Dhaka 7:25 am, Friday, 5 June 2026

অতিরিক্ত তীব্র তাপ বৃদ্ধি হওয়ায়,জনজীবন হয়ে উঠেছে দুর্বিসহ

  • Reporter Name
  • Update Time : 04:02:08 pm, Wednesday, 3 June 2026
  • 4 Time View

গাজীপুর কালিয়াকৈর উপজেলা জুড়ে চলমান তীব্র তাপদাহে জনজীবন হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ। প্রখর রোদ আর গরম বাতাসে যেন আগুন ঝরছে আকাশ থেকে। সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের তেজ বেড়ে যাওয়ায় রাস্তাঘাট, বাজার, শিল্পাঞ্চল ও জনবহুল এলাকাগুলোতে মানুষের চলাচল কমে গেছে চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ পড়েছেন সবচেয়ে বেশি বিপাকে।

চন্দ্রা ত্রিমোড়,হরতকিতলা, আমতলা,ডাইনকিনি, মাইওয়ান মোড়,চারতলা,মধ্যপাড়া, মৌচাক, সফিপুর, কালিয়াকৈর পৌর এলাকা ও বিভিন্ন গ্রামীণ জনপদে দুপুরের পর বাইরে বের হওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তীব্র রোদে পুড়ে যাচ্ছে পিচঢালা সড়ক। রিকশাচালক, ভ্যানচালক, নির্মাণশ্রমিক, কৃষিশ্রমিক ও কারখানাগামী শ্রমিকদের কষ্ট যেন সীমাহীন। মাথায় গামছা বেঁধে, কেউবা ছাতা হাতে জীবিকার তাগিদে রাস্তায় নামলেও গরমে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা সিয়াম জানান, কয়েকদিন ধরে রাতেও স্বস্তি মিলছে না। দিনের পাশাপাশি গভীর রাতেও ঘামতে হচ্ছে মানুষকে। শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে দেখা দিচ্ছে জ্বর, পানিশূন্যতা ও শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা।উপজেলার বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে হিটস্ট্রোক, ডায়রিয়া ও গরমজনিত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, অতিরিক্ত গরমে শরীর দ্রুত পানিশূন্য হয়ে পড়ছে। তাই জরুরি প্রয়োজন ছাড়া দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

পাশাপাশি বেশি করে বিশুদ্ধ পানি পান, ডাবের পানি, শরবত ও হালকা খাবার গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
শিল্প কারখানা বন্ধ থাকায় নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ থাকার পরেও মানুষের মাঝে স্বস্তি মিলছে না। গরমে মানুষ হাহাকার করছে। বৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত যেন ঠান্ডা কোন আবহাওয়া মিলছে না।
এদিকে তীব্র গরমে কালিয়াকৈরের বিভিন্ন বাজারে ঠান্ডা পানীয়, আখের রস, লেবুর শরবত ও তরমুজের চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুণ। রাস্তার পাশে অস্থায়ী শরবতের দোকানগুলোতে দেখা গেছে মানুষের ভিড়।

অনেকে আবার গরম থেকে বাঁচতে গাছের নিচে কিংবা ছায়াযুক্ত স্থানে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিচ্ছেন। গরমে অতিষ্ঠ হয়ে অনেক শ্রমিক কাজের ফাঁকে বারবার পানি পান করছেন।পর্যাপ্ত ঠান্ডা পরিবেশ না থাকায় কর্মপরিবেশও হয়ে উঠেছে কষ্টকর। শ্রমিকরা বলছেন, প্রচণ্ড গরমে দীর্ঘ সময় কাজ করতে গিয়ে মাথা ঘোরা ও দুর্বলতা অনুভব করছেন অনেকে।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে প্রতি বছর গরমের তীব্রতা বাড়ছে। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, গাছপালা কমে যাওয়া এবং পরিবেশ দূষণের কারণেও পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। তারা বেশি বেশি গাছ লাগানো ও পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তীব্র এই দাবদাহে এখন একটুখানি বৃষ্টি আর স্বস্তির পরশের অপেক্ষায় রয়েছে কালিয়াকৈরের সাধারণ মানুষ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

অতিরিক্ত তীব্র তাপ বৃদ্ধি হওয়ায়,জনজীবন হয়ে উঠেছে দুর্বিসহ

Update Time : 04:02:08 pm, Wednesday, 3 June 2026

গাজীপুর কালিয়াকৈর উপজেলা জুড়ে চলমান তীব্র তাপদাহে জনজীবন হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ। প্রখর রোদ আর গরম বাতাসে যেন আগুন ঝরছে আকাশ থেকে। সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের তেজ বেড়ে যাওয়ায় রাস্তাঘাট, বাজার, শিল্পাঞ্চল ও জনবহুল এলাকাগুলোতে মানুষের চলাচল কমে গেছে চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ পড়েছেন সবচেয়ে বেশি বিপাকে।

চন্দ্রা ত্রিমোড়,হরতকিতলা, আমতলা,ডাইনকিনি, মাইওয়ান মোড়,চারতলা,মধ্যপাড়া, মৌচাক, সফিপুর, কালিয়াকৈর পৌর এলাকা ও বিভিন্ন গ্রামীণ জনপদে দুপুরের পর বাইরে বের হওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তীব্র রোদে পুড়ে যাচ্ছে পিচঢালা সড়ক। রিকশাচালক, ভ্যানচালক, নির্মাণশ্রমিক, কৃষিশ্রমিক ও কারখানাগামী শ্রমিকদের কষ্ট যেন সীমাহীন। মাথায় গামছা বেঁধে, কেউবা ছাতা হাতে জীবিকার তাগিদে রাস্তায় নামলেও গরমে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা সিয়াম জানান, কয়েকদিন ধরে রাতেও স্বস্তি মিলছে না। দিনের পাশাপাশি গভীর রাতেও ঘামতে হচ্ছে মানুষকে। শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে দেখা দিচ্ছে জ্বর, পানিশূন্যতা ও শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা।উপজেলার বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে হিটস্ট্রোক, ডায়রিয়া ও গরমজনিত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, অতিরিক্ত গরমে শরীর দ্রুত পানিশূন্য হয়ে পড়ছে। তাই জরুরি প্রয়োজন ছাড়া দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

পাশাপাশি বেশি করে বিশুদ্ধ পানি পান, ডাবের পানি, শরবত ও হালকা খাবার গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
শিল্প কারখানা বন্ধ থাকায় নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ থাকার পরেও মানুষের মাঝে স্বস্তি মিলছে না। গরমে মানুষ হাহাকার করছে। বৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত যেন ঠান্ডা কোন আবহাওয়া মিলছে না।
এদিকে তীব্র গরমে কালিয়াকৈরের বিভিন্ন বাজারে ঠান্ডা পানীয়, আখের রস, লেবুর শরবত ও তরমুজের চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুণ। রাস্তার পাশে অস্থায়ী শরবতের দোকানগুলোতে দেখা গেছে মানুষের ভিড়।

অনেকে আবার গরম থেকে বাঁচতে গাছের নিচে কিংবা ছায়াযুক্ত স্থানে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিচ্ছেন। গরমে অতিষ্ঠ হয়ে অনেক শ্রমিক কাজের ফাঁকে বারবার পানি পান করছেন।পর্যাপ্ত ঠান্ডা পরিবেশ না থাকায় কর্মপরিবেশও হয়ে উঠেছে কষ্টকর। শ্রমিকরা বলছেন, প্রচণ্ড গরমে দীর্ঘ সময় কাজ করতে গিয়ে মাথা ঘোরা ও দুর্বলতা অনুভব করছেন অনেকে।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে প্রতি বছর গরমের তীব্রতা বাড়ছে। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, গাছপালা কমে যাওয়া এবং পরিবেশ দূষণের কারণেও পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। তারা বেশি বেশি গাছ লাগানো ও পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তীব্র এই দাবদাহে এখন একটুখানি বৃষ্টি আর স্বস্তির পরশের অপেক্ষায় রয়েছে কালিয়াকৈরের সাধারণ মানুষ।