অধিকাংশ চাল বেনামী প্রতিষ্ঠানের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বুড়িরচর ইউনিয়নের বড়দেইল এলাকার মোজাহারুল উলুম মাদ্রাসা, রাশেদুল উলুম মাদ্রাসা ও সিরাজুল উলুম মাদ্রাসার নামে ৪ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে রাশেদুল উলুম ও সিরাজুল উলুম নামে কোনো প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

মোজাহারুল উলুম নুরানি মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক রাশেদুল ইসলাম স্বীকার করেন যে, মাদ্রাসার উন্নয়নে অর্থের ঘাটতি মেটাতে তিনি ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে চাল বরাদ্দ নিয়েছেন। তিনি বলেন, “মাদ্রাসার ভবন নির্মাণের জন্য বরাদ্দকৃত চাল বিক্রি করে ব্যবহার করেছি। শিক্ষার্থী ও শিক্ষক দিয়ে চাঁদা কালেকশন না করে সরকারি অনুদানের এই পথ বেছে নিয়েছি।”

এ বিষয়ে হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনে জায়েদ আল হোসেন বলেন, “এই বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এতিমদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল নিয়ে এ ধরনের অনিয়মের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

হাতিয়ায় ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে ত্রাণের চাল লুটের অভিযোগ মাদ্রাসা প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে

Update Time : 08:04:28 am, Wednesday, 29 January 2025

হাতিয়ায় ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে ত্রাণের চাল লুটের অভিযোগ মাদ্রাসা প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে

 

মামুন রাফী, স্টাফ রিপোর্টার

 

নোয়াখালীর হাতিয়ায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের জি আর প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দকৃত ৩১ টন ত্রাণের চাল বণ্টনে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এতিম ছাত্রদের জন্য বরাদ্দকৃত এই চালের একটি বড় অংশ ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে বরাদ্দ নিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, উপজেলার মাত্র তিনটি নিবন্ধিত এতিমখানার অস্তিত্ব থাকলেও অধিকাংশ চাল বেনামী প্রতিষ্ঠানের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বুড়িরচর ইউনিয়নের বড়দেইল এলাকার মোজাহারুল উলুম মাদ্রাসা, রাশেদুল উলুম মাদ্রাসা ও সিরাজুল উলুম মাদ্রাসার নামে ৪ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে রাশেদুল উলুম ও সিরাজুল উলুম নামে কোনো প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

মোজাহারুল উলুম নুরানি মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক রাশেদুল ইসলাম স্বীকার করেন যে, মাদ্রাসার উন্নয়নে অর্থের ঘাটতি মেটাতে তিনি ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে চাল বরাদ্দ নিয়েছেন। তিনি বলেন, “মাদ্রাসার ভবন নির্মাণের জন্য বরাদ্দকৃত চাল বিক্রি করে ব্যবহার করেছি। শিক্ষার্থী ও শিক্ষক দিয়ে চাঁদা কালেকশন না করে সরকারি অনুদানের এই পথ বেছে নিয়েছি।”

এ বিষয়ে হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনে জায়েদ আল হোসেন বলেন, “এই বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এতিমদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল নিয়ে এ ধরনের অনিয়মের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।