Dhaka 12:04 am, Saturday, 25 July 2026

চরভদ্রাসনে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দ্বৈত অনারারিয়াম গ্রহণের অভিযোগ,তদন্তের দাবি

নিজস্ব প্রতিনিধি মোঃ আলমগীর মোল্লা

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার ৪নং গাজীরটেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ ইয়াকুব আলীর বিরুদ্ধে একই সময়ে দুটি পৃথক সরকারি/সরকার-নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সুবিধা (অনারারিয়াম/বেতন-ভাতা) গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোঃ ইয়াকুব আলী একদিকে ৪নং গাজীরটেক ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, অন্যদিকে চরভদ্রাসন উপজেলার নতুন ডাঙী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবেও কর্মরত রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক হিসেবে এমপিওভুক্ত বেতন-ভাতা গ্রহণের পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে প্রাপ্য সম্মানীও গ্রহণ করে আসছেন।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, একজন ব্যক্তি একই সময়ে দুটি সরকারি বা সরকার-নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করে উভয় প্রতিষ্ঠান থেকে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। তাদের মতে, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া উচিত।

এদিকে সম্প্রতি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) জারি করা এক নির্দেশনার আলোচনাও সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী, একজন এমপিওভুক্ত শিক্ষক বা কর্মচারী একই সময়ে দুটি লাভজনক পদ থেকে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন না। সেক্ষেত্রে এমপিও বেতন-ভাতা অথবা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে প্রাপ্য সম্মানীর মধ্যে যেকোনো একটি গ্রহণের বিধান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ৪নং গাজীরটেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও নতুন ডাঙী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ইয়াকুব আলী অভিযোগের বিষয়ে সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দেননি বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, “লিখিত অভিযোগ বা প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন এবং প্রয়োজনে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

বিঃদ্রঃ অভিযোগটি সংশ্লিষ্ট পক্ষের বিরুদ্ধে উত্থাপিত। যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই সাপেক্ষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

মনিরামপুর কুচলিয়ায় ঘের থেকে দিনে দুপুরে মাছ স্যালো নৌকা মালামাল লুট থানায় অভিযোগ

চরভদ্রাসনে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দ্বৈত অনারারিয়াম গ্রহণের অভিযোগ,তদন্তের দাবি

Update Time : 11:01:50 pm, Friday, 24 July 2026

নিজস্ব প্রতিনিধি মোঃ আলমগীর মোল্লা

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার ৪নং গাজীরটেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ ইয়াকুব আলীর বিরুদ্ধে একই সময়ে দুটি পৃথক সরকারি/সরকার-নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সুবিধা (অনারারিয়াম/বেতন-ভাতা) গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোঃ ইয়াকুব আলী একদিকে ৪নং গাজীরটেক ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, অন্যদিকে চরভদ্রাসন উপজেলার নতুন ডাঙী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবেও কর্মরত রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক হিসেবে এমপিওভুক্ত বেতন-ভাতা গ্রহণের পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে প্রাপ্য সম্মানীও গ্রহণ করে আসছেন।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, একজন ব্যক্তি একই সময়ে দুটি সরকারি বা সরকার-নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করে উভয় প্রতিষ্ঠান থেকে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। তাদের মতে, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া উচিত।

এদিকে সম্প্রতি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) জারি করা এক নির্দেশনার আলোচনাও সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী, একজন এমপিওভুক্ত শিক্ষক বা কর্মচারী একই সময়ে দুটি লাভজনক পদ থেকে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন না। সেক্ষেত্রে এমপিও বেতন-ভাতা অথবা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে প্রাপ্য সম্মানীর মধ্যে যেকোনো একটি গ্রহণের বিধান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ৪নং গাজীরটেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও নতুন ডাঙী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ইয়াকুব আলী অভিযোগের বিষয়ে সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দেননি বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, “লিখিত অভিযোগ বা প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন এবং প্রয়োজনে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

বিঃদ্রঃ অভিযোগটি সংশ্লিষ্ট পক্ষের বিরুদ্ধে উত্থাপিত। যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই সাপেক্ষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।