Dhaka 11:18 am, Friday, 5 June 2026

সংসারের কাজ সামলে,মধ্যবিত্ত ঘরের মেয়ে-রেখা সিংহ একাধিক চ্যাম্পিয়ন ট্রফি অর্জন

সংসারের কাজ সামলে,মধ্যবিত্ত ঘরের মেয়ে-রেখা সিংহ একাধিক চ্যাম্পিয়ন ট্রফি অর্জন

সমরেশ রায় এর প্রতিবেদন, ছবি:- চম্পা দাস

আজ ৩০ শে অক্টোবর, শ্যামনগরের নেহেরু মার্কেটের সংযোগস্থলে,বড়ুয়া পাড়া,নর্থ চব্বিশ পরগনার প্রত্যন্ত গ্রামের বাসিন্দা রেখা সিংহ, তিনি একজন স্কুল টিচার ও গৃহিণী। বাড়ির অন্যান্যদের মধ্যে আছেন, স্বামী অনির্বাণ সিংহ, ছেলে এ. সিংহ, বাবা আশুতোষ সিংহ ,মা সুলোচনা সিংহ,

ছোটবেলা থেকেই রেখা সিংহের স্বপ্ন ছিল স্কুলে শিক্ষকতা করা, এবং তাহার সেই প্রচেষ্টা সফল হয় , তিনি মাল্টি টেলেন্টেড স্কুলে শিক্ষকতা করেন।, শিক্ষকতার পাশাপাশি একদিকে সংসার প্রতিপালন, অন্যদিকে ছেলেকে মানুষ করা, এই সকল সামলে তিনি বিভিন্ন শিক্ষকের সহযোগিতায় তাহাদের ট্রেনিং এর মধ্য দিয়ে, এক একটি শিক্ষায় পারদর্শী হয়ে ওঠেন।

আজ তিনি মডেলিং, যোগা, আর্ট, স্কেটিং , হর্স রিটিং এবং মাউথ অর্গানে পারদর্শী, সকলের সহযোগিতায় নিজের প্রতিভাকে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন ,এমনকি বহু সম্মানে ভূষিত হয়েছেন, গ্রাম থেকে শহর এবং শহর থেকে দেশ-বিদেশে পাড়ি দিয়েছেন, সমস্ত বাধা অতিক্রম করে, বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অন্যান্যদের হারিয়ে ,জয়ী হয়ে স্বর্ণপদক ও কাপ ছিনিয়ে এনেছেন, ডিস্ট্রিক্ট থেকে জেলা স্তর এবং জেলাস্তর থেকে ইন্টারন্যাশনালে, এমনকি আর্ট এক্সিবিশনেও তিনি সম্মানিত হয়েছেন। ডিসেম্বরে তিনি প্রতিযোগিতায় দিল্লি পাড়ি দেবেন। আর যোগায় তাহার প্রথম পথ চলা 2025 – ডিস্ট্রিক যোগা চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণ করে।

যে সকল শিক্ষকেরা রেখা সিংয়ের পাশে থেকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন, বিভিন্ন শিক্ষায় পারদর্শী করে তুলেছেন,
তাহাদের মধ্যে শিক্ষক প্রদীপ গুড়িয়া, অমিত কুমার সামন্ত, দীপঙ্কর দে এবং অমিত কুমার দাস মহাশয়, যাহাদের প্রচেষ্টায় এবং অক্লান্ত পরিশ্রমে আমার এই জয়, সকল শিক্ষকদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ, যাহারা সবসময় আমাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন নতুন নতুন পথ দেখান, কৃতজ্ঞ বাড়ির বাবা মা ও সকল পরিবারের কাছে , যাহারা সবসময় আমাকে সাহস যোগান ,

আর এই সকল সম্মানীয় মানুষের সান্নিধ্যে থেকে বিভিন্ন অ্যাক্টিভিটির মধ্য দিয়ে জীবনের আনন্দ খুঁজে পাই। এবং সবার আশীর্বাদে

আমি ১২ অক্টোবর দিঘাতে, দীঘা কাপ অর্জন করি যোগায় প্রায় ৫০ জন প্রতিযোগিকে হারিয়ে, এশিয়া প্যাসিফিক মালয়েশিয়া যোগাসনে চ্যাম্পিয়ন হই ফাস্ট প্লেস হয়ে এবং স্বর্ণপদক পাই, এরপর থাইল্যান্ডে গিয়ে থার্ড প্লেস পেয়ে ব্রোঞ্জ পাই। এছাড়াও মডেলিং এ ইন্টারন্যাশনাল প্রতিযোগিতায় ক্রাউন পাই, এছাড়া আর্ট এক্সিবিশনে আমি সম্মানিত হই শিক্ষক অমিত দাসের হাত দিয়ে, এইভাবে একের পর এক সম্মানে ভূষিত হয়েছি, এবার আমরা প্রতিযোগিতায় পাড়ি দেবো দিল্লি।

তবে প্রত্যেক শিক্ষক মহাশয় থেকে শুরু করে বাড়ির বাবা মায়ের একটাই বার্তা, এই সকল মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলেমেয়েদের পাশে যদি সরকারের তরফ থেকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে, তাহলে হয়তো এই সকল ট্যালেন্ট ছেলে-মেয়েরা আরো বহুদূর এগিয়ে যেতে পারবে, দেশের সম্মান রক্ষা করবে।
রেখা সিংয়ের আরেকটি স্বপ্ন, একটি সুন্দর স্কুল করে, ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের নিজের হাতে গড়ে তোলা। আর সবাই যদি এই ভাবে আমার পাশে থাকেন আমি নিশ্চয়ই আরো এগিয়ে যেতে পারবো।

রিপোর্টার, সমরেশ রায় ও শম্পা দাস, কলকাতা পশ্চিমবঙ্গ

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

সংসারের কাজ সামলে,মধ্যবিত্ত ঘরের মেয়ে-রেখা সিংহ একাধিক চ্যাম্পিয়ন ট্রফি অর্জন

Update Time : 11:59:18 pm, Thursday, 30 October 2025

সংসারের কাজ সামলে,মধ্যবিত্ত ঘরের মেয়ে-রেখা সিংহ একাধিক চ্যাম্পিয়ন ট্রফি অর্জন

সমরেশ রায় এর প্রতিবেদন, ছবি:- চম্পা দাস

আজ ৩০ শে অক্টোবর, শ্যামনগরের নেহেরু মার্কেটের সংযোগস্থলে,বড়ুয়া পাড়া,নর্থ চব্বিশ পরগনার প্রত্যন্ত গ্রামের বাসিন্দা রেখা সিংহ, তিনি একজন স্কুল টিচার ও গৃহিণী। বাড়ির অন্যান্যদের মধ্যে আছেন, স্বামী অনির্বাণ সিংহ, ছেলে এ. সিংহ, বাবা আশুতোষ সিংহ ,মা সুলোচনা সিংহ,

ছোটবেলা থেকেই রেখা সিংহের স্বপ্ন ছিল স্কুলে শিক্ষকতা করা, এবং তাহার সেই প্রচেষ্টা সফল হয় , তিনি মাল্টি টেলেন্টেড স্কুলে শিক্ষকতা করেন।, শিক্ষকতার পাশাপাশি একদিকে সংসার প্রতিপালন, অন্যদিকে ছেলেকে মানুষ করা, এই সকল সামলে তিনি বিভিন্ন শিক্ষকের সহযোগিতায় তাহাদের ট্রেনিং এর মধ্য দিয়ে, এক একটি শিক্ষায় পারদর্শী হয়ে ওঠেন।

আজ তিনি মডেলিং, যোগা, আর্ট, স্কেটিং , হর্স রিটিং এবং মাউথ অর্গানে পারদর্শী, সকলের সহযোগিতায় নিজের প্রতিভাকে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন ,এমনকি বহু সম্মানে ভূষিত হয়েছেন, গ্রাম থেকে শহর এবং শহর থেকে দেশ-বিদেশে পাড়ি দিয়েছেন, সমস্ত বাধা অতিক্রম করে, বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অন্যান্যদের হারিয়ে ,জয়ী হয়ে স্বর্ণপদক ও কাপ ছিনিয়ে এনেছেন, ডিস্ট্রিক্ট থেকে জেলা স্তর এবং জেলাস্তর থেকে ইন্টারন্যাশনালে, এমনকি আর্ট এক্সিবিশনেও তিনি সম্মানিত হয়েছেন। ডিসেম্বরে তিনি প্রতিযোগিতায় দিল্লি পাড়ি দেবেন। আর যোগায় তাহার প্রথম পথ চলা 2025 – ডিস্ট্রিক যোগা চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণ করে।

যে সকল শিক্ষকেরা রেখা সিংয়ের পাশে থেকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন, বিভিন্ন শিক্ষায় পারদর্শী করে তুলেছেন,
তাহাদের মধ্যে শিক্ষক প্রদীপ গুড়িয়া, অমিত কুমার সামন্ত, দীপঙ্কর দে এবং অমিত কুমার দাস মহাশয়, যাহাদের প্রচেষ্টায় এবং অক্লান্ত পরিশ্রমে আমার এই জয়, সকল শিক্ষকদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ, যাহারা সবসময় আমাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন নতুন নতুন পথ দেখান, কৃতজ্ঞ বাড়ির বাবা মা ও সকল পরিবারের কাছে , যাহারা সবসময় আমাকে সাহস যোগান ,

আর এই সকল সম্মানীয় মানুষের সান্নিধ্যে থেকে বিভিন্ন অ্যাক্টিভিটির মধ্য দিয়ে জীবনের আনন্দ খুঁজে পাই। এবং সবার আশীর্বাদে

আমি ১২ অক্টোবর দিঘাতে, দীঘা কাপ অর্জন করি যোগায় প্রায় ৫০ জন প্রতিযোগিকে হারিয়ে, এশিয়া প্যাসিফিক মালয়েশিয়া যোগাসনে চ্যাম্পিয়ন হই ফাস্ট প্লেস হয়ে এবং স্বর্ণপদক পাই, এরপর থাইল্যান্ডে গিয়ে থার্ড প্লেস পেয়ে ব্রোঞ্জ পাই। এছাড়াও মডেলিং এ ইন্টারন্যাশনাল প্রতিযোগিতায় ক্রাউন পাই, এছাড়া আর্ট এক্সিবিশনে আমি সম্মানিত হই শিক্ষক অমিত দাসের হাত দিয়ে, এইভাবে একের পর এক সম্মানে ভূষিত হয়েছি, এবার আমরা প্রতিযোগিতায় পাড়ি দেবো দিল্লি।

তবে প্রত্যেক শিক্ষক মহাশয় থেকে শুরু করে বাড়ির বাবা মায়ের একটাই বার্তা, এই সকল মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলেমেয়েদের পাশে যদি সরকারের তরফ থেকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে, তাহলে হয়তো এই সকল ট্যালেন্ট ছেলে-মেয়েরা আরো বহুদূর এগিয়ে যেতে পারবে, দেশের সম্মান রক্ষা করবে।
রেখা সিংয়ের আরেকটি স্বপ্ন, একটি সুন্দর স্কুল করে, ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের নিজের হাতে গড়ে তোলা। আর সবাই যদি এই ভাবে আমার পাশে থাকেন আমি নিশ্চয়ই আরো এগিয়ে যেতে পারবো।

রিপোর্টার, সমরেশ রায় ও শম্পা দাস, কলকাতা পশ্চিমবঙ্গ