
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: মোঃ আব্দুল বাছির
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীতে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ বালু উত্তোলন ও চাঁদাবাজির অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন স্থানীয় সাংবাদিক হাবিব সারোয়ার আজাদ। এদিকে, গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাজধানীর তেজগাঁও এলাকার বসুন্ধরা শপিং মল থেকে তাঁর ছেলে শিহাব সারোয়ার শিপু গ্রেপ্তার হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, যাদুকাটা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পরিবহনের সঙ্গে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। সেই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে রয়েছেন হাবিব সারোয়ার আজাদ। অভিযোগ রয়েছে, তাঁর প্রভাবেই প্রতিদিন নদীতে বিপুলসংখ্যক ড্রেজার ও শেইভ-মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করা হয়, যার ফলে নদীর নাব্যতা ও পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং তীরবর্তী বহু গ্রাম ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে।
সরেজমিনে নদী এলাকায় গিয়ে স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন শত শত বাল্কহেডে করে বিভিন্ন স্থানে বালু পরিবহন করা হচ্ছে। তাদের দাবি, এই কর্মকাণ্ডের কারণে যাদুকাটা নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, হাবিব সারোয়ার আজাদ কয়েক বছর ধরে সিলেট শহরে অবস্থান করলেও তাঁর সহযোগীদের মাধ্যমে পুরো কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, নদী থেকে আদায় করা অর্থ তাঁর ছেলে শিহাব সারোয়ার শিপুর কাছে জমা দেওয়া হতো।
এ বিষয়ে সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা একটি ভিডিওতে কয়েকজনকে অর্থ লেনদেন করতে দেখা যায় বলে দাবি করা হয়েছে। তবে ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে তাঁর বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ঘটনাও ঘটে। এরপর তিনি এলাকা ছেড়ে অন্যত্র বসবাস শুরু করেন বলে দাবি করা হয়।
এদিকে, অতীতে ভারতীয় পেঁয়াজ চোরাচালান-সংক্রান্ত একটি মামলাসহ বিভিন্ন ঘটনায় হাবিব সারোয়ার আজাদের নাম আসামির তালিকায় ছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। তাঁর ছেলে শিহাব সারোয়ার শিপুর বিরুদ্ধেও অস্ত্র ও চোরাচালান-সংক্রান্ত একাধিক মামলার অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাবিব সারোয়ার আজাদ। তিনি বলেন, “যারা বলছে আমার পক্ষে টাকা আদায় করেছে, তারা মিথ্যা বলছে। অথবা কোনো একটি পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার নাম ব্যবহার করে মানহানির চেষ্টা করছে।”
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, যাদুকাটা নদী রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক
Reporter Name 

















