
নিজস্ব প্রতিবেদক মোল্লা জাহাঙ্গীর আলম:
খুলনার বহুল আলোচিত এক্সিম ব্যাংক কর্মকর্তা পারভীন সুলতানাকে ধর্ষণের পর হত্যা এবং বাধা দেওয়ায় তার বাবা ইলিয়াস চৌধুরী হত্যা মামলায় ৫ আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রেখেছে উচ্চ আদালত। তবে ধর্ষণের ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) হাইকোর্টের ২৯ নম্বর বিশেষ বেঞ্চে বিচারপতি বিশ্বদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাসেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে দীর্ঘ শুনানি শেষে এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- সাইফুল ইসলাম পিটিল, তার ভাই শরিফুল ইসলাম, মো. লিটন, আজিজুর রহমান পলাশ ও আবু সাঈদ। মামলার সব আসামি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে খুলনা মহানগরীর লবণচরা থানার বুড়ো মৌলভীর দরগা এলাকায় এক্সিম ব্যাংকের খুলনা কালীবাড়ি শাখার ক্যাশ কর্মকর্তা পারভীন সুলতানাকে ধর্ষণের পর হত্যা করে ওই এলাকার ৫ সন্ত্রাসী। বাধা দেওয়ায় তার বাবা ইলিয়াস চৌধুরীকেও হত্যা করা হয়।
এ ঘটনায় নিহত ইলিয়াছ চৌধুরীর ছেলে রেজাউল আলম চৌধুরী বিপ্লব বাদী হয়ে ২০ সেপ্টেম্বর লবণচরা থানায় হত্যা এবং ২২ সেপ্টেম্বর ধর্ষণ মামলা করেন।
হত্যাকাণ্ডের চার বছর পর ২০১৯ সালের ১৬ জুলাই খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩-এর বিচারক মো. মহিদুজ্জামান দুই মামলায় পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। পরবর্তীতে ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের দীর্ঘ শুনানি শেষে হাইকোর্ট আজ চূড়ান্ত রায় প্রদান করেন।
রায় ঘোষণার পর মামলার বাদি রেজাউল আলম চৌধুরী বিপ্লব সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “১১ বছর পর আদালতের বারান্দায় ঘুরছি। এবার রায়ের বাস্তবায়ন দেখতে চাই।
বাদীর পক্ষে প্রথম থেকে আইনি সহযোগিতা দেন বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার খুলনা সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, “এই রায়ে বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে। ন্যায়বিচারের এই দীর্ঘ যাত্রায় যারা পাশে ছিলেন- সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা।
আইনজীবীরা বলছেন, দীর্ঘ ১০ বছর পর এ রায়ের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবার কিছুটা হলেও ন্যায়বিচার পেল।
মোল্লা জাহাঙ্গীর আলম 

















