Dhaka 12:38 pm, Friday, 5 June 2026

৯ম.পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে বীরগঞ্জে ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের কর্মবিরতি

৯ম.পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে বীরগঞ্জে ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের কর্মবিরতি

মিসেস চামেলী আক্তার নিজস্ব সংবাদদাতা

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় ৯ম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে এক প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বীরগঞ্জ উপজেলা কর্মচারী কর্মবৃন্দের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন কর্মচারী নেতা শাহজাহান ও মোখলেসুর রহমান।
প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় এনে অবিলম্বে ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা জরুরি। তারা নিম্নোক্ত দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন—
বক্তারা দাবি করেন, ১৪-এর ভিত্তিতে ১২টি গ্রেড নির্ধারণ করে সর্বনিম্ন বেতন ৩৫,০০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ১,৪০,০০০ টাকা নির্ধারণ করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ৯ম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ করতে হবে এবং তা জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর করতে হবে।
এছাড়া ২০১৫ সালের পে-স্কেলের গেজেটে বাতিল হওয়া ৩টি টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহালসহ বেতন জ্যেষ্ঠতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হয়। সকল স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে গ্রাচ্যুইটির পাশাপাশি পেনশন চালু করা, বিদ্যমান গ্রাচ্যুইটি/আনুতোষিকের হার ৯০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০০ শতাংশ নির্ধারণ এবং পেনশন গ্রাচ্যুইটির ক্ষেত্রে ১ টাকার সমান ৫০০ টাকা নির্ধারণের দাবি জানান তারা।
বক্তারা আরও বলেন, ব্লক পোস্টে কর্মরত কর্মচারিসহ সকল পদে কর্মরতদের পদোন্নতি অথবা প্রতি ৫ বছর পর পর উচ্চতর গ্রেড প্রদান করতে হবে। একইসঙ্গে টেকনিক্যাল কাজে নিয়োজিত কর্মচারীদের টেকনিক্যাল পদের মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে।
কর্মচারীদের বেতন স্কেল শেষ ধাপে উন্নীত হওয়ার কারণে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চাকুরীরতদের জন্য বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি অব্যাহত রাখার দাবিও জানানো হয়।
উন্নয়ন প্রকল্প থেকে রাজস্বখাতে স্থানান্তরিত পদের কর্মচারীদের প্রকল্পকালীন চাকুরীর সময় গণনা না করার বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ২৪ মার্চ ২০০৮ তারিখের বৈষম্যমূলক আদেশ বাতিলের দাবি জানান বক্তারা।
বর্তমান বাজারমূল্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে বিদ্যমান ভাতা পুনঃনির্ধারণ এবং সামরিক ও আধাসামরিক বাহিনীর ন্যায় ১০-২০ গ্রেডভুক্ত কর্মচারীদের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালুর দাবি ওঠে।
এছাড়াও প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের মধ্যে বিদ্যমান বেতন ও পদ বৈষম্য দূর করতে সচিবালয়ের ন্যায় সকল সরকারি, আধাসরকারি, অধিদপ্তর, পরিদপ্তর ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের জন্য অভিন্ন নিয়োগবিধি প্রণয়নের দাবি জানানো হয়।
৯ম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ এবং জ্বালানি উপদেষ্টার বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে আয়োজিত এই প্রতিবাদ কর্মসূচির বিষয়টি দেশের ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ায় প্রচার ও প্রকাশের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি সবিনয় অনুরোধ জানান বক্তারা।
শেষে তারা মহান আল্লাহর সহায়তা কামনা করেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

৯ম.পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে বীরগঞ্জে ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের কর্মবিরতি

Update Time : 08:54:38 pm, Tuesday, 3 February 2026

৯ম.পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে বীরগঞ্জে ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের কর্মবিরতি

মিসেস চামেলী আক্তার নিজস্ব সংবাদদাতা

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় ৯ম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে এক প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বীরগঞ্জ উপজেলা কর্মচারী কর্মবৃন্দের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন কর্মচারী নেতা শাহজাহান ও মোখলেসুর রহমান।
প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় এনে অবিলম্বে ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা জরুরি। তারা নিম্নোক্ত দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন—
বক্তারা দাবি করেন, ১৪-এর ভিত্তিতে ১২টি গ্রেড নির্ধারণ করে সর্বনিম্ন বেতন ৩৫,০০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ১,৪০,০০০ টাকা নির্ধারণ করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ৯ম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ করতে হবে এবং তা জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর করতে হবে।
এছাড়া ২০১৫ সালের পে-স্কেলের গেজেটে বাতিল হওয়া ৩টি টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহালসহ বেতন জ্যেষ্ঠতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হয়। সকল স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে গ্রাচ্যুইটির পাশাপাশি পেনশন চালু করা, বিদ্যমান গ্রাচ্যুইটি/আনুতোষিকের হার ৯০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০০ শতাংশ নির্ধারণ এবং পেনশন গ্রাচ্যুইটির ক্ষেত্রে ১ টাকার সমান ৫০০ টাকা নির্ধারণের দাবি জানান তারা।
বক্তারা আরও বলেন, ব্লক পোস্টে কর্মরত কর্মচারিসহ সকল পদে কর্মরতদের পদোন্নতি অথবা প্রতি ৫ বছর পর পর উচ্চতর গ্রেড প্রদান করতে হবে। একইসঙ্গে টেকনিক্যাল কাজে নিয়োজিত কর্মচারীদের টেকনিক্যাল পদের মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে।
কর্মচারীদের বেতন স্কেল শেষ ধাপে উন্নীত হওয়ার কারণে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চাকুরীরতদের জন্য বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি অব্যাহত রাখার দাবিও জানানো হয়।
উন্নয়ন প্রকল্প থেকে রাজস্বখাতে স্থানান্তরিত পদের কর্মচারীদের প্রকল্পকালীন চাকুরীর সময় গণনা না করার বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ২৪ মার্চ ২০০৮ তারিখের বৈষম্যমূলক আদেশ বাতিলের দাবি জানান বক্তারা।
বর্তমান বাজারমূল্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে বিদ্যমান ভাতা পুনঃনির্ধারণ এবং সামরিক ও আধাসামরিক বাহিনীর ন্যায় ১০-২০ গ্রেডভুক্ত কর্মচারীদের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালুর দাবি ওঠে।
এছাড়াও প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের মধ্যে বিদ্যমান বেতন ও পদ বৈষম্য দূর করতে সচিবালয়ের ন্যায় সকল সরকারি, আধাসরকারি, অধিদপ্তর, পরিদপ্তর ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের জন্য অভিন্ন নিয়োগবিধি প্রণয়নের দাবি জানানো হয়।
৯ম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ এবং জ্বালানি উপদেষ্টার বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে আয়োজিত এই প্রতিবাদ কর্মসূচির বিষয়টি দেশের ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ায় প্রচার ও প্রকাশের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি সবিনয় অনুরোধ জানান বক্তারা।
শেষে তারা মহান আল্লাহর সহায়তা কামনা করেন।