
নিজস্ব প্রতিবেদক: ডাঃ মোঃ শাহীন মিয়া
মাদকের ভয়াবহ ছোবলে একটি অসহায় পরিবারের করুণ চিত্র উঠে এসেছে ভ্রাম্যমাণ আদালতের এক অভিযানে। দীর্ঘদিন ধরে ছেলের মাদকাসক্তি, পারিবারিক নির্যাতন ও ভাঙচুরের ঘটনায় অতিষ্ঠ হয়ে অবশেষে নিজের সন্তানকেই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের হাতে তুলে দেন এক মা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে ওই মা বলেন, “আমার ছেলে ইয়াবা খায়। বাবার কাছ থেকে টাকা না পেলে আমাকে মারধর করে, ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে। আমরা গরিব মানুষ। এর আগেও ওকে ধরিয়ে দিয়েছিলাম। জামিনে বের হয়ে আবার আগের মতোই শুরু করেছে। আমি আর পারছি না।”
পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিযুক্ত যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি জানান, তিনি নিয়মিত অর্থ ব্যয় করে মাদক সংগ্রহ ও সেবন করেন। এ ঘটনায় উপস্থিত অনেকেই বলেন, যে পরিবার দৈনন্দিন জীবনের মৌলিক চাহিদা পূরণে হিমশিম খায়, সেই পরিবারের ওপর মাদকাসক্ত সদস্যের আর্থিক ও মানসিক চাপ আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
স্থানীয়দের মতে, মাদকের বিস্তার এখন শুধু শহরেই সীমাবদ্ধ নয়; গ্রামাঞ্চলেও তা উদ্বেগজনক হারে ছড়িয়ে পড়েছে। এর ফলে পারিবারিক সহিংসতা, সামাজিক অস্থিরতা, জুয়া ও বিভিন্ন অপরাধ বেড়ে চলেছে। অনেক পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
সচেতন মহলের দাবি, মাদকবিরোধী অভিযানে শুধু সেবনকারীদের নয়, মাদক ব্যবসা ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িত মূল হোতাদেরও আইনের আওতায় এনে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি পরিবার, সমাজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করা জরুরি।
মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা ও পারিবারিক মূল্যবোধ জোরদার করার কোনো বিকল্প নেই।
Reporter Name 






















