Dhaka 6:19 pm, Thursday, 9 July 2026

চাঁচড়া ইউপির রূপদিয়া দাখিল মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ

  • Reporter Name
  • Update Time : 03:01:53 pm, Wednesday, 8 July 2026
  • 11 Time View

মালিকুজ্জামান কাকা
যশোর সদর উপজেলার ১০নং চাঁচড়া ইউনিয়নের রূপদিয়া দাখিল মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননাসহ গুরুতর বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে মামলা চলা কালীন নিয়োগ গ্রহন প্রক্রিয়া, গোপনে ম্যানেজিং কমিটি গঠন, রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনাসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। অভিযুক্ত ঐ মাদ্রাসা সুপারের নাম আব্দুস সালাম।
জানা গেছে রূপদিয়া গ্রামের রহমত আলীর ছেলে বাবলু মোড়ল গোপনে ম্যানেজিং কমিটি গঠন প্রক্রিয়া চ্যালেঞ্জ করে মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞ সদর সহকারী জজ আদালতে চলমান মামলা নম্বর দেওয়ানি (ঘোষণামূলক ) ৪৬৭/২০২৫।
মামলার আসামিরা হচ্ছে মাদ্রাসা সুপার আব্দুস সালাম, এডহক কমিটির সভাপতি জাকির হোসেন, অভিভাবক সদস্য আলাউদ্দিন, দাতা সদস্য সামছুদ্দিন, প্রিজাইডিং অফিসার এস এম সাইফুল আলমসহ দায়িত্বশীjল কর্মকর্তাবৃন্দ। এর মধ্যে গত ২৮ জুন যশোর থেকে প্রকাশিত দৈনিক রানার পত্রিকার ভিতরের পাতায় সিঙ্গেল কলামে মাদ্রাসা সুপার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছেন। এর ফলে আদালত অবমাননা হয়েছে বলে আইন বিশেষজ্ঞরা অভিমত প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, মাদ্রাসা সুপার আব্দুস সালাম মূলত সাতক্ষীরা জেলার বাসিন্দা। তিনি কিছুদিন যাবৎ রূপদিয়ায় বসবাস করছেন। কিন্তু তিনি নিজে একটি রাজনৈতিক দলের পদ বাগিয়ে নিয়েছেন। জানা যায় জামায়াতের অর্থ আদায়কারীর একটি দায়িত্ব পালন করছেন। তবে রাতের আঁধারে নিষিদ্ধ কর্মকান্ড পরিচালনা করার গুঞ্জন আছে এলাকায়।
স্থানীয় সুধীজনেরা অভিযোগ করেছেন, আব্দুস সালাম কোন সঠিক নিয়ম বা আইন কানুন মানেনা। তিনি রাতের আঁধারে গোপনে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি গঠন করেন। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ঘুষ উৎকোচ দিয়ে সেই কমিটি পাশ করিয়ে এনে নিজের আখের গোছান। একই ভাবে গোপনে নিয়োগ প্রক্রিয়া সেরে লাখ লাখ টাকা পকেটস্থ করেন। কেউ সঠিক প্রক্রিয়ার কথা বললে তাকে উল্টো নাজেহাল করেন।
রূপদিয়া গ্রামবাসী বলেন, মাদ্রাসা সুপারের স্বরাচারী ভূমিকায় আদতে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির কোন উন্নয়ন হচ্ছে না। ফলে রূপদিয়া দাখিল মাদ্রাসা শুরুর সেই অবহেলিত পর্যায়েই রয়ে গেছে।
মামলার বাদি বাবলু মোড়ল বলেন, গ্রামবাসী মাদ্রাসা সুপারের কোন চাপিয়ে দেওয়া অন্যায় মেনে নেবে না। আর তার রেফারেন্সসহ পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি আদালতে চ্যালেঞ্জ জানাতে আইনজীবি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই ভাবে রাতে গোপনে ম্যানেজিং কমিটি গঠন করা হলে আন্দোলন করে সাধারণ গ্রামবাসী তা প্রতিরোধ করবে।
এসব অভিযোগ বিষয়ে রূপদিয়া দাখিল মাদ্রাসা সুপার আব্দুস সালাম কোন মন্তব্য করেননি। তবে গ্রামবাসী বলেন অভিযোগ গুলো সঠিক। তাই তিনি মন্তব্য করেননি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

পর্নোগ্রাফি চক্র, নির্মাণসামগ্রী চুরি ও বিদ্যুৎ মিটার চুরির ঘটনায় পৃথক মামলা; পলাতকদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত

চাঁচড়া ইউপির রূপদিয়া দাখিল মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ

Update Time : 03:01:53 pm, Wednesday, 8 July 2026

মালিকুজ্জামান কাকা
যশোর সদর উপজেলার ১০নং চাঁচড়া ইউনিয়নের রূপদিয়া দাখিল মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননাসহ গুরুতর বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে মামলা চলা কালীন নিয়োগ গ্রহন প্রক্রিয়া, গোপনে ম্যানেজিং কমিটি গঠন, রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনাসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। অভিযুক্ত ঐ মাদ্রাসা সুপারের নাম আব্দুস সালাম।
জানা গেছে রূপদিয়া গ্রামের রহমত আলীর ছেলে বাবলু মোড়ল গোপনে ম্যানেজিং কমিটি গঠন প্রক্রিয়া চ্যালেঞ্জ করে মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞ সদর সহকারী জজ আদালতে চলমান মামলা নম্বর দেওয়ানি (ঘোষণামূলক ) ৪৬৭/২০২৫।
মামলার আসামিরা হচ্ছে মাদ্রাসা সুপার আব্দুস সালাম, এডহক কমিটির সভাপতি জাকির হোসেন, অভিভাবক সদস্য আলাউদ্দিন, দাতা সদস্য সামছুদ্দিন, প্রিজাইডিং অফিসার এস এম সাইফুল আলমসহ দায়িত্বশীjল কর্মকর্তাবৃন্দ। এর মধ্যে গত ২৮ জুন যশোর থেকে প্রকাশিত দৈনিক রানার পত্রিকার ভিতরের পাতায় সিঙ্গেল কলামে মাদ্রাসা সুপার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছেন। এর ফলে আদালত অবমাননা হয়েছে বলে আইন বিশেষজ্ঞরা অভিমত প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, মাদ্রাসা সুপার আব্দুস সালাম মূলত সাতক্ষীরা জেলার বাসিন্দা। তিনি কিছুদিন যাবৎ রূপদিয়ায় বসবাস করছেন। কিন্তু তিনি নিজে একটি রাজনৈতিক দলের পদ বাগিয়ে নিয়েছেন। জানা যায় জামায়াতের অর্থ আদায়কারীর একটি দায়িত্ব পালন করছেন। তবে রাতের আঁধারে নিষিদ্ধ কর্মকান্ড পরিচালনা করার গুঞ্জন আছে এলাকায়।
স্থানীয় সুধীজনেরা অভিযোগ করেছেন, আব্দুস সালাম কোন সঠিক নিয়ম বা আইন কানুন মানেনা। তিনি রাতের আঁধারে গোপনে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি গঠন করেন। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ঘুষ উৎকোচ দিয়ে সেই কমিটি পাশ করিয়ে এনে নিজের আখের গোছান। একই ভাবে গোপনে নিয়োগ প্রক্রিয়া সেরে লাখ লাখ টাকা পকেটস্থ করেন। কেউ সঠিক প্রক্রিয়ার কথা বললে তাকে উল্টো নাজেহাল করেন।
রূপদিয়া গ্রামবাসী বলেন, মাদ্রাসা সুপারের স্বরাচারী ভূমিকায় আদতে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির কোন উন্নয়ন হচ্ছে না। ফলে রূপদিয়া দাখিল মাদ্রাসা শুরুর সেই অবহেলিত পর্যায়েই রয়ে গেছে।
মামলার বাদি বাবলু মোড়ল বলেন, গ্রামবাসী মাদ্রাসা সুপারের কোন চাপিয়ে দেওয়া অন্যায় মেনে নেবে না। আর তার রেফারেন্সসহ পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি আদালতে চ্যালেঞ্জ জানাতে আইনজীবি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই ভাবে রাতে গোপনে ম্যানেজিং কমিটি গঠন করা হলে আন্দোলন করে সাধারণ গ্রামবাসী তা প্রতিরোধ করবে।
এসব অভিযোগ বিষয়ে রূপদিয়া দাখিল মাদ্রাসা সুপার আব্দুস সালাম কোন মন্তব্য করেননি। তবে গ্রামবাসী বলেন অভিযোগ গুলো সঠিক। তাই তিনি মন্তব্য করেননি।