Dhaka 3:39 pm, Monday, 6 July 2026

মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে রাজশাহীতে সংবাদ সম্মেলন

মোঃ সোহেল রানা রাজশাহী বিভাগীয় প্রধান
রাজশাহীতে নিজের বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জাকারিয়া আল-আমিন।

রোববার (৬ জুলাই) সকাল ১১টায় রাজশাহী মহানগরের মতিহার থানার অক্ট্রয় মোড়ে অবস্থিত রিভার সিটি প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তিনি।

লিখিত বক্তব্যে জাকারিয়া আল-আমিন বলেন, সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে একটি দৈনিক পত্রিকাসহ বিভিন্ন অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং ফেসবুকে অসত্য ও বানোয়াট তথ্য প্রচার করা হয়েছে, যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছেন তিনি।

তিনি দাবি করেন, ২০০২ সালে তিনি বর্তমানে যেখানে বসবাস ও ব্যবসা করছেন, সেই জমি ক্রয় করেন। পরে ২০০৪ সালে মোয়াজ্জেন হোসেনের সঙ্গে পরিচয়ের সূত্র ধরে তার ছেলে তারিফ হায়দারী ব্যবসার প্রস্তাব দেন। সরল বিশ্বাসে তিনি ব্যবসার জন্য ২ লাখ ৪ হাজার টাকা প্রদান করেন| পরবর্তীতে ব্যাংক ঋণ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাসে তার দুই কাঠা জমির দলিল ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র নিয়ে নেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

জাকারিয়া আল-আমিনের অভিযোগ, পরবর্তীতে কাগজপত্র ফেরত না দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে অন্য একজনকে তার পরিচয়ে উপস্থাপন করে জমি রেজিস্ট্রি ও নামজারি করা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি আদালতে দলিল বাতিলের মামলা করেন। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন এবং আদালত সংশ্লিষ্ট জমি বিক্রয় বা হস্তান্তরের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ২০২৩ সালে ফিরোজ খান নামে এক ব্যক্তি জমির কাগজপত্র গ্রহণ করেন। পরে মাসুদ রানা নামে একজন তার কাছে এসে ফিরোজ খানের কাছ থেকে জমিটি ক্রয় করেছেন বলে দাবি করেন। এ সময় তিনি চলমান মামলার বিষয়টি জানালে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ করেন জাকারিয়া।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, মামলার তদন্তে তার টিপসই পরীক্ষার জন্য সিআইডিতে পাঠানো হয়েছিল। তবে ওই প্রতিবেদনে কিছু অস্পষ্টতা থাকায় তিনি পুনরায় ঢাকার ফরেনসিক ল্যাবে পরীক্ষা করার জন্য আদালতের কাছে আবেদন করেছেন এবং সেখান থেকে ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা প্রকাশ করেন।

তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানান।

এ ব্যপারে জানতে প্রতিপক্ষ মাসুদ রানা’র মুঠো ফোনে একাধীক বার ফোন দেয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

রেলওয়ের রূপান্তরে বড় পরিকল্পনা: বাড়বে ট্রেন, কমবে স্ট্যান্ডিং টিকিটের ভোগান্তি

মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে রাজশাহীতে সংবাদ সম্মেলন

Update Time : 02:26:01 pm, Monday, 6 July 2026

মোঃ সোহেল রানা রাজশাহী বিভাগীয় প্রধান
রাজশাহীতে নিজের বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জাকারিয়া আল-আমিন।

রোববার (৬ জুলাই) সকাল ১১টায় রাজশাহী মহানগরের মতিহার থানার অক্ট্রয় মোড়ে অবস্থিত রিভার সিটি প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তিনি।

লিখিত বক্তব্যে জাকারিয়া আল-আমিন বলেন, সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে একটি দৈনিক পত্রিকাসহ বিভিন্ন অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং ফেসবুকে অসত্য ও বানোয়াট তথ্য প্রচার করা হয়েছে, যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছেন তিনি।

তিনি দাবি করেন, ২০০২ সালে তিনি বর্তমানে যেখানে বসবাস ও ব্যবসা করছেন, সেই জমি ক্রয় করেন। পরে ২০০৪ সালে মোয়াজ্জেন হোসেনের সঙ্গে পরিচয়ের সূত্র ধরে তার ছেলে তারিফ হায়দারী ব্যবসার প্রস্তাব দেন। সরল বিশ্বাসে তিনি ব্যবসার জন্য ২ লাখ ৪ হাজার টাকা প্রদান করেন| পরবর্তীতে ব্যাংক ঋণ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাসে তার দুই কাঠা জমির দলিল ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র নিয়ে নেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

জাকারিয়া আল-আমিনের অভিযোগ, পরবর্তীতে কাগজপত্র ফেরত না দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে অন্য একজনকে তার পরিচয়ে উপস্থাপন করে জমি রেজিস্ট্রি ও নামজারি করা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি আদালতে দলিল বাতিলের মামলা করেন। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন এবং আদালত সংশ্লিষ্ট জমি বিক্রয় বা হস্তান্তরের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ২০২৩ সালে ফিরোজ খান নামে এক ব্যক্তি জমির কাগজপত্র গ্রহণ করেন। পরে মাসুদ রানা নামে একজন তার কাছে এসে ফিরোজ খানের কাছ থেকে জমিটি ক্রয় করেছেন বলে দাবি করেন। এ সময় তিনি চলমান মামলার বিষয়টি জানালে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ করেন জাকারিয়া।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, মামলার তদন্তে তার টিপসই পরীক্ষার জন্য সিআইডিতে পাঠানো হয়েছিল। তবে ওই প্রতিবেদনে কিছু অস্পষ্টতা থাকায় তিনি পুনরায় ঢাকার ফরেনসিক ল্যাবে পরীক্ষা করার জন্য আদালতের কাছে আবেদন করেছেন এবং সেখান থেকে ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা প্রকাশ করেন।

তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানান।

এ ব্যপারে জানতে প্রতিপক্ষ মাসুদ রানা’র মুঠো ফোনে একাধীক বার ফোন দেয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।