Dhaka 4:44 pm, Sunday, 26 April 2026

পবার আঞ্চলিক সড়ক যেনো এক মৃত্যুর ফাঁদ

  • Reporter Name
  • Update Time : 08:02:05 pm, Friday, 21 March 2025
  • 80 Time View

পবার আঞ্চলিক সড়ক যেনো এক মৃত্যুর ফাঁদ

মোঃ আকাশ ইসলাম, রাজশাহী প্রতিনিধি

রাজশাহী পবা উপজেলার খড়খড়ি বাইপাস থেকে মোহনগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কে একটু বৃষ্টিতেই পিচ ঢালা সড়ক পরিনত হয় কাঁদার সড়কে। বৃষ্টির পর কাঁদা মাখা সড়কটি দেখে বুঝার উপায় নেই এটা পাঁকা সড়ক। পুকুর খননের মাটি কাঁকড়া, মাহিন্দ্রা ও ট্রাক যোগে ইটভাটা সহ বিভিন্ন স্থানে নেওয়ার সময় মাটি পড়ে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। গত ২১ই মার্চ ঝিরিঝিরি বৃষ্টিতে আঞ্চলিক সড়কের বেহাল এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। যদি বৃষ্টি না হয় তবে ধুলায় চোখে দেখা যায় না। সড়কের পার্শ্ববর্তী বাড়ি-ঘরে ঢুকে যাচ্ছে ধুলা। ফলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সড়কের পাশে বসবাসরত গ্রামবাসীর এবং মাঝে মাঝে ঘটে যাচ্ছে সড়ক দুর্ঘটনা।
এলাকাবাসী জানায়,অবৈধ পুকুরের মাটি ইটভাটায় নেয়ার সময় অতিরিক্ত লোডকৃত মাটি রাস্তায় পড়ে সৃষ্টি হচ্ছে ধুলার,আবার একটু বৃষ্টি হলেই তৈরি হচ্ছে কাদা। লোডকৃত মাটিবাহী যানবাহনের অতিরিক্ত চাপে ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে রাস্তা। যে কারনে আমাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। আর ট্রাক দিয়ে মাটি নেওয়ার সময় রাস্তার পাশে থাকা ফসলের মধ্যে ধুলার প্রলেপ পড়ে নষ্ট হচ্ছে ফসল,শুধু তাই নয় ধুলা ডুকে যাচ্ছে বাড়ি-ঘরের ভিতর। আর একটু বৃষ্টি হলে কাদায় পরিনত হচ্ছে রাস্তা। চেয়ারম্যান মেম্বারসহ অনেক জনপ্রতিনিধিরা এ ব্যবসা করছেন সার্বিক ভাবে সহযোগিতা করছে প্রশাসন। আবার কেউ বড় বড় নেতাদের পরিচয় দিয়ে তাদের সাঙ্গপাঙ্গরা করছে এই ব্যবসা। এলাকাবাসীর অভিযোগ সরকারি কর্মকর্তাদের নজরদারির অভাবে রাস্তার এ অবস্থা তৈরি হচ্ছে। পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অভিযোগ করেও কোন ফলাফল পাওয়া যায় নি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,ভাল্লুক পুকুর থেকে হাট গোদাগাড়ী পর্যন্ত সড়ক বৃষ্টি হলেই হয়ে যায় মৃত্যুর ফাঁদ। আতিক নামে এক পথচারী বলেন, প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় শুধুই ধূলা। আজ সকাল থেকে বৃষ্টি এখন যানবাহন তো দূরের কথা পায়ে হেঁটে চলাচল করাই অসম্ভব। মাটির ট্রাক চলাচল বন্ধ না হলে এমন কষ্ট করতেই হবে।
সিএনজি ও অটোরিকশা চালকরা জানান, মাটির ট্রাক চলাচলের কারণে রাস্তায় যাত্রী নিয়ে আমরা সব সময় আতঙ্কে থাকি। তারপর বৃষ্টি হলে তো কথাই নেই। যাত্রীরাও আতঙ্কে থাকে কখন দূর্ঘটনা ঘটে। প্রতিবেদন সংগ্রহ কালিন অবস্থায় সংবাদ কর্মীদের সামনেই ১ কিলোমিটার রাস্তার মাঝখানে ঘটে যায় লোম হর্ষক ৬টি মটরসাইকেল দুর্ঘটনা।
এলাকাবাসী,পথচারী ও বিভিন্ন যানবাহনের চালকদের প্রশাসনের কাছে দাবি অবৈধ পুকুর খনন বন্ধ করে ইট ভাটার মালিকদের জবাবদিহিতার মাধ্যমে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

মোটরসাইকেলে মাদক বহন, গাঁজাসহ ০১ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার 

পবার আঞ্চলিক সড়ক যেনো এক মৃত্যুর ফাঁদ

Update Time : 08:02:05 pm, Friday, 21 March 2025

পবার আঞ্চলিক সড়ক যেনো এক মৃত্যুর ফাঁদ

মোঃ আকাশ ইসলাম, রাজশাহী প্রতিনিধি

রাজশাহী পবা উপজেলার খড়খড়ি বাইপাস থেকে মোহনগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কে একটু বৃষ্টিতেই পিচ ঢালা সড়ক পরিনত হয় কাঁদার সড়কে। বৃষ্টির পর কাঁদা মাখা সড়কটি দেখে বুঝার উপায় নেই এটা পাঁকা সড়ক। পুকুর খননের মাটি কাঁকড়া, মাহিন্দ্রা ও ট্রাক যোগে ইটভাটা সহ বিভিন্ন স্থানে নেওয়ার সময় মাটি পড়ে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। গত ২১ই মার্চ ঝিরিঝিরি বৃষ্টিতে আঞ্চলিক সড়কের বেহাল এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। যদি বৃষ্টি না হয় তবে ধুলায় চোখে দেখা যায় না। সড়কের পার্শ্ববর্তী বাড়ি-ঘরে ঢুকে যাচ্ছে ধুলা। ফলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সড়কের পাশে বসবাসরত গ্রামবাসীর এবং মাঝে মাঝে ঘটে যাচ্ছে সড়ক দুর্ঘটনা।
এলাকাবাসী জানায়,অবৈধ পুকুরের মাটি ইটভাটায় নেয়ার সময় অতিরিক্ত লোডকৃত মাটি রাস্তায় পড়ে সৃষ্টি হচ্ছে ধুলার,আবার একটু বৃষ্টি হলেই তৈরি হচ্ছে কাদা। লোডকৃত মাটিবাহী যানবাহনের অতিরিক্ত চাপে ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে রাস্তা। যে কারনে আমাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। আর ট্রাক দিয়ে মাটি নেওয়ার সময় রাস্তার পাশে থাকা ফসলের মধ্যে ধুলার প্রলেপ পড়ে নষ্ট হচ্ছে ফসল,শুধু তাই নয় ধুলা ডুকে যাচ্ছে বাড়ি-ঘরের ভিতর। আর একটু বৃষ্টি হলে কাদায় পরিনত হচ্ছে রাস্তা। চেয়ারম্যান মেম্বারসহ অনেক জনপ্রতিনিধিরা এ ব্যবসা করছেন সার্বিক ভাবে সহযোগিতা করছে প্রশাসন। আবার কেউ বড় বড় নেতাদের পরিচয় দিয়ে তাদের সাঙ্গপাঙ্গরা করছে এই ব্যবসা। এলাকাবাসীর অভিযোগ সরকারি কর্মকর্তাদের নজরদারির অভাবে রাস্তার এ অবস্থা তৈরি হচ্ছে। পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অভিযোগ করেও কোন ফলাফল পাওয়া যায় নি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,ভাল্লুক পুকুর থেকে হাট গোদাগাড়ী পর্যন্ত সড়ক বৃষ্টি হলেই হয়ে যায় মৃত্যুর ফাঁদ। আতিক নামে এক পথচারী বলেন, প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় শুধুই ধূলা। আজ সকাল থেকে বৃষ্টি এখন যানবাহন তো দূরের কথা পায়ে হেঁটে চলাচল করাই অসম্ভব। মাটির ট্রাক চলাচল বন্ধ না হলে এমন কষ্ট করতেই হবে।
সিএনজি ও অটোরিকশা চালকরা জানান, মাটির ট্রাক চলাচলের কারণে রাস্তায় যাত্রী নিয়ে আমরা সব সময় আতঙ্কে থাকি। তারপর বৃষ্টি হলে তো কথাই নেই। যাত্রীরাও আতঙ্কে থাকে কখন দূর্ঘটনা ঘটে। প্রতিবেদন সংগ্রহ কালিন অবস্থায় সংবাদ কর্মীদের সামনেই ১ কিলোমিটার রাস্তার মাঝখানে ঘটে যায় লোম হর্ষক ৬টি মটরসাইকেল দুর্ঘটনা।
এলাকাবাসী,পথচারী ও বিভিন্ন যানবাহনের চালকদের প্রশাসনের কাছে দাবি অবৈধ পুকুর খনন বন্ধ করে ইট ভাটার মালিকদের জবাবদিহিতার মাধ্যমে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা।