Dhaka 9:36 am, Sunday, 5 July 2026

নড়াইলে চাঁদা না দেওয়ায় দলিল লেখকের ওপর সন্ত্রাসী হামলা,নগদ ৯৭ হাজার টাকা লুট

নড়াইলে চাঁদা না দেওয়ায় দলিল লেখকের ওপর সন্ত্রাসী হামলা,নগদ ৯৭ হাজার টাকা লুট

মো তুহিন মোল্লা,নড়াইল জেলা প্রতিনিধি;

নড়াইলে চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর জেরে এক দলিল লেখককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে। তার কাছ থেকে প্রায় এক লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগও উঠেছে। ঘটনাটি ঘটে গত রবিবার (৫ অক্টোবর ২০২৫) বিকেলে নড়াইল পৌরসভার দুর্গাপুর এলাকায়, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে।
আহত দলিল লেখকের নাম মো. তরিকুল ইসলাম (৩৬)। তিনি নড়াইল সদর থানায় দুইজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও দুইজন অজ্ঞাত হামলাকারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, দলিল লেখক তরিকুল ইসলাম প্রতিদিনের মতো নড়াইল সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের বিপরীতে নিজের কার্যালয়ে কাজ করছিলেন। এর কয়েক দিন আগে স্থানীয় দুই ব্যক্তি আশিকুর রহমান (৩৪) ও আজিজুর রহমান (৩০) তাকে মাসিক চাঁদা দেয়ার জন্য চাপ দিতে শুরু করেন। কিন্তু তরিকুল ইসলাম চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।

পরবর্তীতে রবিবার বিকেল আনুমানিক ৩টা ৫০ মিনিটে, রেজিস্ট্রি অফিসসংলগ্ন এক চায়ের দোকানের সামনে তরিকুল ইসলামকে অবরুদ্ধ করে ফেলে আসামিরা। এ সময় আশিকুর রহমান সরাসরি ৫০ হাজার টাকা মাসিক চাঁদা দাবি করে এবং তাৎক্ষণিকভাবে নগদ ২০ হাজার টাকা দিতে বলেন।
তরিকুল ইসলাম টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তর্কাতর্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে আশিকুর রহমান উত্তেজিত হয়ে বলে ওঠেন, “শালাকে আজকে একা পাইছি, জানে শেষ করিয়া দে।”এরপর সে নিজের কাছে থাকা ধারালো ছুরি বের করে তরিকুল ইসলামের মাথার ডান পাশে কোপ দেয়। ২ নম্বর আসামি আজিজুর রহমান ও দুই অজ্ঞাত সহযোগী তখন তরিকুলকে চেপে ধরে রাখে।
হামলায় তরিকুল ইসলাম মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। কিন্তু তাতেও দমে যায়নি হামলাকারীরা আশিকুর রহমান তার ডান হাতের কনুই এবং পিঠের বাম পাশে আরও তিনটি কোপ মারেন। এতে তিনি মারাত্মকভাবে রক্তাক্ত হন।রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়া তরিকুল ইসলামকে আসামিরা এলোপাতাড়ি মারধর করে এবং মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে তার প্যান্টের পকেটে থাকা নগদ ৯৭ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। এরপর তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়।
ঘটনার সময় আশপাশে উপস্থিত ছিলেন কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি কাজী মোস্তাইন, হোসাইন মোহাম্মদ, কাজী সাহিদুল ইসলাম সোহেল এবং মো. ওদুত মোল্যা। তারা দ্রুত তরিকুল ইসলামকে উদ্ধার করে নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তরিকুল ইসলাম তার পরিবারের সঙ্গে পরামর্শ করে খালাতো ভাই কাজী মোস্তাইনের মাধ্যমে থানায় মামলা দায়ের করেন।

নড়াইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সাজেদুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, “ঘটনার পর থানায় একটি মামলা হয়েছে। মামলা নং–০৬, তারিখ–০৫/১০/২৫। বিষয়টি আমরা গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছি এবং আইনগতভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও জনবলের সংকট সাধারণ রোগীদের চরম ভোগান্তি। মোঃ শাহ্ আলম সরকার স্টাফ রিপোর্টার। গাজীপুর কালিয়াকৈর উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও জনবলের দীর্ঘদিনের নানা সংকট, হসপিটালে জেনারেটর না থাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় জরুরি চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হওয়া এক দালালচক্রের তৎপরতায় সাধারণ রোগীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন প্রতিদিন কয়েকশ রোগী চিকিৎসা সেবা নিতে এলেও সীমিত জনবল ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুবিধার অভাবে কাঙ্ক্ষিত সেবা মিলছে না বলে অভিযোগ করেছেন দূর দূরান্ত থেকে আসা রোগী ও স্বজনরা। ২ জুলাই রোজ বৃহস্পতিবার হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, বহির্বিভাগে সকাল থেকেই রোগীদের দীর্ঘ সারি হয়ে দাঁড়িয়ে আছে রোগীরা একজন চিকিৎসককে একাধিক বিভাগের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। ফলে রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। শিশু, বয়স্ক ও নারী রোগীদের অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে চিকিৎসকের সাক্ষাৎ মিলেনা। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৫০ শয্যার এ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের অনুমোদিত পদের মধ্যে বর্তমানে ১০টি পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া তৃতীয় শ্রেণির প্রায় ৪০ শতাংশ এবং চতুর্থ শ্রেণির প্রায় ৫০ শতাংশ পদ দীর্ঘদিন ধরে খালি রয়েছে। ফলে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। সবচেয়ে বড় সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থার অভাব। হাসপাতালে কোনো জেনারেটর না থাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলে জরুরি বিভাগ, নেবুলাইজার, অক্সিজেন সাপোর্টসহ বিদ্যুৎনির্ভর বিভিন্ন চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয়। অনেক সময় রোগীর স্বজনদের হাতপাখা দিয়ে রোগীদের বাতাস করতে দেখা যায়। এতে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়। রেহেনা আক্তার নামের এক রোগী বলেন, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। অনেক সময় প্রয়োজনীয় চিকিৎসক পাওয়া যায় না। পরে বাধ্য হয়ে বেসরকারি হাসপাতালে যেতে হয়। এতে আমাদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুল বাসেত বলেন, এত বড় উপজেলার একমাত্র সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক ও জনবল সংকট দীর্ঘদিনের। দ্রুত শূন্য পদে নিয়োগ একটি জেনারেটর স্থাপন করা না হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। এদিকে হাসপাতালকে দালালমুক্ত রাখতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ১ জুলাই থেকে হাসপাতালের ১০ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোনো দালালের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ.এইচ.এম. ফখরুল হোসেন বলেন, কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক, জনবল ও জেনারেটর সংকটের বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। শূন্য পদ পূরণ জেনারেটর বরাদ্দের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে জরুরি ভিত্তিতে চিঠি পাঠানো হবে। হাসপাতালের সেবায় কোনো ধরনের অনিয়ম, দালালচক্রের তৎপরতা বরদাশত করা হবে না। ইতোমধ্যে হাসপাতালের নিরাপত্তা ও দালাল নিয়ন্ত্রণে ১০ জন আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাদিয়া তাসনিম মুনমুন বলেন, চিকিৎসক ও জনবল সংকট সত্ত্বেও সীমিত জনবল নিয়ে হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে। শূন্য পদ পূরণ জেনারেটর বরাদ্দের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে প্রয়োজনীয় চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা আন্তরিকভাবে কাজ করছেন। হাসপাতালকে দালালমুক্ত রাখতে প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা গেছে, প্রতিদিন এ হাসপাতালে জরুরি প্রসূতি সেবা, নবজাতক ও শিশু চিকিৎসা, অক্সিজেন সাপোর্ট, টিকাদান, বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হয়। কিন্তু জনবল সংকট ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে সেবার মান ধরে রাখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

সত্য বলতে কলিজা লাগে কেউ রাগ কইরেন না

নড়াইলে চাঁদা না দেওয়ায় দলিল লেখকের ওপর সন্ত্রাসী হামলা,নগদ ৯৭ হাজার টাকা লুট

Update Time : 05:57:58 pm, Tuesday, 7 October 2025

নড়াইলে চাঁদা না দেওয়ায় দলিল লেখকের ওপর সন্ত্রাসী হামলা,নগদ ৯৭ হাজার টাকা লুট

মো তুহিন মোল্লা,নড়াইল জেলা প্রতিনিধি;

নড়াইলে চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর জেরে এক দলিল লেখককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে। তার কাছ থেকে প্রায় এক লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগও উঠেছে। ঘটনাটি ঘটে গত রবিবার (৫ অক্টোবর ২০২৫) বিকেলে নড়াইল পৌরসভার দুর্গাপুর এলাকায়, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে।
আহত দলিল লেখকের নাম মো. তরিকুল ইসলাম (৩৬)। তিনি নড়াইল সদর থানায় দুইজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও দুইজন অজ্ঞাত হামলাকারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, দলিল লেখক তরিকুল ইসলাম প্রতিদিনের মতো নড়াইল সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের বিপরীতে নিজের কার্যালয়ে কাজ করছিলেন। এর কয়েক দিন আগে স্থানীয় দুই ব্যক্তি আশিকুর রহমান (৩৪) ও আজিজুর রহমান (৩০) তাকে মাসিক চাঁদা দেয়ার জন্য চাপ দিতে শুরু করেন। কিন্তু তরিকুল ইসলাম চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।

পরবর্তীতে রবিবার বিকেল আনুমানিক ৩টা ৫০ মিনিটে, রেজিস্ট্রি অফিসসংলগ্ন এক চায়ের দোকানের সামনে তরিকুল ইসলামকে অবরুদ্ধ করে ফেলে আসামিরা। এ সময় আশিকুর রহমান সরাসরি ৫০ হাজার টাকা মাসিক চাঁদা দাবি করে এবং তাৎক্ষণিকভাবে নগদ ২০ হাজার টাকা দিতে বলেন।
তরিকুল ইসলাম টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তর্কাতর্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে আশিকুর রহমান উত্তেজিত হয়ে বলে ওঠেন, “শালাকে আজকে একা পাইছি, জানে শেষ করিয়া দে।”এরপর সে নিজের কাছে থাকা ধারালো ছুরি বের করে তরিকুল ইসলামের মাথার ডান পাশে কোপ দেয়। ২ নম্বর আসামি আজিজুর রহমান ও দুই অজ্ঞাত সহযোগী তখন তরিকুলকে চেপে ধরে রাখে।
হামলায় তরিকুল ইসলাম মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। কিন্তু তাতেও দমে যায়নি হামলাকারীরা আশিকুর রহমান তার ডান হাতের কনুই এবং পিঠের বাম পাশে আরও তিনটি কোপ মারেন। এতে তিনি মারাত্মকভাবে রক্তাক্ত হন।রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়া তরিকুল ইসলামকে আসামিরা এলোপাতাড়ি মারধর করে এবং মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে তার প্যান্টের পকেটে থাকা নগদ ৯৭ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। এরপর তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়।
ঘটনার সময় আশপাশে উপস্থিত ছিলেন কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি কাজী মোস্তাইন, হোসাইন মোহাম্মদ, কাজী সাহিদুল ইসলাম সোহেল এবং মো. ওদুত মোল্যা। তারা দ্রুত তরিকুল ইসলামকে উদ্ধার করে নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তরিকুল ইসলাম তার পরিবারের সঙ্গে পরামর্শ করে খালাতো ভাই কাজী মোস্তাইনের মাধ্যমে থানায় মামলা দায়ের করেন।

নড়াইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সাজেদুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, “ঘটনার পর থানায় একটি মামলা হয়েছে। মামলা নং–০৬, তারিখ–০৫/১০/২৫। বিষয়টি আমরা গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছি এবং আইনগতভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”