Dhaka 5:59 pm, Friday, 5 June 2026

অর্ধেকে নেমেছে হাঁসের ডিমের দাম, বিপাকে রয়েছে হাঁস খামারিরা

মোঃইব্রাহিম আলী,সিংড়া(নাটোর)প্রতিনিধিঃ রমজানকে ঘিরে হঠাৎ করে হাঁসের ডিমের দাম অর্ধেকে নেমে আসায় বড় ধরনের লোকসানে পড়েছেন সিংড়া উপজেলা-র শতাধিক হাঁস খামারী। আগে যেখানে পাইকারি প্রতি পিস হাঁসের ডিম ১৫ থেকে ১৭ টাকায় বিক্রি হতো, সেখানে বর্তমানে তা কমে ৯ থেকে ১১ টাকায় নেমে এসেছে। এতে খামার পরিচালনা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা।
উপজেলার ইটালী ইউনিয়ন-এর কুমগ্রামের খামারী মোঃ আয়ুব আলী জানান, চলনবিলের সিংড়া-বারুহাস সড়কের ডুবো ব্রিজ সংলগ্ন স্থানে তার খামার রয়েছে। খামারের ১২শ হাঁসের মধ্যে প্রায় ৭শ হাঁস নিয়মিত ডিম দিতো। মাত্র সাত দিনের ব্যবধানে ডিমের দাম অর্ধেকে নেমে আসায় এখন ৭শ ডিম বিক্রি করেও ১২শ হাঁসের খাবার জোগান দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এতে প্রতিদিনই লোকসান গুনতে হচ্ছে তাকে।
উপজেলার ডাহিয়া ইউনিয়ন-এর আয়েশ গ্রামের খামারী বাচ্চু মিয়া জানান, প্রায় ২৭ বছর ধরে হাঁসের খামার করে আসছেন তিনি। কিন্তু এবছরই প্রথমবারের মতো এত বড় লোকসানের মুখে পড়েছেন। তার ভাষ্য, ফিডসহ সব ধরনের খাবারের দাম বেড়েছে, অথচ ডিমের ন্যায্য মূল্য মিলছে না। এভাবে চলতে থাকলে খামার টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
একই ইউনিয়নের ইন্দ্রাসন গ্রামের খামারী আলা উদ্দিন বলেন, তার খামারে ৭শ হাঁস রয়েছে। আগে এর মধ্যে প্রায় ৪শ হাঁস ডিম দিতো, এখন তা কমে ৩শ-তে নেমেছে। পর্যাপ্ত খাবার জোগান দিতে না পেরে দূরের হালতির বিল থেকে ছোট শামুক সংগ্রহ করে কোনোভাবে হাঁসগুলোকে খাওয়াতে হচ্ছে।
সরেজমিনে চলনবিল এলাকার বৃহত্তম হাঁসের ডিমের হাট চলনবিল-সংলগ্ন সিংড়া হাটে গিয়ে দেখা যায়, হ্যাচারির জন্য বড় ডিম বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১১ টাকা পিস দরে এবং ছোট ডিম বিক্রি হচ্ছে ৯ থেকে সাড়ে ৯ টাকা পিস দরে।
বগুড়া থেকে ডিম কিনতে আসা পাইকার মনতাজ মন্ডল জানান, বর্তমানে পোল্ট্রি মুরগির ডিমের আমদানি বেশি এবং দামও তুলনামূলক কম। এ কারণে হাঁসের ডিমের চাহিদা কমে গেছে। আগের মতো ডিম কিনে বাজারজাত করা যাচ্ছে না।
চলনবিল এলাকার ডিম আড়তদার মোঃ আলহাজ উদ্দিন বলেন, রমজান উপলক্ষে প্রতিবছরই পোল্ট্রি ডিমের সরবরাহ কিছুটা বেড়ে যায়। ফলে সাময়িকভাবে সব ধরনের ডিমের বাজারে প্রভাব পড়ে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, অল্প সময়ের মধ্যেই বাজার পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং ডিমের দাম আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে ধর্ষণ মামলায় কথিত কাজির সহকারী রয়েল গ্রেপ্তার

অর্ধেকে নেমেছে হাঁসের ডিমের দাম, বিপাকে রয়েছে হাঁস খামারিরা

Update Time : 03:34:39 pm, Sunday, 1 March 2026

মোঃইব্রাহিম আলী,সিংড়া(নাটোর)প্রতিনিধিঃ রমজানকে ঘিরে হঠাৎ করে হাঁসের ডিমের দাম অর্ধেকে নেমে আসায় বড় ধরনের লোকসানে পড়েছেন সিংড়া উপজেলা-র শতাধিক হাঁস খামারী। আগে যেখানে পাইকারি প্রতি পিস হাঁসের ডিম ১৫ থেকে ১৭ টাকায় বিক্রি হতো, সেখানে বর্তমানে তা কমে ৯ থেকে ১১ টাকায় নেমে এসেছে। এতে খামার পরিচালনা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা।
উপজেলার ইটালী ইউনিয়ন-এর কুমগ্রামের খামারী মোঃ আয়ুব আলী জানান, চলনবিলের সিংড়া-বারুহাস সড়কের ডুবো ব্রিজ সংলগ্ন স্থানে তার খামার রয়েছে। খামারের ১২শ হাঁসের মধ্যে প্রায় ৭শ হাঁস নিয়মিত ডিম দিতো। মাত্র সাত দিনের ব্যবধানে ডিমের দাম অর্ধেকে নেমে আসায় এখন ৭শ ডিম বিক্রি করেও ১২শ হাঁসের খাবার জোগান দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এতে প্রতিদিনই লোকসান গুনতে হচ্ছে তাকে।
উপজেলার ডাহিয়া ইউনিয়ন-এর আয়েশ গ্রামের খামারী বাচ্চু মিয়া জানান, প্রায় ২৭ বছর ধরে হাঁসের খামার করে আসছেন তিনি। কিন্তু এবছরই প্রথমবারের মতো এত বড় লোকসানের মুখে পড়েছেন। তার ভাষ্য, ফিডসহ সব ধরনের খাবারের দাম বেড়েছে, অথচ ডিমের ন্যায্য মূল্য মিলছে না। এভাবে চলতে থাকলে খামার টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
একই ইউনিয়নের ইন্দ্রাসন গ্রামের খামারী আলা উদ্দিন বলেন, তার খামারে ৭শ হাঁস রয়েছে। আগে এর মধ্যে প্রায় ৪শ হাঁস ডিম দিতো, এখন তা কমে ৩শ-তে নেমেছে। পর্যাপ্ত খাবার জোগান দিতে না পেরে দূরের হালতির বিল থেকে ছোট শামুক সংগ্রহ করে কোনোভাবে হাঁসগুলোকে খাওয়াতে হচ্ছে।
সরেজমিনে চলনবিল এলাকার বৃহত্তম হাঁসের ডিমের হাট চলনবিল-সংলগ্ন সিংড়া হাটে গিয়ে দেখা যায়, হ্যাচারির জন্য বড় ডিম বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১১ টাকা পিস দরে এবং ছোট ডিম বিক্রি হচ্ছে ৯ থেকে সাড়ে ৯ টাকা পিস দরে।
বগুড়া থেকে ডিম কিনতে আসা পাইকার মনতাজ মন্ডল জানান, বর্তমানে পোল্ট্রি মুরগির ডিমের আমদানি বেশি এবং দামও তুলনামূলক কম। এ কারণে হাঁসের ডিমের চাহিদা কমে গেছে। আগের মতো ডিম কিনে বাজারজাত করা যাচ্ছে না।
চলনবিল এলাকার ডিম আড়তদার মোঃ আলহাজ উদ্দিন বলেন, রমজান উপলক্ষে প্রতিবছরই পোল্ট্রি ডিমের সরবরাহ কিছুটা বেড়ে যায়। ফলে সাময়িকভাবে সব ধরনের ডিমের বাজারে প্রভাব পড়ে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, অল্প সময়ের মধ্যেই বাজার পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং ডিমের দাম আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।