Dhaka 7:44 pm, Friday, 5 June 2026

দিঘলিয়ায় উপজেলা পরিষদের পতিত জমি এখন সবজির বাগান

দিঘলিয়ায় উপজেলা পরিষদের পতিত জমি এখন সবজির বাগান


 

মোল্লা ইকবাল হুসাইন দিঘলিয়া(খুলনা) প্রতিনিধি

 

বাড়ির আশপাশে বা অফিসের আঙিনায় পড়ে থাকা অব্যবহৃত জমি ফেলে না রেখে পরিকল্পিতভাবে শাক-সবজি চাষের এক সফল উদ্যোগ নিয়েছেন খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুল ইসলাম। তার এই উদ্যোগের ফলে উপজেলার ভেতরের এক সময়ের পরিত্যক্ত জমি এখন টাটকা সবজির এক খামারে পরিণত হয়েছে।

২০২৪ সালে উপজেলা চত্বরের প্রায় ২০ শতাংশ পতিত জমিকে চাষাবাদের আওতায় আনার পরিকল্পনা করেন মো. আরিফুল ইসলাম। জমিটি দীর্ঘকাল অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে ছিল। তিনি উপজেলার কর্মচারী মো. লিয়াকত আহমেদকে সাথে নিয়ে জমিটি পরিষ্কার করে চাষের উপযোগী করে তোলেন।বর্তমানে ওই জমিতে শসা, লাল শাক, বিটকপি, ধনিয়া, বেগুন, টমেটো, পালং শাক, বাঁধাকপি, ফুলকপি ও কচুসহ বিভিন্ন মৌসুমি সবজির আবাদ করা হয়েছে। কৃষি অফিসের নিয়মিত পরামর্শ অনুযায়ী পরিচর্যা করায় সবজির ফলন বেশ ভালো হয়েছে। বিষমুক্ত ও টাটকা এসব সবজি একদিকে যেমন পুষ্টির চাহিদা মেটাচ্ছে, অন্যদিকে জায়গাটির সৌন্দর্যও বৃদ্ধি করেছে।উপজেলা চত্বরের এই সবজি বাগান দেখতে মাঝেমধ্যেই আশপাশের লোকজন আসছেন। অফিসের আঙিনায় এমন উৎপাদনশীল কাজ দেখে স্থানীয়রা উৎসাহিত হচ্ছেন। অনেকেই নিজ বাড়ির আশপাশের পতিত জমিতে সবজি চাষের পরিকল্পনা করছেন।

পরিদর্শনে আসা স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগে এই জায়গাটি অবহেলায় পড়ে ছিল। এখন সেখানে সবুজ ফসলের সমারোহ দেখে তারা মুগ্ধ। এটি দেখে তারা নিজেরাও বাড়ির আঙিনায় ছোট পরিসরে সবজি চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। উপজেলার কর্মচারী মো. লিয়াকত আহমেদ জানান, গত বছরও কিছু সবজি চাষে ভালো ফলন পাওয়ার পর ইউএনও স্যারের নির্দেশনায় এবার বড় পরিসরে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই কাজে দিঘলিয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস থেকে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রশাসনের এমন উদ্যোগ সাধারণ মানুষকে কৃষি কাজে সম্পৃক্ত হতে উৎসাহিত করবে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

লাখাইয়ে বিশ্ব পরিবেশ দিবসে বৃক্ষ রোপন কর্মসূচি

দিঘলিয়ায় উপজেলা পরিষদের পতিত জমি এখন সবজির বাগান

Update Time : 11:58:14 pm, Sunday, 11 January 2026

দিঘলিয়ায় উপজেলা পরিষদের পতিত জমি এখন সবজির বাগান


 

মোল্লা ইকবাল হুসাইন দিঘলিয়া(খুলনা) প্রতিনিধি

 

বাড়ির আশপাশে বা অফিসের আঙিনায় পড়ে থাকা অব্যবহৃত জমি ফেলে না রেখে পরিকল্পিতভাবে শাক-সবজি চাষের এক সফল উদ্যোগ নিয়েছেন খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুল ইসলাম। তার এই উদ্যোগের ফলে উপজেলার ভেতরের এক সময়ের পরিত্যক্ত জমি এখন টাটকা সবজির এক খামারে পরিণত হয়েছে।

২০২৪ সালে উপজেলা চত্বরের প্রায় ২০ শতাংশ পতিত জমিকে চাষাবাদের আওতায় আনার পরিকল্পনা করেন মো. আরিফুল ইসলাম। জমিটি দীর্ঘকাল অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে ছিল। তিনি উপজেলার কর্মচারী মো. লিয়াকত আহমেদকে সাথে নিয়ে জমিটি পরিষ্কার করে চাষের উপযোগী করে তোলেন।বর্তমানে ওই জমিতে শসা, লাল শাক, বিটকপি, ধনিয়া, বেগুন, টমেটো, পালং শাক, বাঁধাকপি, ফুলকপি ও কচুসহ বিভিন্ন মৌসুমি সবজির আবাদ করা হয়েছে। কৃষি অফিসের নিয়মিত পরামর্শ অনুযায়ী পরিচর্যা করায় সবজির ফলন বেশ ভালো হয়েছে। বিষমুক্ত ও টাটকা এসব সবজি একদিকে যেমন পুষ্টির চাহিদা মেটাচ্ছে, অন্যদিকে জায়গাটির সৌন্দর্যও বৃদ্ধি করেছে।উপজেলা চত্বরের এই সবজি বাগান দেখতে মাঝেমধ্যেই আশপাশের লোকজন আসছেন। অফিসের আঙিনায় এমন উৎপাদনশীল কাজ দেখে স্থানীয়রা উৎসাহিত হচ্ছেন। অনেকেই নিজ বাড়ির আশপাশের পতিত জমিতে সবজি চাষের পরিকল্পনা করছেন।

পরিদর্শনে আসা স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগে এই জায়গাটি অবহেলায় পড়ে ছিল। এখন সেখানে সবুজ ফসলের সমারোহ দেখে তারা মুগ্ধ। এটি দেখে তারা নিজেরাও বাড়ির আঙিনায় ছোট পরিসরে সবজি চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। উপজেলার কর্মচারী মো. লিয়াকত আহমেদ জানান, গত বছরও কিছু সবজি চাষে ভালো ফলন পাওয়ার পর ইউএনও স্যারের নির্দেশনায় এবার বড় পরিসরে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই কাজে দিঘলিয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস থেকে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রশাসনের এমন উদ্যোগ সাধারণ মানুষকে কৃষি কাজে সম্পৃক্ত হতে উৎসাহিত করবে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।