Dhaka 3:36 pm, Friday, 5 June 2026

ঈদ-পরবর্তী পরিচ্ছন্নতায় ফিরেছে দিয়াবাড়ি মেট্রোরেল স্টেশন, স্বস্তিতে যাত্রীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: জীবন দেওয়ান উজ্জ্বল

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীর উত্তরা দিয়াবাড়ি পশুর হাটে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হাজারো কোরবানির পশু আনা হয়েছিল। নির্ধারিত হাটের সীমানা অতিক্রম করে অনেক পশু ও ব্যবসায়ী মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে এবং আশপাশের প্রধান সড়কে অবস্থান নেওয়ায় পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয়েছিল চরম বিশৃঙ্খলা, যানজট ও পরিবেশ দূষণ।

হাটে আসা পশু রাখার জন্য স্টেশনের নিচে বাঁশের ঘের নির্মাণ, যত্রতত্র ট্রাক পার্কিং এবং অব্যবস্থাপনার কারণে মেট্রোরেল যাত্রী ও পথচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রীকে দুর্গন্ধ, ময়লা-আবর্জনা ও যানজটের মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হয়েছে। বিশেষ করে অফিসগামী মানুষ, নারী, শিশু এবং বয়স্ক যাত্রীরা ব্যাপক ভোগান্তির শিকার হন।

যাত্রীদের অভিযোগ এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে নামে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) অভিযান চালিয়ে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচ থেকে পশু ও অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে দেয়। একই সঙ্গে সড়কে স্বাভাবিক যান চলাচল নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

এদিকে দিয়াবাড়ি পশুর হাট পরিদর্শনে এসে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পশুর হাট বসানোর জন্য কোনো ধরনের ইজারা বা অনুমোদন দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, টানা ভারী বৃষ্টির কারণে কিছু ব্যবসায়ী সাময়িকভাবে সেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তবে জনদুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

পশুর হাটকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন ধরে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে গোবর, পশুর বর্জ্য, মলমূত্র এবং বিভিন্ন ধরনের আবর্জনা জমে দুর্গন্ধযুক্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছিল। এতে যাত্রীদের পাশাপাশি আশপাশের বাসিন্দারাও চরম অসুবিধার সম্মুখীন হন।

ঈদ শেষে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) উদ্যোগে ব্যাপক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা দিনব্যাপী কাজ করে মেট্রোরেল স্টেশন ও আশপাশের এলাকা থেকে জমে থাকা সব ধরনের বর্জ্য অপসারণ করেন। পানি দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করা হয় পুরো এলাকা।

বর্তমানে দিয়াবাড়ি মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে ফিরে এসেছে আগের পরিচ্ছন্ন ও স্বাভাবিক পরিবেশ। যাত্রীরা স্বস্তির সঙ্গে চলাচল করছেন এবং দুর্গন্ধমুক্ত পরিবেশে মেট্রোরেল ব্যবহার করতে পারছেন।

তবে অনেক নাগরিকের প্রশ্ন, অনুমোদনবিহীনভাবে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পশু রাখার সুযোগ কীভাবে তৈরি হলো এবং এর জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না। ভবিষ্যতে যাতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ গণপরিবহন অবকাঠামোর আশপাশে এ ধরনের বিশৃঙ্খলা ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের ফলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। তবে নগর ব্যবস্থাপনার স্বার্থে ভবিষ্যতে আরও কঠোর নজরদারি এবং পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ধামইরহাটে পল্লী বিদ্যুতের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ, মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

ঈদ-পরবর্তী পরিচ্ছন্নতায় ফিরেছে দিয়াবাড়ি মেট্রোরেল স্টেশন, স্বস্তিতে যাত্রীরা

Update Time : 01:29:27 pm, Friday, 5 June 2026

নিজস্ব প্রতিবেদক: জীবন দেওয়ান উজ্জ্বল

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীর উত্তরা দিয়াবাড়ি পশুর হাটে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হাজারো কোরবানির পশু আনা হয়েছিল। নির্ধারিত হাটের সীমানা অতিক্রম করে অনেক পশু ও ব্যবসায়ী মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে এবং আশপাশের প্রধান সড়কে অবস্থান নেওয়ায় পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয়েছিল চরম বিশৃঙ্খলা, যানজট ও পরিবেশ দূষণ।

হাটে আসা পশু রাখার জন্য স্টেশনের নিচে বাঁশের ঘের নির্মাণ, যত্রতত্র ট্রাক পার্কিং এবং অব্যবস্থাপনার কারণে মেট্রোরেল যাত্রী ও পথচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রীকে দুর্গন্ধ, ময়লা-আবর্জনা ও যানজটের মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হয়েছে। বিশেষ করে অফিসগামী মানুষ, নারী, শিশু এবং বয়স্ক যাত্রীরা ব্যাপক ভোগান্তির শিকার হন।

যাত্রীদের অভিযোগ এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে নামে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) অভিযান চালিয়ে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচ থেকে পশু ও অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে দেয়। একই সঙ্গে সড়কে স্বাভাবিক যান চলাচল নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

এদিকে দিয়াবাড়ি পশুর হাট পরিদর্শনে এসে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পশুর হাট বসানোর জন্য কোনো ধরনের ইজারা বা অনুমোদন দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, টানা ভারী বৃষ্টির কারণে কিছু ব্যবসায়ী সাময়িকভাবে সেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তবে জনদুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

পশুর হাটকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন ধরে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে গোবর, পশুর বর্জ্য, মলমূত্র এবং বিভিন্ন ধরনের আবর্জনা জমে দুর্গন্ধযুক্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছিল। এতে যাত্রীদের পাশাপাশি আশপাশের বাসিন্দারাও চরম অসুবিধার সম্মুখীন হন।

ঈদ শেষে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) উদ্যোগে ব্যাপক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা দিনব্যাপী কাজ করে মেট্রোরেল স্টেশন ও আশপাশের এলাকা থেকে জমে থাকা সব ধরনের বর্জ্য অপসারণ করেন। পানি দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করা হয় পুরো এলাকা।

বর্তমানে দিয়াবাড়ি মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে ফিরে এসেছে আগের পরিচ্ছন্ন ও স্বাভাবিক পরিবেশ। যাত্রীরা স্বস্তির সঙ্গে চলাচল করছেন এবং দুর্গন্ধমুক্ত পরিবেশে মেট্রোরেল ব্যবহার করতে পারছেন।

তবে অনেক নাগরিকের প্রশ্ন, অনুমোদনবিহীনভাবে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পশু রাখার সুযোগ কীভাবে তৈরি হলো এবং এর জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না। ভবিষ্যতে যাতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ গণপরিবহন অবকাঠামোর আশপাশে এ ধরনের বিশৃঙ্খলা ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের ফলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। তবে নগর ব্যবস্থাপনার স্বার্থে ভবিষ্যতে আরও কঠোর নজরদারি এবং পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি।