Dhaka 7:36 pm, Thursday, 9 July 2026

পর্নোগ্রাফি চক্র, নির্মাণসামগ্রী চুরি ও বিদ্যুৎ মিটার চুরির ঘটনায় পৃথক মামলা; পলাতকদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত

গাজীপুরে বিশেষ প্রতিনিধি:মোঃ ফরহাদুল ইসলাম জুয়েল

গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুর থানার পুলিশের পৃথক তিনটি অভিযানে পর্নোগ্রাফি তৈরি ও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ, নির্মাণসামগ্রী চুরি এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ মিটার চুরি ও মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৮ জুলাই ভোরে কাশিমপুরের গ্রীনসিটি মোজারমিল এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. জাকির হোসেন (৪২) ও নায়েব আলী (২৬)-কে আটক করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে আরও কয়েকজন পালিয়ে যায়। ধৃতদের কাছ থেকে জব্দ করা দুটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনে একাধিক অশ্লীল ভিডিও, স্থিরচিত্র এবং ইমো অ্যাপের মাধ্যমে পর্নোগ্রাফি আদান-প্রদানের তথ্য পাওয়া যায়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছেন যে, সহযোগীদের নিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে কৌশলে বাসায় ডেকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে অজ্ঞাতে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করা হতো। পরে সেগুলো অর্থের বিনিময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হতো। এ ঘটনায় ২০১২ সালের পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

অন্যদিকে, কাশিমপুরের লোহাকৈর এলাকায় সিটি করপোরেশনের আরসিসি ড্রেন নির্মাণকাজে ব্যবহৃত প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ১০টি স্টিল শাটার চুরির ঘটনায় তানভির আহম্মেদ (২১)-কে আটক করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি সহযোগীদের নিয়ে শাটারগুলো চুরি করে বিক্রি করেছেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

এ ছাড়া দক্ষিণ পানিশাইল এলাকার একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বৈদ্যুতিক মিটার চুরি এবং মিটার ফেরত দেওয়ার নামে ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় আল-আমিন (৩২) ও বাবুল মিয়া (৩৫)-কে গ্রেপ্তার করেছে কাশিমপুর থানা পুলিশ। তদন্তে জানা যায়, মিটার চুরির পর ঘটনাস্থলে একটি মোবাইল নম্বর রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। ওই নম্বরে যোগাযোগ করলে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

কাশিমপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, তিনটি ঘটনারই তদন্ত চলছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং জব্দকৃত আলামতের ফরেনসিক পরীক্ষা শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

পর্নোগ্রাফি চক্র, নির্মাণসামগ্রী চুরি ও বিদ্যুৎ মিটার চুরির ঘটনায় পৃথক মামলা; পলাতকদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত

পর্নোগ্রাফি চক্র, নির্মাণসামগ্রী চুরি ও বিদ্যুৎ মিটার চুরির ঘটনায় পৃথক মামলা; পলাতকদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত

Update Time : 03:05:46 pm, Thursday, 9 July 2026

গাজীপুরে বিশেষ প্রতিনিধি:মোঃ ফরহাদুল ইসলাম জুয়েল

গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুর থানার পুলিশের পৃথক তিনটি অভিযানে পর্নোগ্রাফি তৈরি ও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ, নির্মাণসামগ্রী চুরি এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ মিটার চুরি ও মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৮ জুলাই ভোরে কাশিমপুরের গ্রীনসিটি মোজারমিল এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. জাকির হোসেন (৪২) ও নায়েব আলী (২৬)-কে আটক করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে আরও কয়েকজন পালিয়ে যায়। ধৃতদের কাছ থেকে জব্দ করা দুটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনে একাধিক অশ্লীল ভিডিও, স্থিরচিত্র এবং ইমো অ্যাপের মাধ্যমে পর্নোগ্রাফি আদান-প্রদানের তথ্য পাওয়া যায়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছেন যে, সহযোগীদের নিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে কৌশলে বাসায় ডেকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে অজ্ঞাতে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করা হতো। পরে সেগুলো অর্থের বিনিময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হতো। এ ঘটনায় ২০১২ সালের পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

অন্যদিকে, কাশিমপুরের লোহাকৈর এলাকায় সিটি করপোরেশনের আরসিসি ড্রেন নির্মাণকাজে ব্যবহৃত প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ১০টি স্টিল শাটার চুরির ঘটনায় তানভির আহম্মেদ (২১)-কে আটক করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি সহযোগীদের নিয়ে শাটারগুলো চুরি করে বিক্রি করেছেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

এ ছাড়া দক্ষিণ পানিশাইল এলাকার একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বৈদ্যুতিক মিটার চুরি এবং মিটার ফেরত দেওয়ার নামে ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় আল-আমিন (৩২) ও বাবুল মিয়া (৩৫)-কে গ্রেপ্তার করেছে কাশিমপুর থানা পুলিশ। তদন্তে জানা যায়, মিটার চুরির পর ঘটনাস্থলে একটি মোবাইল নম্বর রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। ওই নম্বরে যোগাযোগ করলে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

কাশিমপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, তিনটি ঘটনারই তদন্ত চলছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং জব্দকৃত আলামতের ফরেনসিক পরীক্ষা শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।