Dhaka 6:30 am, Wednesday, 22 July 2026

পিঠাভোগে রবীন্দ্রজয়ন্তী.শান্তির বার্তা দিলেন বিভাগীয় কমিশনার.

মোল্লা জাহাঙ্গীর আলম-স্টাফ রিপোর্টার:-কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন শান্তি,মানবতা ও বিশ্বভ্রাতৃত্বের এক অনন্য প্রতীক। তাঁর জীবন ও সাহিত্য আজও মানবতার পথচলায় উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা হয়ে জ্বলছে’এভাবেই শান্তির বার্তা দিলেন খুলনা বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার(রাজস্ব)মিজ সিফাত।

শুক্রবার (৮ মে)বিকালে রূপসা উপজেলার ঐতিহাসিক পিঠাভোগ রবীন্দ্র স্মৃতি সংগ্রহশালায় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও খুলনা জেলা প্রশাসনের যৌথ আয়োজনে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘শান্তি ও মানবতার কবি রবীন্দ্রনাথ’।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিজ সিফাত বলেন,’রবীন্দ্রনাথ শুধু বাংলার কবি নন, তিনি ছিলেন বিশ্বমানবের কণ্ঠস্বর। তাঁর লেখনীর ছোঁয়ায় বাংলার মাটি, মানুষের সুখ-দুঃখ, প্রেম-বিরহ যেমন জীবন্ত হয়ে উঠেছে, তেমনি বিশ্বমানবতার চিরন্তন আহ্বানও প্রতিধ্বনিত হয়েছে। সাহিত্যকে তিনি কখনো নিছক বিনোদনের উপকরণ হিসেবে দেখেননি। তাঁর কলম সবসময় অন্যায়, অবিচার, হিংসা ও সংকীর্ণতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষায় উচ্চারিত হয়েছে।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘মানুষের মুক্তচিন্তা, সাম্য ও সম্প্রীতির পক্ষে কবিগুরু আজীবন ছিলেন সোচ্চার। তাঁর কবিতা, গান, গল্প ও প্রবন্ধে বারবার ফুটে উঠেছে মানুষের প্রতি গভীর মমত্ববোধ এবং এক শান্তিময় পৃথিবীর স্বপ্ন। যুগ পেরিয়ে গেলেও রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টি আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের এই সময়ে তাঁর সাহিত্য নতুন প্রজন্মকে সত্য, সুন্দর ও মানবতার পথে চলার প্রেরণা জোগায়।’

অনুষ্ঠানে স্মারক বক্তব্য দেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও গবেষক অধ্যাপক মো. আব্দুল মান্নান। তিনি বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্য মূলত মানবমুক্তির সাহিত্য। তাঁর প্রতিটি রচনা মানুষের অন্তরের অন্ধকার দূর করে আলোর পথ দেখায়। তিনি সবসময় অন্যায়, অবিচার, সংকীর্ণতা ও অমানবিকতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর কবিতা, গান, গল্প ও প্রবন্ধে মানবতার জয়গান এবং বিশ্বশান্তির আহ্বান ধ্বনিত হয়েছে। ন্যায়, সত্য, সৌন্দর্য ও মানবতার পক্ষে আজীবন সংগ্রাম করায় তিনি আজও বিশ্বমানবতার এক অনন্য প্রতীক।’

খুলনা স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক মো.আরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন রূপসা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা রিকতা। তিনি বলেন, ‘কবিগুরুর পৈতৃক ভিটা পিঠাভোগে তাঁর জন্মজয়ন্তী পালন করতে পেরে আমরা গর্বিত। এই সংগ্রহশালাকে কেন্দ্র করে একটি সাংস্কৃতিক বলয় গড়ে উঠুক, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রূপসা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইফতেখারুল ইসলাম শামীম, খুলনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার মো. মেহেদী হাসান ও জান্নাতুন নাঈম, রূপসা থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রাজ্জাক মীর, রূপসা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাবেদ হোসেন মল্লিক এবং ঘাটভোগ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এসএম আ. মালেক।

অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিবৃন্দ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং মঙ্গলদীপ প্রজ্বালনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মাধ্যমিক শিক্ষা দপ্তরের একাডেমিক সুপারভাইজার নিত্যানন্দ মন্ডল, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফারহানা ইয়াসমিন এবং রূপসা প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি কৃষ্ণ গোপাল সেন।

এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তরুন কুমার বালা, হিসাবরক্ষক মদন কুমার দাস, পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা তারেক ইকবাল আজিজ, সমাজসেবা কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম তরফদার, অধ্যক্ষ অজিত সরকার, হিল্লোল মুখার্জি, বিএনপি নেতা মিকাইল বিশ্বাস ও আরিফ মোল্লা, কবিগুরুর বংশধর গোপাল কুশারি,

প্রধান শিক্ষক কৃষ্ণপদ রায় ও যশোমন্ত ধর, রূপসা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শক্তিপদ বসু, প্রকৌশলী সুখেন রায়, সহকারী অধ্যাপক সুদীপ্ত কুমার মহলী ও পূর্নেন্দু মন্ডলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

আলোচনা সভা শেষে স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় রবীন্দ্র সংগীত, আবৃত্তি ও নৃত্যনাট্যসহ এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। পিঠাভোগ রবীন্দ্র স্মৃতি সংগ্রহশালা প্রাঙ্গণ সেদিন কবিগুরুর গানে- কবিতায় মুখরিত হয়ে ওঠে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

খালের পানিতে ভাসমান দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী যুবকের লাশ উদ্ধার

পিঠাভোগে রবীন্দ্রজয়ন্তী.শান্তির বার্তা দিলেন বিভাগীয় কমিশনার.

Update Time : 11:11:44 pm, Friday, 8 May 2026

মোল্লা জাহাঙ্গীর আলম-স্টাফ রিপোর্টার:-কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন শান্তি,মানবতা ও বিশ্বভ্রাতৃত্বের এক অনন্য প্রতীক। তাঁর জীবন ও সাহিত্য আজও মানবতার পথচলায় উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা হয়ে জ্বলছে’এভাবেই শান্তির বার্তা দিলেন খুলনা বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার(রাজস্ব)মিজ সিফাত।

শুক্রবার (৮ মে)বিকালে রূপসা উপজেলার ঐতিহাসিক পিঠাভোগ রবীন্দ্র স্মৃতি সংগ্রহশালায় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও খুলনা জেলা প্রশাসনের যৌথ আয়োজনে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘শান্তি ও মানবতার কবি রবীন্দ্রনাথ’।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিজ সিফাত বলেন,’রবীন্দ্রনাথ শুধু বাংলার কবি নন, তিনি ছিলেন বিশ্বমানবের কণ্ঠস্বর। তাঁর লেখনীর ছোঁয়ায় বাংলার মাটি, মানুষের সুখ-দুঃখ, প্রেম-বিরহ যেমন জীবন্ত হয়ে উঠেছে, তেমনি বিশ্বমানবতার চিরন্তন আহ্বানও প্রতিধ্বনিত হয়েছে। সাহিত্যকে তিনি কখনো নিছক বিনোদনের উপকরণ হিসেবে দেখেননি। তাঁর কলম সবসময় অন্যায়, অবিচার, হিংসা ও সংকীর্ণতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষায় উচ্চারিত হয়েছে।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘মানুষের মুক্তচিন্তা, সাম্য ও সম্প্রীতির পক্ষে কবিগুরু আজীবন ছিলেন সোচ্চার। তাঁর কবিতা, গান, গল্প ও প্রবন্ধে বারবার ফুটে উঠেছে মানুষের প্রতি গভীর মমত্ববোধ এবং এক শান্তিময় পৃথিবীর স্বপ্ন। যুগ পেরিয়ে গেলেও রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টি আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের এই সময়ে তাঁর সাহিত্য নতুন প্রজন্মকে সত্য, সুন্দর ও মানবতার পথে চলার প্রেরণা জোগায়।’

অনুষ্ঠানে স্মারক বক্তব্য দেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও গবেষক অধ্যাপক মো. আব্দুল মান্নান। তিনি বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্য মূলত মানবমুক্তির সাহিত্য। তাঁর প্রতিটি রচনা মানুষের অন্তরের অন্ধকার দূর করে আলোর পথ দেখায়। তিনি সবসময় অন্যায়, অবিচার, সংকীর্ণতা ও অমানবিকতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর কবিতা, গান, গল্প ও প্রবন্ধে মানবতার জয়গান এবং বিশ্বশান্তির আহ্বান ধ্বনিত হয়েছে। ন্যায়, সত্য, সৌন্দর্য ও মানবতার পক্ষে আজীবন সংগ্রাম করায় তিনি আজও বিশ্বমানবতার এক অনন্য প্রতীক।’

খুলনা স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক মো.আরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন রূপসা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা রিকতা। তিনি বলেন, ‘কবিগুরুর পৈতৃক ভিটা পিঠাভোগে তাঁর জন্মজয়ন্তী পালন করতে পেরে আমরা গর্বিত। এই সংগ্রহশালাকে কেন্দ্র করে একটি সাংস্কৃতিক বলয় গড়ে উঠুক, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রূপসা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইফতেখারুল ইসলাম শামীম, খুলনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার মো. মেহেদী হাসান ও জান্নাতুন নাঈম, রূপসা থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রাজ্জাক মীর, রূপসা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাবেদ হোসেন মল্লিক এবং ঘাটভোগ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এসএম আ. মালেক।

অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিবৃন্দ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং মঙ্গলদীপ প্রজ্বালনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মাধ্যমিক শিক্ষা দপ্তরের একাডেমিক সুপারভাইজার নিত্যানন্দ মন্ডল, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফারহানা ইয়াসমিন এবং রূপসা প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি কৃষ্ণ গোপাল সেন।

এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তরুন কুমার বালা, হিসাবরক্ষক মদন কুমার দাস, পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা তারেক ইকবাল আজিজ, সমাজসেবা কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম তরফদার, অধ্যক্ষ অজিত সরকার, হিল্লোল মুখার্জি, বিএনপি নেতা মিকাইল বিশ্বাস ও আরিফ মোল্লা, কবিগুরুর বংশধর গোপাল কুশারি,

প্রধান শিক্ষক কৃষ্ণপদ রায় ও যশোমন্ত ধর, রূপসা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শক্তিপদ বসু, প্রকৌশলী সুখেন রায়, সহকারী অধ্যাপক সুদীপ্ত কুমার মহলী ও পূর্নেন্দু মন্ডলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

আলোচনা সভা শেষে স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় রবীন্দ্র সংগীত, আবৃত্তি ও নৃত্যনাট্যসহ এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। পিঠাভোগ রবীন্দ্র স্মৃতি সংগ্রহশালা প্রাঙ্গণ সেদিন কবিগুরুর গানে- কবিতায় মুখরিত হয়ে ওঠে।