Dhaka 11:56 pm, Saturday, 13 June 2026

বাগমারা’য় মাদকের ভয়াবহ বিস্তার, ধ্বংসের মুখে যুবসমাজ: কঠোর পদক্ষেপের দাবি-জনতার

  • Reporter Name
  • Update Time : 09:51:49 pm, Saturday, 13 June 2026
  • 4 Time View

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর বাগমারা উপজেলা-এর ১৬টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভাজুড়ে দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে মাদকের বিস্তার। উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম, পাড়া-মহল্লা, বাজার ও জনবহুল এলাকায় সহজেই ইয়াবা, গাঁজা, ফেন্সিডিলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য পাওয়া যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একসময় গোপনে পরিচালিত হলেও বর্তমানে মাদক ব্যবসা অনেক এলাকায় প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে বলে দাবি সচেতন মহলের। ফলে উদ্বেগ- উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন অভিভাবক, শিক্ষক ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা সংঘবদ্ধভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বিভিন্ন এলাকায় কিশোর ও তরুণদের লক্ষ্য করে মাদক ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে অল্প বয়সী অনেকেই নেশার জালে আটকে পড়ছে। এর প্রভাব পড়ছে শিক্ষা, পারিবারিক সম্পর্ক এবং সামাজিক পরিবেশের ওপর। মাদকের কারণে চুরি, ছিনতাই, পারিবারিক কলহ ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডও বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঝে মধ্যে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ছোটখাটো বিক্রেতা বা বাহকরা ধরা পড়ছে, অথচ মূল হোতা ও বড় মাদক ব্যবসায়ীরা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাদের অভিযোগ, মাদক কারবারের পেছনে প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়া থাকায় অনেক সময় প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয় না। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আরও অভিযোগ রয়েছে, মাদক মামলায় আটক হওয়া অনেক আসামি অল্প সময়ের মধ্যেই জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। ফলে মাদক ব্যবসায়ীরা আইনকে তোয়াক্কা না করে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। এতে করে সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে। স্থানীয়দের মতে, শুধু বিচ্ছিন্ন অভিযান নয়, মাদকের উৎস, সরবরাহ চক্র এবং পৃষ্ঠপোষকদের চিহ্নিত করে সমন্বিতভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
শিক্ষক, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা বলছেন, বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে যুবসমাজ। মাদকের সহজলভ্যতা এবং সামাজিক নিয়ন্ত্রণের দুর্বলতার কারণে তরুণদের একটি অংশ নেশার দিকে ঝুঁকে পড়ছে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় সামাজিক সংকট সৃষ্টি করতে পারে। তারা মনে করেন, মাদকবিরোধী কঠোর অভিযান, আইনের কঠোর প্রয়োগ, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবারভিত্তিক নজরদারি ছাড়া এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।
বাগমারার সাধারণ মানুষের দাবি, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, তাদের সহযোগী ও পৃষ্ঠপোষকদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। স্থানীয়দের ভাষ্য, এখনই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে মাদকের ভয়াল থাবায় বাগমারার ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

অটোরিক্সা চার্জ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে অটো চালকের মৃত্যু,

বাগমারা’য় মাদকের ভয়াবহ বিস্তার, ধ্বংসের মুখে যুবসমাজ: কঠোর পদক্ষেপের দাবি-জনতার

Update Time : 09:51:49 pm, Saturday, 13 June 2026

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর বাগমারা উপজেলা-এর ১৬টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভাজুড়ে দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে মাদকের বিস্তার। উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম, পাড়া-মহল্লা, বাজার ও জনবহুল এলাকায় সহজেই ইয়াবা, গাঁজা, ফেন্সিডিলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য পাওয়া যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একসময় গোপনে পরিচালিত হলেও বর্তমানে মাদক ব্যবসা অনেক এলাকায় প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে বলে দাবি সচেতন মহলের। ফলে উদ্বেগ- উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন অভিভাবক, শিক্ষক ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা সংঘবদ্ধভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বিভিন্ন এলাকায় কিশোর ও তরুণদের লক্ষ্য করে মাদক ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে অল্প বয়সী অনেকেই নেশার জালে আটকে পড়ছে। এর প্রভাব পড়ছে শিক্ষা, পারিবারিক সম্পর্ক এবং সামাজিক পরিবেশের ওপর। মাদকের কারণে চুরি, ছিনতাই, পারিবারিক কলহ ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডও বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঝে মধ্যে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ছোটখাটো বিক্রেতা বা বাহকরা ধরা পড়ছে, অথচ মূল হোতা ও বড় মাদক ব্যবসায়ীরা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাদের অভিযোগ, মাদক কারবারের পেছনে প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়া থাকায় অনেক সময় প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয় না। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আরও অভিযোগ রয়েছে, মাদক মামলায় আটক হওয়া অনেক আসামি অল্প সময়ের মধ্যেই জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। ফলে মাদক ব্যবসায়ীরা আইনকে তোয়াক্কা না করে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। এতে করে সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে। স্থানীয়দের মতে, শুধু বিচ্ছিন্ন অভিযান নয়, মাদকের উৎস, সরবরাহ চক্র এবং পৃষ্ঠপোষকদের চিহ্নিত করে সমন্বিতভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
শিক্ষক, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা বলছেন, বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে যুবসমাজ। মাদকের সহজলভ্যতা এবং সামাজিক নিয়ন্ত্রণের দুর্বলতার কারণে তরুণদের একটি অংশ নেশার দিকে ঝুঁকে পড়ছে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় সামাজিক সংকট সৃষ্টি করতে পারে। তারা মনে করেন, মাদকবিরোধী কঠোর অভিযান, আইনের কঠোর প্রয়োগ, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবারভিত্তিক নজরদারি ছাড়া এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।
বাগমারার সাধারণ মানুষের দাবি, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, তাদের সহযোগী ও পৃষ্ঠপোষকদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। স্থানীয়দের ভাষ্য, এখনই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে মাদকের ভয়াল থাবায় বাগমারার ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে।