Dhaka 7:26 pm, Thursday, 9 July 2026

সুপনামগঞ্জে টানা মুষলধারে বৃষ্টিতে ফুলে-ফেঁপে উঠছে নদ-নদী

  • Reporter Name
  • Update Time : 02:31:18 pm, Wednesday, 8 July 2026
  • 10 Time View

২৪ ঘণ্টায় দ্রুত বেড়েছে সুরমার পানি, নিম্নাঞ্চলে সতর্কতা; ৪৮ ঘণ্টায় বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা

রিপোর্টার মোঃ আব্দুল বাছির, সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬

সুনামগঞ্জ জেলাজুড়ে টানা মুষলধারে বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে জেলার নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত মঙ্গলবার রাত থেকে শুরু হওয়া অবিরাম বর্ষণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে প্রধান নদীগুলোর পানি বিপদসীমার দিকে ধাবিত হওয়ায় নিম্নাঞ্চল ও হাওর এলাকার মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। যদিও এখন পর্যন্ত জেলার কোনো নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেনি, তবে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বুধবার (৮ জুলাই) সকাল ৯টার সর্বশেষ পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, জেলার সবকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টেই নদ-নদীর পানি ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। বর্তমানে প্রতিটি পয়েন্টে পানি বিপদসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, ছাতক উপজেলা সদরের পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা নদীর পানি ৩৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে নদীর পানি বিপদসীমার ০.৯৭ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

অন্যদিকে, সুনামগঞ্জ জেলা সদরে গত ২৪ ঘণ্টায় ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি মৌসুমে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাতের মধ্যে অন্যতম। একই সময়ে শহরের ষোলঘর পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি ৩০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বর্তমানে তা বিপদসীমার ১.১১ মিটার নিচে অবস্থান করছে।

এ ছাড়া জেলার তাহিরপুর উপজেলার লাউড়েরগড় এবং বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার শক্তিয়ারখলা এলাকাসহ বিভিন্ন নদী ও হাওরাঞ্চলেও পানি বৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রাতভর বৃষ্টির কারণে অনেক নিচু সড়ক পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করেছে এবং কয়েকটি এলাকায় স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

আবহাওয়া অনুকূলে না এলে এবং উজান থেকে পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকলে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জেলার একাধিক পয়েন্টে নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে নিম্নাঞ্চল ও হাওর এলাকার ফসল, বসতবাড়ি এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, “আমরা সার্বক্ষণিকভাবে নদ-নদীর পানির পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। নদীতীরবর্তী ও হাওরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।”

জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোও পরিস্থিতির ওপর নজরদারি বাড়িয়েছে। বিশেষ করে নদীতীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না যাওয়ার এবং প্রয়োজনীয় শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও জরুরি সামগ্রী প্রস্তুত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, আবহাওয়ার উন্নতি হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে। তবে বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকলে সুনামগঞ্জে আবারও বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বর্তমানে জেলার মানুষ পরিস্থিতির দিকে সতর্ক দৃষ্টি রেখে পরবর্তী সরকারি নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

পর্নোগ্রাফি চক্র, নির্মাণসামগ্রী চুরি ও বিদ্যুৎ মিটার চুরির ঘটনায় পৃথক মামলা; পলাতকদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত

সুপনামগঞ্জে টানা মুষলধারে বৃষ্টিতে ফুলে-ফেঁপে উঠছে নদ-নদী

Update Time : 02:31:18 pm, Wednesday, 8 July 2026

২৪ ঘণ্টায় দ্রুত বেড়েছে সুরমার পানি, নিম্নাঞ্চলে সতর্কতা; ৪৮ ঘণ্টায় বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা

রিপোর্টার মোঃ আব্দুল বাছির, সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬

সুনামগঞ্জ জেলাজুড়ে টানা মুষলধারে বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে জেলার নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত মঙ্গলবার রাত থেকে শুরু হওয়া অবিরাম বর্ষণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে প্রধান নদীগুলোর পানি বিপদসীমার দিকে ধাবিত হওয়ায় নিম্নাঞ্চল ও হাওর এলাকার মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। যদিও এখন পর্যন্ত জেলার কোনো নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেনি, তবে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বুধবার (৮ জুলাই) সকাল ৯টার সর্বশেষ পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, জেলার সবকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টেই নদ-নদীর পানি ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। বর্তমানে প্রতিটি পয়েন্টে পানি বিপদসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, ছাতক উপজেলা সদরের পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা নদীর পানি ৩৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে নদীর পানি বিপদসীমার ০.৯৭ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

অন্যদিকে, সুনামগঞ্জ জেলা সদরে গত ২৪ ঘণ্টায় ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি মৌসুমে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাতের মধ্যে অন্যতম। একই সময়ে শহরের ষোলঘর পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি ৩০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বর্তমানে তা বিপদসীমার ১.১১ মিটার নিচে অবস্থান করছে।

এ ছাড়া জেলার তাহিরপুর উপজেলার লাউড়েরগড় এবং বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার শক্তিয়ারখলা এলাকাসহ বিভিন্ন নদী ও হাওরাঞ্চলেও পানি বৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রাতভর বৃষ্টির কারণে অনেক নিচু সড়ক পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করেছে এবং কয়েকটি এলাকায় স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

আবহাওয়া অনুকূলে না এলে এবং উজান থেকে পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকলে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জেলার একাধিক পয়েন্টে নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে নিম্নাঞ্চল ও হাওর এলাকার ফসল, বসতবাড়ি এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, “আমরা সার্বক্ষণিকভাবে নদ-নদীর পানির পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। নদীতীরবর্তী ও হাওরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।”

জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোও পরিস্থিতির ওপর নজরদারি বাড়িয়েছে। বিশেষ করে নদীতীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না যাওয়ার এবং প্রয়োজনীয় শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও জরুরি সামগ্রী প্রস্তুত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, আবহাওয়ার উন্নতি হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে। তবে বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকলে সুনামগঞ্জে আবারও বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বর্তমানে জেলার মানুষ পরিস্থিতির দিকে সতর্ক দৃষ্টি রেখে পরবর্তী সরকারি নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছেন।